সংবাদ সম্মেলনে বাণিজ্যমন্ত্রী

পেঁয়াজের দাম বেশি বাড়িয়েছে অসাধু ব্যবসায়ীরা

প্রকাশ: ২০ নভেম্বর ২০১৯

সমকাল প্রতিবেদক

বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি বলেছেন, কিছু অসাধু ব্যবসায়ী পরিস্থিতির সুযোগ নেওয়ায় পেঁয়াজের দাম বাস্তবের তুলনায় বেশি বেড়েছে। পণ্যটির দাম যত বেড়েছে, সব ব্যবসায়ী সহযোগিতা করলে এতটা নাও বাড়তে পারত। এ ছাড়া ভারত রপ্তানি নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার আশ্বাস দিয়েও তা রক্ষা না করায় বাংলাদেশের বাজার প্রভাবিত হয়েছে।

গতকাল মঙ্গলবার এক সংবাদ সম্মেলনে বাণিজ্যমন্ত্রী এসব কথা বলেন। গত সপ্তাহে দেশের বাজারগুলোতে প্রতি কেজি পেঁয়াজের দাম ২৫০ টাকায় ওঠে। কোনো কোনো বাজারে ২৮০ টাকায় বেচাকেনা হয়। ওই সময় বাণিজ্যমন্ত্রী সরকারি সফরে অস্ট্রেলিয়া ছিলেন। গতকাল দুপুরে দেশে ফিরে বিকেলে মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে সংবাদ সম্মেলন করেন। এ সময় বাণিজ্য সচিব ড. মো. জাফর উদ্দীন, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব ওবায়দুল আজম, জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক বাবুল কুমার সাহা উপস্থিত ছিলেন।

টিপু মুনশি বলেন, মিসর থেকে যাত্রীবাহী বিমানে যে পেঁয়াজ আনা হচ্ছে, তা আজ রাতে এবং কার্গো বিমানে যে পেঁয়াজ আনা হচ্ছে তা আগামীকাল রাতে দেশে পৌঁছাবে। বিমানে আমদানি করা সব পেঁয়াজ টিসিবির মাধ্যমে সারাদেশে বিক্রি করা হবে। ২১ নভেম্বরের পর থেকে বেশ কিছুদিন ধরে প্রতিদিন একটি করে কার্গো বিমানভর্তি পেঁয়াজ আসবে। যার কিছু রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থা টিসিবির কেনা আর কিছু বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কেনা। বাণিজ্যমন্ত্রী জানান, সরকারের লক্ষ্য মোট ৫০ হাজার টন পেঁয়াজ বিমানে আমদানি করা। এ জন্য দশটি চার্টার ফ্লাইট ভাড়া করা হয়েছে। এ ছাড়া সমুদ্রপথে ১২ হাজার টন পেঁয়াজ বাংলাদেশের বন্দর অভিমুখে রয়েছে। ২৫ নভেম্বর চট্টগ্রাম বন্দরে পৌঁছাবে বলে আশা করা হচ্ছে। এদিকে দেশের বিভিন্ন জেলায় মুড়িকাটা পেঁয়াজ বাজারে আসতে শুরু করেছে। ফলে আগামী ৭-৮ দিনের মধ্যে পেঁয়াজের বাজার আরও স্বাভাবিক হবে। এ সময় তিনি সাংবাদিকদের সহায়তা চেয়ে বলেন, 'পেঁয়াজ নিয়ে বিপদে আছি। সাহায্য করুন। সঠিক তথ্য প্রচার করবেন, যাতে মানুষ সঠিক তথ্য পায়।'

