আমার 'গাঙচিল' যেন ভালোভাবে উড়তে পারে : প্রধানমন্ত্রী

প্রকাশ: ২৩ আগস্ট ২০১৯      

সমকাল ডেস্ক

আমার 'গাঙচিল' যেন ভালোভাবে উড়তে পারে : প্রধানমন্ত্রী

বৃহস্পতিবার 'গাঙচিল' উড়োজাহাজের উদ্বোধন শেষে পরিদর্শনের সময় যাত্রীর আসনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সঙ্গে ছিলেন ঢাকায় নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত রবার্ট মিলার ও বিমান প্রতিমন্ত্রী মাহবুব আলী : বাসস

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের নতুন বোয়িং ড্রিমলাইনার 'গাঙচিল' উদ্বোধন করে বলেছেন, নতুন উড়োজাহাজকে যেন ঠিকমতো কাজে লাগানো হয়। এ বিষয়ে যত্নশীল হতে রাষ্ট্রীয় বিমান সংস্থার কর্মকর্তা-কর্মচারীদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, 'আমার গাঙচিল যেন ভালোভাবে উড়তে পারে, সবাই যত্ন নেবেন।' এ সময় তিনি যাত্রীদের উন্নত সেবা নিশ্চিত করারও তাগিদ দেন।

গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে নতুন আসা বোয়িং ৭৮৭-৮ ড্রিমলাইনার উড়োজাহাজটি উদ্বোধন করেন তিনি। প্রধানমন্ত্রী ফিতা কেটে উদ্বোধনের পর উড়োজাহাজটি পরিদর্শন করেন। তিনি পাইলট এবং ক্রুদের সঙ্গেও কথা বলেন। খবর বাসস, ইউএনবি ও বিডিনিউজের।

আন্তরিকতা ও দেশপ্রেম নিয়ে কাজ করার জন্য বিমানের কর্মীদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, 'দেশ যদি উন্নত হয়, অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী হয়, দেশের উন্নয়ন যদি অব্যাহত থাকে, তাহলে সকলেই সুন্দর জীবন পাবেন, সুখীভাবে চলতে পারবেন।' তিনি বলেন, যে বিমানগুলো সরকার এনে দিচ্ছে, সেগুলো যথাযথভাবে সংরক্ষণ করা এর সঙ্গে সম্পৃক্ত সকলের দায়িত্ব। কারণ, এটা নিজের দেশ, নিজস্ব সম্পদ। সে কথা মনে রেখে কাজ করতে হবে।

বিমানের যাত্রীসেবার মানোন্নয়ন এবং সুনাম বৃদ্ধির প্রত্যাশা জানান প্রধানমন্ত্রী। এখন থেকে আর বিদেশি ঋণ না নিয়ে নিজেদের অর্থে উড়োজাহাজ কেনার সিদ্ধান্তের কথা জানান শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, 'আগে আমরা বিদেশ থেকে টাকা ধার করতাম। এখন আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি, আমাদের ব্যাংক থেকে লোন নিয়ে বিমান কিনব, যেন অন্যের কাছ থেকে আমাদের ধার নিতে না হয়। অর্থাৎ আমরা নিজের পায়ে দাঁড়াতে চাই।'

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আপাতত দুটি কার্গো উড়োজাহাজ কেনা হবে। আমদানি-রফতানি বৃদ্ধির জন্য কার্গো বিমান কেনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের রুট বাড়ানো নিয়ে তিনি বলেন, সরকার বোয়িং থেকে ১০টি উড়োজাহাজ কিনেছে। তবে এখনও আমেরিকা যাওয়া সম্ভব হচ্ছে না। খুব শিগগির এই সমস্যার সমাধান হবে বলে আশা প্রকাশ করেন সরকারপ্রধান। তিনি বলেন, যে বিমানগুলো কেনা হয়েছে, এগুলো সরাসরি আমেরিকা যাওয়ার সক্ষমতা রাখে। সরকার চেষ্টা করছে লন্ডনে আরও স্লট বৃদ্ধি করতে।

গাঙচিলের উদ্বোধন উপলক্ষে দেশ ও জাতির উন্নতি, সমৃদ্ধি এবং অগ্রগতি কামনা করে বিশেষ মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়। বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী মাহবুব আলী, সংশ্নিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সচিব মুহিবুল হক, বিমানের বোর্ড অব ডিরেক্টরসের চেয়ারম্যান এয়ার মার্শাল (অব.) মুহাম্মাদ এনামুল বারী অনুষ্ঠানে বক্তৃতা করেন। বিমানের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এবং সিইও ক্যাপ্টেন ফরহাত হাসান জামিল স্বাগত বক্তৃতা করেন। বাংলাদেশে যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত রবার্ট মিলারও অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।

এটা বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের বহরে যুক্ত তৃতীয় বোয়িং ড্রিমলাইনার। এই উড়োজাহাজের ২৭১টি আসনের মধ্যে বিজনেস ক্লাসের ২৪টি, বাকিগুলো ইকোনমি ক্লাসের। এই বিমানে যাত্রীরা আরামদায়ক ও স্বাচ্ছন্দ্যের সঙ্গে ভ্রমণ করতে পারবেন। অন্য বিমানের তুলনায় ২০ শতাংশ জ্বালানি-সাশ্রয়ী করে তৈরি করা হয়েছে এই উড়োজাহাজ। এটি ঘণ্টায় গড়ে ৬৫০ মাইল বেগে বিরতিহীনভাবে ১৬ ঘণ্টা উড়তে সক্ষম। অত্যাধুনিক বোয়িং ৭৮৭-৮ ড্রিমলাইনার সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে ৪৩ হাজার ফুট ওপর দিয়ে উড়ে যাওয়ার সময়ও ওয়াই-ফাই সুবিধা পাবেন যাত্রীরা। যাত্রীরা ইন্টারনেট ব্রাউজ করতে পারবেন এবং বিশ্বের যে কোনো প্রান্তে অবস্থিত বন্ধু-বান্ধব ও পরিবার-পরিজনের সঙ্গে যুক্ত হতে পারবেন।

বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স ২০০৮ সালে যুক্তরাষ্ট্রের উড়োজাহাজ নির্মাতা প্রতিষ্ঠান বোয়িংয়ের সঙ্গে ২১০ কোটি ডলারে ১০টি নতুন বিমান কেনার চুক্তি করে। এর মধ্যে চারটি ৭৭৭-৩০০ ইআর, দুটি ৭৩৭-৮০০ এবং চারটি ড্রিমলাইনার ৭৮৭-৮ উড়োজাহাজ।

গত ২৫ জুলাই সিয়াটল থেকে সরাসরি দেশে আসে গাঙচিল। 'রাজহংস' নামে চতুর্থ বোয়িং ৭৮৭ ড্রিমলাইনার ১২ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশে আসবে। সেটি এলে বাংলাদেশের মোট নিজস্ব উড়োজাহাজের সংখ্যা দাঁড়াবে ১০টিতে। আরও ছয়টি উড়োজাহাজ বিভিন্ন মেয়াদে ভাড়া নেওয়া আছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পছন্দে বিমানের ১০টি বোয়িং উড়োজাহাজের নাম রাখা হয়েছে। এগুলো হলো- পালকি, অরুণ আলো, আকাশ প্রদীপ, রাঙা প্রভাত, মেঘদূত, ময়ূরপঙ্খী, আকাশবীণা, হংসবলাকা, গাঙচিল ও রাজহংস।