বোরহানউদ্দিনে 'তৌহিদী জনতা'-পুলিশ সংঘর্ষে নিহত ৪

বিভ্রান্তিকর তথ্য থেকে ভোলায় তুলকালাম

প্রকাশ: ২১ অক্টোবর ২০১৯      

নাসির লিটন, ভোলা

ফেসবুকে একটি বিভ্রান্তিকর পোস্টের সূত্র ধরে গতকাল রোববার তুলকালাম ঘটে গেছে ভোলার বোরহানউদ্দিনে। ধর্ম অবমাননার অভিযোগ তুলে সেখানে সংখ্যালঘু সম্প্র্রদায়ের এক যুবকের বিচারের দাবিতে 'তৌহিদী জনতা'র ব্যানারে বিক্ষোভ থেকে পুলিশের সঙ্গে এলাকাবাসীর ব্যাপক সংঘর্ষ বাধে। একপর্যায়ে পুলিশের গুলিতে এক কিশোরসহ চারজন নিহত হন। দফায় দফায় ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও সংঘর্ষে ১০ পুলিশ সদস্যসহ শতাধিক মানুষ আহত হয়েছেন। গতকাল সকাল ১১টার দিকে উপজেলা সদরের বোরহানউদ্দিন মাধ্যমিক বিদ্যালয় এলাকায় এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। সংঘর্ষ চলাকালে উত্তেজিত জনতা বোরহানউদ্দিন বাজারে ভাওয়ালবাড়ির একটি মন্দির ও সাতটি ঘর ভাঙচুর করে।

নিহতরা হলেন- বোরহানউদ্দিন উপজেলার মহিউদ্দিন পাটওয়ারীর ছেলে স্থানীয় মাদ্রাসাছাত্র মাহবুব পাটওয়ারী (১৪), উপজেলার কচিয়া ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের দেলোয়ার হোসেনের ছেলে পলিটেকনিকের ছাত্র মো. শাহিন, বোরহানউদ্দিন পৌরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা মাহফুজ (৪৫) ও মনপুরা হাজিরহাট এলাকার বাসিন্দা মিজানুর রহমান (৪০)। আহতদের বোরহানউদ্দিন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, ভোলা সদর হাসপাতাল ও বরিশাল শেরেবাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

এদিকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গুজব রটনাকারীদের বিরুদ্ধে হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে ভোলা ইস্যুতে আর কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা  এড়াতে ধৈর্য ধারণ ও গুজবে কান না দিতে দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। যুবলীগের কাউন্সিলের প্রাক্কালে সংগঠনের ৩৪ সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল গতকাল গণভবনে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করে। সেখানে প্রধানমন্ত্রী এই হুঁশিয়ারি দেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, একটি মহল অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টির লক্ষ্যে ফেসবুক ব্যবহার করে অপপ্রচার চালাচ্ছে।

বিপ্লব চন্দ্র শুভ নামের সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের এক যুবকের ফেসবুক থেকে হজরত মুহাম্মদ (সা.)-কে নিয়ে কটূক্তির একটি স্ট্ক্রিনশট ভাইরাল হলে দু'দিন ধরে এলাকায় উত্তেজনা দেখা দেয়। পুলিশ বলছে, বিপ্লব নামের ওই যুবকের হ্যাক হওয়া আইডি থেকে ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত হানার বক্তব্য ছড়ানোর ঘটনা থেকে এমন পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে। এর আগেও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ধর্ম অবমাননার গুজব ছড়িয়ে দেশের বিভিন্ন জায়গায় সংখ্যালঘুদের ওপর হামলার নজির রয়েছে। ২০১২ সালের ২৯ সেপ্টেম্বর রাতে কক্সবাজার জেলার রামুতে হামলা চালিয়ে লুটপাটসহ ১২টি বৌদ্ধমন্দির ও ৩০টি বাড়িতে আগুন দেওয়া হয়। ২০১৬ সালে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগরে রসরাজ নামে এক মৎস্যজীবীর বিরুদ্ধে একই অভিযোগ এনে লোকজনকে খেপিয়ে তুলে ঘরবাড়ি ও মন্দিরে হামলা চালানো হয়।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, উপজেলার কাচিয়া ইউনিয়নের বাসিন্দা বিপ্লবের ফেসবুক পোস্টকে কেন্দ্র করে উপজেলাজুড়ে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। নিজের ফেসবুক হ্যাকড হয়েছে জানিয়ে শনিবার থানায় জিডি করতে গেলে ওই যুবককে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করে পুলিশ। ওই যুবকের বিচার চেয়ে 'তৌহিদী জনতা'র ব্যানারে গতকাল স্থানীয় ঈদগাহ মাঠে বিক্ষোভ সমাবেশের ডাক দেওয়া হয়। সমাবেশের জন্য পুলিশ অনুমতি দেওয়ার আগে থেকেই তারা মাইকিং করে। কিন্তু সমাবেশের জন্য পুলিশ অনুমতি না দিলেও সকাল ৯টা থেকে লোকজন মাঠে জড়ো হতে থাকে।

