প্রথম স্বর্ণ এনে দিলেন দিপু চাকমা

প্রকাশ: ০৩ ডিসেম্বর ২০১৯      

সাখাওয়াত হোসেন জয়, কাঠমান্ডু থেকে

কাঠমান্ডুর সাদদোবাদোর সুইমিং কমপ্লেক্সের জিমনেশিয়ামে সবার দৃষ্টি ছিল কারাতের দিকে। সকাল সাড়ে ৯টায় এই কারাতে থেকে আসে প্রথম পদকের সংবাদ। মেয়েদের ব্যক্তিগত কাতায় ব্রোঞ্জ জেতেন হুমায়রা আক্তার অন্তরা। দুই ঘণ্টার ব্যবধানে বাংলাদেশের জন্য সবচেয়ে বড় আনন্দের সংবাদ আসে তায়কোয়ান্দো থেকে। সাদদোবাদের জিমনেশিয়ামের পাশেই ইন্টারন্যাশনাল স্পোর্টস কমপ্লেক্সে পুমসে ইভেন্টের ঊর্ধ্ব-৩০ ক্যাটাগরিতে ভারতের প্রতিদ্বন্দ্বীকে হারিয়ে সোনাঝরা হাসি দেন রাঙামাটির দিপু চাকমা। তার হাত ধরেই এবারের এসএ গেমস থেকে প্রথম স্বর্ণ জিতেছে বাংলাদেশ। আরও দুটি সোনার পদক আসতে পারত। আয়োজকরা পক্ষপাতিত্বমূলক আচরণ না করলে কারাতে থেকে মোস্তফা কামাল ও মাউঞ্জেরা বন্যার রুপাটি হতো স্বর্ণ। দক্ষিণ এশিয়ার অলিম্পিকখ্যাত  আসরের দ্বিতীয় দিনে মোট ১৬টি পদক জিতেছে বাংলাদেশ। একটি স্বর্ণ, ২টি রৌপ্য ও ১৩টি ব্রোঞ্জ এসেছে কারাতে ও তায়কোয়ান্দো থেকে। ৯টি স্বর্ণ জেতা নেপাল পদক তালিকার শীর্ষে আছে।

স্বর্ণ জিততে দিপু হারিয়েছেন শ্রীলংকা, ভারত, পাকিস্তান ও স্বাগতিক নেপালের প্রতিযোগীকে। সব মিলিয়ে তার মোট স্কোর হলো ১৬.২৪। ২০০১ সালে তায়কোয়ান্দোতে নাম লিখিয়েছিলেন দিপু চাকমা। কিন্তু মাঝে খেলাটি ছেড়ে দেন। ২০০৮ সালে আবারও ফিরে আসেন বাংলাদেশ সেনাবাহিনীতে সৈনিক হিসেবে কর্মরত রাঙামাটির এ অ্যাথলেট। দ্বিতীয়বার ফিরে আসার পরই আন্তর্জাতিক আসরে বাংলাদেশের লাল-সবুজের পতাকা ওড়ানোর স্বপ্ন দেখে আসছিলেন। সেই স্বপ্ন সোমবার সত্যি হলো। পোডিয়ামে বাজল বাংলাদেশের জাতীয় সংগীত। দিপুর গলায় সোনার মেডেল পরিয়ে দেন বাংলাদেশ অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশনের মহাসচিব সৈয়দ শাহেদ রেজা। পদক গলায় পরে সোনালি হাসি দেওয়া দিপু শোনালেন তার স্বপ্নপূরণের কথা, 'খুবই ভালো লাগছে। এক প্রকার ঘোরের মধ্যে আছি। বাংলাদেশকে প্রথম সোনা দিতে পেরে আমি গর্বিত। ১৩ বছর অনুশীলনের পর প্রথম এসএ গেমসে সোনা জিতলাম। এটা আমার জন্য বিশেষ কিছু।' দিপু চাকমার সাফল্যে ভীষণ খুশি বাংলাদেশ অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশনের (বিওএ) মহাসচিব সৈয়দ শাহেদ রেজা। তিনি বিওএর নিয়ম অনুযায়ী দিপুকে পুরস্কৃত করার ঘোষণা দেন।

দিপুর সাফল্যের রংয়ের দিনে আলোচিত মাউঞ্জেরা বন্যার কান্না। কারাতে নারী একক কুমিতে অনূর্ধ্ব-৫৫ কেজি ওজন শ্রেণিতে রৌপ্য জেতেন তিনি। স্বর্ণ জিততে না পারায় ২০১০ সালে ঢাকায় অনুষ্ঠিত এসএ গেমসে কারাতেতে এই ইভেন্টে স্বর্ণজয়ী বিপাশাকে ধরে কান্নায় ভেঙে পড়েন বন্যা। শুধু কী বন্যা কেঁদেছেন, কারাতেতে ব্রোঞ্জ জেতা মেয়েদের চোখ দিয়েও ঝরেছে অশ্রু। চমৎকার পারফরম্যান্সে উপস্থিত দর্শকদের মুগ্ধ করেন নারী দলগত কাতা ইভেন্টের কারাতেকা মে মারমা, নোমে মারমা ও কারিমা খাতুন। কিন্তু স্বর্ণ কিংবা রৌপ্য জিততে না পারায় তারা কাঁদতে শুরু করেন। সাদদোবাদোর জিমনেশিয়ামে উপস্থিত সবাই মেয়েদের সান্ত্বনা দেওয়ার চেষ্টা করেন; কিন্তু কিছুতেই থামানো যাচ্ছিল না কারিমাদের। নারী দলগত কাতায় বাংলাদেশ স্বাগতিক বিচারকদের শ্যেনদৃষ্টির শিকার হয়েছেন বলে জানান বাংলাদেশ কারাতে ফেডারেশনের সহসভাপতি মোয়াজ্জেম হোসেন সেন্টু, 'আমাদের প্রতি অবিচার করা হয়েছে। মেয়েরা কাঁদছে। কারণ তারা জানে কতটা ভালো পারফরম্যান্স করেছে।'