অনুষ্ঠানে বাণিজ্য সচিব ঢাকা মহানগর, চট্টগ্রাম, ফরিদপুর, পাবনা, রাজবাড়ী, নীলফামারী ও রংপুরের বাজারে গতকাল দেশি ও আমদানি করা পেঁয়াজ পাইকারি এবং খুচরা কী দামে বেচাকেনা হয়েছে তা তুলে ধরেন। তাতে ১০৩ টাকা থেকে সর্বোচ্চ ১৬০ টাকা পর্যন্ত পাইকারি এবং ১১০ টাকা থেকে ১৭০ টাকা পর্যন্ত খুচরা দরে পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে বলে জানান। বাণিজ্য সচিব আরও জানান, যে পেঁয়াজ ১৯ নভেম্বর আসার কথা ছিল সেটি সৌদি এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটে আজ ২০ নভেম্বর রাতে পৌঁছাবে। এরপর কার্গো বিমানের প্রথম ফ্লাইট আসবে ২১ নভেম্বর সন্ধ্যায়।

দেশে পেঁয়াজ উৎপাদন বাড়ানো ও সংরক্ষণে প্রকল্প :দেশে উৎপাদনের মাধ্যমেই যাতে পেঁয়াজের চাহিদা মেটানো যায় সেজন্য সরকার উদ্যোগ নিচ্ছে বলে জানিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী। এ জন্য কৃষকদের কম সুদে ঋণসহ বিভিন্ন প্রণোদনা দেওয়া হবে। একই সঙ্গে উৎপাদন মৌসুমে কৃষকরা যাতে ভালো দাম পান, সে জন্য আমদানি বন্ধ বা উচ্চ কর আরোপের চিন্তা করা হচ্ছে। এ সময় বাণিজ্য সচিব জানান, পেঁয়াজ সংরক্ষণে প্রধানমন্ত্রী উদ্যোগ নেওয়ার নির্দেশনা দিয়েছেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় একটি প্রকল্প নিয়েছে।

পরিবহন শ্রমিকদের ধর্মঘট প্রসঙ্গে :সড়ক আইন সংশোধনের দাবিতে দেশের বিভিন্ন জায়গায় পরিবহন শ্রমিকরা ধর্মঘট করছে। এতে পণ্য পরিবহন বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। ফলে পেঁয়াজসহ অন্যান্য পণ্যমূল্য আরও বাড়তে পারে। এ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সরকারের উদ্যোগ কী জানতে চাইলে টিপু মুনশি বলেন, বিষয়টি নিয়ে তিনিও চিন্তিত। এ জন্য সড়ক পরিবহনমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরের সঙ্গে আলোচনা করবেন বলে জানান তিনি।

লবণের গুজব :গতকাল দেশের বিভিন্ন বাজারে হঠাৎ করেই লবণের দাম বেড়ে যায়। এ বিষয়ে জানতে চাইলে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, সম্পূর্ণ গুজবের পরিপ্রেক্ষিতে এ অবস্থা সৃষ্টি করা হয়েছে। সরকারের হাতে সাড়ে ছয় লাখ টন লবণ রয়েছে। দেশের লবণ চাষিদের স্বার্থে লবণ আমদানি বন্ধও করা হয়েছে। যদিও বিষয়টি শিল্প মন্ত্রণালয় দেখে। এর পরও ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরকে বলা হয়েছে, যারা বেশি দামে লবণ বিক্রি করছে, তাদের বিরুদ্ধে অভিযান চালাতে। দরকার হলে জেল-জরিমানাও করা হবে।

আগামী কোরবানিতে চামড়া কিনবে টিসিবি :গত কোরবানিতে চামড়ার দাম পাননি কোরবানিদাতারা। এখন পেঁয়াজের দাম বেড়েছে। চালের দামও বেড়েছে। লবণ নিয়ে হৈচৈ শুরু হয়েছে। বার বার কেন এমন হচ্ছে জানতে চাইলে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, চামড়ার দর ব্যবসায়ীরা ঠিক করেন। ব্যবসায়ীরাই ঘোষণা দেন তারা কী দামে চামড়া কিনবেন। কিন্তু গত বছর চামড়া ব্যবসায়ীরা তাদের প্রতিশ্রুতি রাখেননি। এ জন্য সরকার সিদ্ধান্ত নিয়েছে আগামী বছর টিসিবি সরাসরি কোরবানিদাতাদের কাছ থেকে জেলায় জেলায় চামড়া কিনবে। এতে প্রধানমন্ত্রী অনুমোদন দিয়েছেন।