মিছিল করতে না পেরে সেখানেই অবস্থান নেয় তারা। পরে পুলিশ 'বাটামারা পীর সাহেব' মাওলানা মহিবুল্লাহকে সেখান থেকে সরে যাওয়ার অনুরোধ করে এবং তাকে ঈদগাহ জামে মসজিদের দোতলায় নিয়ে যায়। ওই সময় গুঞ্জন ওঠে- মাওলানা মহিবুল্লাহকে পুলিশ আটক করেছে। এ গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়ার সঙ্গে সঙ্গে সেখানে উত্তেজনা দেখা দেয়।

পুলিশ জানায়, সকালের দিকে 'তৌহিদী জনতা'র ব্যানারে বিক্ষোভ মিছিল হয়। বিক্ষোভ মিছিলটি না করতে বোরহানউদ্দিন ঈদগাহ মসজিদের ইমাম মাওলানা জালাল উদ্দিন, বাজার মসজিদের ইমাম মাওলানা মিজানকে পুলিশ অনুরোধ জানায় এবং সাধারণ মানুষ আসার আগে বিক্ষোভটি বন্ধ ঘোষণা করতে বলে। তাদের অনুরোধে দুই ইমাম সকাল ১০টার দিকেই সেখানে সমবেত লোকজনকে নিয়ে দোয়া-মোনাজাতের মাধ্যমে বিক্ষোভ মিছিল সমাপ্ত করেন। কিন্তু ততক্ষণে বোরহানউদ্দিনের বিভিন্ন গ্রাম থেকে হাজার হাজার লোক এসে ঈদগাহে জড়ো হয়। একপর্যায়ে তারা ওই দুই ইমামের ওপর ক্ষিপ্ত হয় এবং সেখানে থাকা পুলিশের ওপরও চড়াও হয়। অবস্থা বেগতিক দেখে পুলিশ মসজিদে ইমামের কক্ষে আশ্রয় নেয়। উত্তেজিত জনতা পুলিশকে লক্ষ্য করে ইটপাটকেল নিক্ষেপ ও মসজিদের দরজা-জানালা ভেঙে ভেতরে ঢোকার চেষ্টা করে। পরে পুলিশ আত্মরক্ষার্থে তাদের লক্ষ্য করে ফাঁকা গুলি ছোড়ে। এর পরপরই সংঘর্ষ ব্যাপক আকার ধারণ করে। ঘণ্টাব্যাপী সংঘর্ষ, ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ায় উপজেলা সদর রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। ইটপাটকেল নিক্ষেপের পাশাপাশি টিয়ার গ্যাসের শেল ও গুলির ব্যাপক শব্দ শোনা যায়। ঘটনার পর থেকেই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও ভোলা সদর হাসপাতালে আহতদের ঢল নামে। সেখানে মারা যান চারজন। অবস্থার অবনতি হওয়ায় আহত ২৭ জনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য বরিশাল শেরেবাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। জনতার ইটপাটকেল নিক্ষেপে ১০ পুলিশ সদস্যও আহত হয়েছেন। আরফি নামের এক পুলিশ কনস্টেবল বুকে গুলিবিদ্ধ হয়েছেন বলে জানিয়েছেন পুলিশ সুপার সরকার মোহাম্মদ কায়সার। তাকে হেলিকপ্টারে করে ঢাকায় পাঠানো হয়েছে।

