মন্ত্রিসভায় এসএমই নীতিমালা অনুমোদন

উদ্যোক্তাদের সহায়তা দেবে সরকার

প্রকাশ: ১০ সেপ্টেম্বর ২০১৯      

সমকাল প্রতিবেদক

উদ্যোক্তাদের সহায়তা দেবে সরকার

সোমবার মন্ত্রিপরিষদের বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা - পিআইডি

এসএমই খাতের উদ্যোক্তাদের ঋণ এবং অন্যান্য সুবিধা সহজে দিতে প্রথমবারের মতো একটি নীতিমালার অনুমোদন করেছে সরকার। জাতীয় শিল্পনীতির আলোকে নীতিমালাটি তৈরি করা হয়েছে।

গতকাল সোমবার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে তেজগাঁওয়ে তার কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভা বৈঠকে 'এসএমই নীতিমালা ২০১৯' এর খসড়া অনুমোদন দেওয়া হয়। এ ছাড়া সভায় 'বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন করপোরেশন আইন, ২০১৯' এর খসড়া নীতিগত অনুমোদন দেওয়া হয়। বৈঠক শেষে সচিবালয়ে প্রেস ব্রিফিংয়ে মন্ত্রিপরিষদ সচিব মোহাম্মদ শফিউল আলম এসব তথ্য জানান।

মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, এসএমই নীতিমালা বাস্তবায়নের জন্য দুই ধরনের পরিষদ থাকবে। শিল্পমন্ত্রীর নেতৃত্বে ৩৭ সদস্যের পরিষদে  প্রতিমন্ত্রী সহসভাপতি, বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের সচিব, এসএমই ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান ও বেসরকারি খাতের পাঁচজন প্রতিনিধি থাকবেন। আর সচিবের নেতৃত্বে পরিষদে এসএমই ফাউন্ডেশনের ব্যবস্থাপনা পরিচালকসহ ২৯ জন সদস্য থাকবেন। নীতিমালাটি চলতি বছর থেকে শুরু হয়ে ২০২৪ সালের জুন পর্যন্ত কার্যকর থাকবে।

মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, এসএমইর বাইরে ক্ষুদ্র এবং কুটির শিল্পও যুক্ত করা হয়েছে। কুটির, ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প মিলে এসএমই। সারা পৃথিবীতে এভাবেই এসএমই গণ্য করা হয়। মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, ছয়টি উদ্দেশ্য সামনে রেখে নীতিমালা করা হচ্ছে। এসএমই উদ্যোক্তাদের অর্থপ্রাপ্তি, প্রযুক্তি ও উদ্ভাবন, বাজারে প্রবেশ, শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ, ব্যবসায় সহযোগিতা ও তথ্যের সুযোগ প্রাপ্তি।

তিনি জানান, এ খাতে প্রায় ৭৮ লাখ অতি ক্ষুদ্র, ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প প্রতিষ্ঠান রয়েছে। জিডিপিতে এ খাতের অবদান প্রায় ২৫ শতাংশ। নীতিমালায় বাস্তবায়ন কৌশল সম্পর্কে বলা হয়েছে, কৌশলগত অর্থায়ন সুবিধা প্রাপ্তিতে এসএমই খাতের সুযোগ বৃদ্ধি করা, এসএমই খাতে ঋণপ্রবাহ বৃদ্ধি করা, অর্থায়নের ব্যবস্থা করা, এসএমই ক্রেডিট গ্যারান্টি ফান্ড চালু করা। এই ফান্ড চালু হলে মর্টগেজ (বন্ধক ব্যবস্থা) থাকবে না, অর্থপ্রাপ্তি সহজ হবে। এতে সহজ শর্ত ও স্বল্প সুদে ঋণ দেওয়ার কথা বলা হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, নীতিমালায় নতুন ব্যবসা প্রতিষ্ঠান চালুতে সহায়তা করা ও অনলাইন বা ডিজিটাল ব্যবস্থা চালুর মাধ্যমে স্টার্টআপ প্রক্রিয়া সহজ করা হবে। তথ্যপ্রযুক্তির ব্যবহার নিয়ে ই-কমার্স, অনলাইন সাপোর্ট, আউট সোর্সিং ও আইটিভিত্তিক অ্যাপ্লিকেশনের মাধ্যমে এসএমই খাতে সহায়তা দেওয়ার কথা বলা হয়েছে।

মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, নারী উদ্যোক্তাদের জন্য বিশেষ সুবিধা দেওয়া হবে। তাদের সক্ষমতা ও দক্ষতা বৃদ্ধির জন্য প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা, ঋণ দেওয়া, তহবিল গঠন, প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা বৃদ্ধি, উদ্বুব্ধকরণ এবং বাজার সংযোগে সুযোগ বৃদ্ধি করা হবে। এসব টেকসই করার জন্য জন্য ফরওয়ার্ড ও ব্যাকওয়ার্ড লিংকেজের ব্যবস্থা করা হবে। এসএমই তথ্যভাণ্ডার তৈরি, পরিবেশবান্ধব শিল্প প্রতিষ্ঠায় এসএমই উদ্যোক্তাদের উৎসাহিতকরণ, শিল্প বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় প্রণোদনা দেওয়া, পরিবেশবান্ধব শিল্প প্রযুক্তির উন্নয়ন এবং ব্যবহার বৃদ্ধির কথাও বলা হয়েছে।

বাংলাদেশের উন্নয়নে দীর্ঘমেয়াদি সহায়তার আশ্বাস জাপানের : বাংলাদেশের সার্বিক উন্নয়নে জাপান দীর্ঘমেয়াদি সহায়তা দেবে বলে আশ্বস্ত করেছেন ঢাকায় নিযুক্ত দেশটির রাষ্ট্রদূত হিরোইয়াসু ইজুমি। গতকাল সোমবার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে তার জাতীয় সংসদ কার্যালয়ে বিদায়ী সাক্ষাৎকালে রাষ্ট্রদূত এ কথা জানান।

বাসস জানায়, সাক্ষাৎ শেষে প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব ইহসানুল করিম এ ব্যাপারে সাংবাদিকদের ব্রিফ করেন।

প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশের উন্নয়নে জাপানের সহায়তার প্রশংসা করে বলেন, স্বাধীনতার পর থেকে জাপান দেশের অর্থনীতির উন্নয়নে সমর্থন দিয়ে যাচ্ছে। তিনি মেট্রোরেল, মাতারবাড়ি পাওয়ার প্ল্যান্ট ও হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনাল নির্মাণে জাপানের সহায়তার বিশেষ প্রশংসা করেন। প্রেস সচিব বলেন, জাপানের প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে রাষ্ট্রদূত তার দেশ সফরে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে আমন্ত্রণ জানান। শেখ হাসিনা রাষ্ট্রদূতের মাধ্যমে জাপানের প্রধানমন্ত্রীকে শুভেচ্ছা জানান। এ সময় প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সচিব সাজ্জাদুল হাসান উপস্থিত ছিলেন।

বিআইডব্লিউটিসির মূলধন হবে ৫০০ কোটি টাকা : মন্ত্রিপরিষদ সচিব জানান, সভায় 'বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন করপোরেশন আইন, ২০১৯' এর খসড়ার নীতিগত অনুমোদন দেওয়া হয়। আইনে বিআইডব্লিউটিসির অনুমোদিত মূলধন আগে ছিল মাত্র ৫ কোটি টাকা। এখন অনুমোদিত মূলধন হবে ৫০০ কোটি টাকা। পরিশোধিত মূলধনের ব্যাপারে সরকার জোগান দিয়ে ৫০০ কোটি টাকায় উন্নীত করবে।

তিনি বলেন, আগের মতোই সরকার পরিচালনা পরিষদের নিয়োগ দেবে। আগে পরিষদের একজন চেয়ারম্যান ও ৪ জন পরিচালক ছিল। এখন একজন চেয়ারম্যান ও ৪ জন পরিচালকের সঙ্গে আরেকজন খণ্ডকালীন পরিচালক যুক্ত হবেন।

প্রতি বছর ৪ ডিসেম্বর জাতীয় বস্ত্র দিবস : প্রতি বছর ৪ ডিসেম্বর 'জাতীয় বস্ত্র দিবস' হিসেবে ঘোষণা এবং দিবসটি উদযাপন করবে সরকার। মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, বিষয়টি মন্ত্রিসভায় অনুমোদিত হয়েছে।

ড. নঈম চৌধুরীর মৃত্যুতে শোক :মন্ত্রিপরিষদ সচিব জানান, বিশিষ্ট পরমাণু বিজ্ঞানী ও বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. নঈম চৌধুরীর মৃত্যুতে সভার শুরুতেই গভীর শোক প্রকাশ করেছে মন্ত্রিসভা। গত শুক্রবার ঢাকার একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় নঈম চৌধুরী ইন্তেকাল করেন।