আগেই হ্যাক হয়েছিল বিপ্লবের ফেসবুক

প্রকাশ: ২১ অক্টোবর ২০১৯      

ভোলা প্রতিনিধি

সামাজিক যোগাযাগ মাধ্যম ফেসবুকে বিভ্রান্তিকর যে পোস্ট নিয়ে ভোলার বোরহানউদ্দিনে গতকাল রোববার তুলকালাম কাণ্ড ঘটে গেল, বিপ্লবের সেই আইডিটি আগেই হ্যাক হয়েছিল। শুক্রবারই ফেসবুক আইডি হ্যাকড হওয়ার কথা জানিয়ে শনিবার বিপ্লব বোরহানউদ্দিন থানায় সাধারণ ডায়েরিও (জিডি) করতে যান। এলাকাবাসীর উত্তেজনার পরিপ্রেক্ষিতে সেদিন জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পুলিশ বিপ্লবকে আটক করে রাখে বলে জানিয়েছেন বোরহানউদ্দিন থানার ওসি এনামুল হক। ধর্ম অবমাননার অভিযোগে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের বিপ্লব নামের ওই যুবকের বিচারের দাবিতে 'তৌহিদী জনতা'র ব্যানারে বিক্ষোভ মিছিল বের হলে পুলিশের সঙ্গে এলাকাবাসীর সংঘর্ষে গুলিবিদ্ধ হয়ে চারজন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় ১০ পুলিশসহ আহত হয়েছেন শতাধিক। অথচ পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও আলেম-ওলামাদের নিয়ে বসে ওই যুবকের অপরাধের সম্পৃক্ততার প্রমাণ পেলে বিচারের আশ্বাসও দিয়েছিলেন।

বিপ্লবের ফেসবুক আইডি হ্যাক হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করে বোরহানউদ্দিন থানার ওসি এনামুল হক বলেন, 'নিজের ফেসবুক আইডি হ্যাক হয়েছে দাবি করে বিপ্লব চন্দ্র বৈদ্য শনিবার রাত ৮টার দিকে থানায় জিডি করেন। জিডি নং-৪৪০। জিডি করার সময় থানায় অবস্থানকালেই বিপ্লবের নম্বরে একটি কল আসে এবং তার কাছে চাঁদা দাবি করা হয়। বিষয়টি তাৎক্ষণিকভাবে সে আমাকে জানায়। আমি বিষয়টি পুলিশ সুপারকে জানাই। তখন এলাকায় উত্তেজনাকর পরিস্থিতি বিবেচনায় বিপ্লবকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য এবং বিষয়টি তদন্তের জন্য থানা হেফাজতে রেখে দেওয়া হয়।'

ওসি আরও জানান, প্রযুক্তির সাহায্য নিয়ে সেদিন রাতেই বিপ্লবের ফেসবুক অ্যাকাউন্ট হ্যাককারী ও তার মোবাইল ফোনে কলকারী দুই যুবককে আটক করা হয়। তাদের মধ্যে শরীফ নামে একজনকে পটুয়াখালী থেকে এবং ইমন নামে অপর যুবককে বোরহানউদ্দিন থেকে আটক করা হয়। আটকের পর জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তাদের বোরহানউদ্দিন থানায় আনা হয়। তদন্তে নেমে দু'জনকে আটক করার পর পুলিশ বিপ্লবের কথার সত্যতা পেয়েছিল বলে জানান ওসি।

পুলিশের এ কর্মকর্তা আরও জানান, সে অনুযায়ী শনিবারই স্থানীয় আলেমদের সঙ্গে কথা বলে রোববারের (গতকাল) বিক্ষোভ সমাবেশের কর্মসূচি প্রত্যাহার করতে অনুরোধ করেছিলেন তারা। আলেমরা তখন সম্মতি দিলেও গতকাল সকালে ঠিকই সমাবেশ শুরু করা হয় এবং সেখান থেকে হঠাৎ করেই পুলিশের ওপর আক্রমণ চালানো হয়। তিনি বলেন, আমাদের অনুরোধে দুই ইমাম সকাল ১০টার দিকেই উপস্থিত লোকজনকে নিয়ে মোনাজাতের মাধ্যমে বিক্ষোভ মিছিলের সমাপ্তি ঘোষণা করেন। কিন্তু ততক্ষণে বিভিন্ন স্থান থেকে হাজার হাজার লোক এসে ঈদগাহ মাঠে জড়ো হন। তারা দুই ইমামের ওপর ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন এবং সেখানে থাকা পুলিশের ওপর চড়াও হন।