ভোলা সদর হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসক তৈয়বুর রহমান জানিয়েছেন, মাহবুব পাটওয়ারী ও শাহিন নামের দু'জনকে মৃত অবস্থায় হাসপাতালে আনা হয়। মাহবুব পাটওয়ারী উপজেলার কাচিয়া এলাকার স্থানীয় একটি নূরানি মাদ্রাসার ছাত্র। আর শাহিন বোরহানউদ্দিন পলিটেকনিকের ছাত্র। অন্যদিকে, বোরহানউদ্দিন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল অফিসার ডা. লিমন জানিয়েছেন, চিকিৎসাধীন অবস্থায় ওই হাসপাতালে মিজান ও মাহফুজ নামের দু'জনের মৃত্যু হয়।

ভোলার সিভিল সার্জন ডা. রথীন্দ্রনাথ মজুমদার জানিয়েছেন, আহতদের চিকিৎসায় সর্বোচ্চ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। অবস্থার বিবেচনায় কয়েকজনকে বরিশাল পাঠানো হচ্ছে।

ঘটনার পরপরই বরিশাল রেঞ্জের ডিআইজি, জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মাসুদ আলম ছিদ্দিক ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। দুপুরের পর থেকে এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। সেখানে বিপুলসংখ্যক বিজিবি, র‌্যাব, পুলিশ ও কোস্ট গার্ডের সদস্য মোতায়েন রয়েছেন বলে জানিয়েছেন বোরহানউদ্দিন থানার ওসি এনামুল হক।

পুলিশ সুপার সরকার মোহাম্মদ কায়সার বলেন, 'বিপ্লব চন্দ্র শুভ নামের একজনের আইডি হ্যাকড করা নিয়ে এ ঘটনা ঘটেছে। হ্যাকডে যারা জড়িত, সন্দেহজনক এমন কয়েকজনকে পুলিশ আটক করেছে। শনিবার বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও ইমামদের সঙ্গে বৈঠক করেছিলাম। বৈঠকে তারা আশ্বস্ত করেছিলেন, আজ (রোববার) প্রোগ্রাম হবে না। কিন্তু সকাল থেকে জানতে পারলাম, মাইক এনে মঞ্চ বানাচ্ছে। পরে পুলিশ মোতায়েন করি এবং আমি ঘটনাস্থলে আসি। শুরুতে পরিস্থিতি শান্তিপূর্ণ ছিল। আমি কথা বলার পর সবাই চলে যাবে বলেছিল। মঞ্চ থেকে নেমে চলে যাওয়ার সময় উত্তেজিত জনতা আমাদের ওপর ইটপাটকেল নিক্ষেপ করতে থাকে। তখন আমরা ঈদগাহ মাঠ-সংলগ্ন মসজিদের দোতলায় অবস্থান নিই। ওইখানে আক্রমণ করে দরজা-জানালা ভেঙে ফেললে আত্মরক্ষার্থে শটগানের ফাঁকা গুলি করি।'

উপজেলা চেয়ারম্যান আবুল কালাম বলেন, 'সমাবেশ শুরু হওয়ার কথা ছিল সকাল ১১টায়। কিন্তু আয়োজকরা সাড়ে ১০টার মধ্যে সমাবেশ শেষ করে দিলে অংশ নিতে আসা জনতা ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে। আমি পৌনে ১১টার দিকে পৌঁছে দেখি, তখনও বড় বড় মিছিল নিয়ে অনেকে সমাবেশে অংশ নিতে আসছিল। সমাবেশে উপস্থিত লোকজন পুলিশের দিকে ঢিল ছুড়ছিল।'

এদিকে, সন্ধ্যায় বোরহানউদ্দিন থানায় প্রেস ব্রিফিংয়ে বরিশাল রেঞ্জের ডিআইজি শফিকুর ইসলাম বলেন, বহিরাগতদের নিয়ে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে একটি পক্ষ এমন ঘটনা ঘটিয়েছে। সমাবেশের শেষ পর্যায়ে হঠাৎ হামলা করা হয়। মসজিদ অবমাননা করা হয়। পুলিশের এক সদস্যকে গুলি করা হয়েছে। তাকে ঢাকার সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

বরিশালের বিভাগীয় কমিশনার ইয়ামিন চৌধুরী বলেন, এ ঘটনায় তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি করা হয়েছে। সহিংসতার ঘটনায় পুলিশ কাউকে আটক করেনি। তবে মামলার প্রস্তুতি চলছে বলে জানান তিনি।

দু'জনের মাথা থেঁতলানো ছিল : বোরহানউদ্দিন উপজেলায় পুলিশ-জনতা সংঘর্ষের ঘটনায় নিহত চারজনের মধ্যে অন্তত দু'জনের মাথা ভোঁতা অস্ত্র দিয়ে থেঁতলানো ছিল বলে নিশ্চিত করেছেন কর্তব্যরত চিকিৎসক। পুলিশ সদর দপ্তরের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ কথা জানানো হয়। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সমাবেশ বাতিলের ঘোষণা সত্ত্বেও পুলিশ সার্বক্ষণিক সতর্ক ছিল। পরদিন সকাল থেকেই কিছু লোক ঈদগাহ ময়দানে সমবেত হতে থাকে। ময়দানের বিভিন্ন পয়েন্টে বসানোর জন্য ১৭টি মাইক আনে একটি মহল। যে কোনো অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে পুলিশ মোতায়েন করা হয়। সমবেত লোকজনকে সরিয়ে নিতে বললে উপস্থিত আলেমরা নিশ্চিত করেন, লোকজন কোনো রকম বিশৃঙ্খলা করবে না। ইতিমধ্যেই এই পরিস্থিতির গুরুত্ব বিবেচনায় এবং যে কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা এড়াতে স্থানীয় পুলিশকে সহায়তা দিতে সকালেই বরিশাল থেকে রেঞ্জ পুলিশের অতিরিক্ত ডিআইজি ভোলায় আসেন। অতিরিক্ত ডিআইজি ও ইউএনওকে নিয়ে পুলিশ সুপার ঘটনাস্থলে এসে উপস্থিত জনগণের উদ্দেশে বক্তব্য দেন। ঘটনার বিস্তারিত বর্ণনা করে প্রয়োজনীয় সব আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করার বিষয়ে তাদের বার বার আশ্বস্ত করেন। তাদের কথায় আশ্বস্ত হয়ে সমবেত লোকজন ঈদগাহ ময়দান ত্যাগ করেন। উপস্থিত জনগণের উদ্দেশে বক্তব্য শেষে পুলিশ সুপার ও অতিরিক্ত ডিআইজিসহ অন্যান্য কর্মকর্তা মাদ্রাসার একটি কক্ষে অবস্থান নেন। এরই মধ্যে অন্য একটি গ্রুপ ঈদগাহ ময়দানে প্রবেশ করে সাধারণ ধর্মপ্রাণ মানুষকে উত্তেজিত করতে থাকে। তারপর হঠাৎ একদল লোক বিনা উস্কানিতে মাদ্রাসার অফিস কক্ষে অবস্থানরত কর্মকর্তাদের ওপর আক্রমণ চালায়। একদল আগ্নেয়াস্ত্র সজ্জিত হয়ে পুলিশ ও অন্য কর্মকর্তাদের ওপর আক্রমণ চালায়। আক্রমণকারীদের গুলিতে পুলিশের একজন গুরুতর জখম হন। গুরুতর আহত হন পুলিশের আরেক সদস্য। বরিশাল রেঞ্জের অতিরিক্ত ডিআইজিও আহত হন। এ পরিস্থিতিতে ইউএনও ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের নির্দেশে আত্মরক্ষার্থে, সরকারি জানমাল রক্ষা ও উত্তেজিত লোকজনকে নিবৃত্ত করতে প্রথমে টিয়ার শেল নিক্ষেপ ও পরে শটগান চালায় পুলিশ। পরবর্তী সময়ে পরিস্থিতির ভয়াবহতায় ম্যাজিস্ট্রেটের নির্দেশে একপর্যায়ে পুলিশ গুলি চালাতে বাধ্য হয়। আক্রমণকারীদের গুলিতে গুরুতর আহত পুলিশ সদস্যকে উন্নত চিকিৎসার জন্য সিএমএইচে স্থানান্তর করা হয়েছে।

পুলিশের দাবি, 'সার্বিক ঘটনা পর্যালোচনায় এটি স্পষ্ট যে পুলিশ ঘটনার প্রকৃত রহস্য উদঘাটনে শুরু থেকে তৎপর থাকা সত্ত্বেও এবং আলেম সমাজ পুলিশ কর্তৃক গৃহীত ব্যবস্থার প্রতি আস্থা রেখে কর্মসূচি স্থগিত করলেও কোনো একটি স্বার্থান্বেষী মহল ধর্মকে পুঁজি করে একটি সামাজিক অস্থিরতা তৈরির অপপ্রয়াস চালিয়েছে। বর্তমানে পরিস্থিতি সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। ঘটনাস্থলসহ সারাদেশে পুলিশ সতর্ক রয়েছে।' পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে পুলিশসহ সাধারণ মানুষের হতাহত হওয়ার ঘটনায় সমবেদনা জানিয়েছে বাংলাদেশ পুলিশ।

পুলিশের বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তে ডিআইজি বরিশাল রেঞ্জকে প্রধান করে পাঁচ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। এ কমিটিতে পুলিশ হেডকোয়ার্টার, এসবি, পিবিআই এবং জেলা পুলিশ থেকে একজন করে মোট চার কর্মকর্তা সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন। কমিটিকে সাত কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দাখিল করতে বলা হয়েছে।'

বরিশালে ইসলামী আন্দোলনের বিক্ষোভ :বরিশাল ব্যুরো জানায়, বোরহানউদ্দিনে পুলিশের গুলিতে নিহতের ঘটনায় বরিশালে বিক্ষোভ করেছে চরমোনাই পীরের দল ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের নেতাকর্মীরা। ছাত্র সংগঠন ইসলামী শাসনতন্ত্র ছাত্র আন্দোলনের ব্যানারে বিক্ষোভের আয়োজন করা হলেও দলটির সর্বস্তরের নেতাকর্মী অংশ নেন। বিকেলে নগরীর অশ্বিনী কুমার হল থেকে মিছিল শুরু হয়ে বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে। এ সময় তারা 'ইসকন' নিষিদ্ধের দাবি জানিয়ে স্লোগান দেন।

বিভিন্ন ঘটনায় ধর্মভিত্তিক দলের নিন্দা :বোরহানউদ্দিনে পুলিশের গুলিতে চারজনের মৃত্যুর ঘটনায় নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে বিভিন্ন ধর্মভিত্তিক দল। দলগুলো এ ঘটনার তদন্ত ও দায়ীদের বিচার দাবি করেছে। জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদ গতকাল বিবৃতিতে বলেছেন, বাংলাদেশ সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির দেশ। মুসলমানদের ধর্মীয় আবেগ-অনুভূতিতে আঘাত করে সম্প্রীতি বিনষ্টের ষড়যন্ত্র হচ্ছে। পৃথক বিবৃতিতে ছাত্রশিবিরও ঘটনার নিন্দা করে দায়ীদের শাস্তি দাবি করেছে।

ভোলায় চারজনের মৃত্যুর ঘটনার প্রতিবাদে আজ সোমবার রাজধানীতে বিক্ষোভের ডাক দিয়েছে চরমোনাই পীরের নেতৃত্বাধীন ইসলামী আন্দোলন।

ভোলায় হতাহতের ঘটনার প্রতিবাদে গতকাল বিকেলে বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের উত্তর গেটে বিক্ষোভ মিছিল করে খেলাফত মজলিস, জমিয়তে উলামায়ে ইসলামসহ কয়েকটি ধর্মভিত্তিক সংগঠন।