হিমালয়ের দেশে নতুন ইতিহাস

প্রকাশ: ০৯ ডিসেম্বর ২০১৯      

সাখাওয়াত হোসেন জয় নেপাল থেকে

হিমালয়ের দেশে নতুন ইতিহাস

বাংলাদেশের নারী ক্রিকেটের সাফল্যের খাতায় যুক্ত হলো আরেকটি অর্জন। রোববার এসএ গেমসের ফাইনালে শ্রীলংকাকে ২ রানে হারিয়ে স্বর্ণপদক জিতে নেন সালমারা- মাহবুব হোসেন নবীন

প্রত্যাশা ছাপিয়ে যাওয়ার আনন্দ। রোমান সানা-বিউটি রায়দের উচ্ছ্বাসও বাঁধনহারা। পোখারায় এক দিনে সাতটি স্বর্ণ জয়। সাউথ এশিয়ান গেমসের ইতিহাসে বাংলাদেশের এটা সেরা সাফল্য। সকালে আরচারি থেকে আসতে থাকে স্বর্ণের পদক। মাঝে ক্রিকেটের শ্বাসরুদ্ধকর এক লড়াইয়ে শ্রীলংকাকে ২ রানে হারানো সালমাদের চেহারায় ফুটে ওঠে সোনালি হাসি। দুপুরের পর তীর-ধনুকের খেলা থেকে আসে আরও তিনটি সোনা। এক দিনে সাত স্বর্ণ জিতে বাংলাদেশ ছাপিয়ে গেছে এসএ গেমসে বিদেশের মাটিতে তাদের সেরা সাফল্যকে। এবারের এসএ গেমসে এখন পর্যন্ত মোট ১৪টি স্বর্ণ জিতেছে লাল-সবুজের দলটি। ২০১০ সালে ঢাকায়  অনুষ্ঠিত গেমসে ১৮টি স্বর্ণকে স্পর্শ করতে আর প্রয়োজন চারটি সোনার পদক। সেটা আজই হতে পারে, যদি আরচারির চারটি ব্যক্তিগত ইভেন্ট থেকে আসে স্বর্ণ। আর ছেলেদের ক্রিকেটে জিতলে নয় বছর আগের সাফল্যকেও ছাপিয়ে যাবে বাংলাদেশ।

আরচারির স্বর্ণগুলো প্রত্যাশিতই ছিল। রোমান সানা-ইতিরা একচ্ছত্র দাপট দেখিয়ে সেগুলো ঝুলিতেও পোরেন। ঠিক তেমনি ক্রিকেট থেকে সালমা-আয়েশাদের স্বর্ণ জয়ও সময়ের ব্যাপার বলেই মনে হয়েছিল। কিন্তু গ্রুপ পর্বের ম্যাচগুলোতে দাপট দেখানো বাংলাদেশ নারী দল ফাইনালে গিয়ে খেই হারিয়ে বসেছিল। আগের সব ম্যাচে দুর্দান্ত ব্যাটিং করা আয়েশা-সানজিদারা কিনা স্বর্ণের লড়াইয়ে গিয়ে ব্যর্থ হলেন! কুড়ি ওভারে মাত্র ৯১ রান তুলতে সমর্থ হন তারা। তাই বলে হাল ছেড়ে দেননি বাংলার মেয়েরা। বল হাতে লংকানদের ওপর সর্বশক্তি নিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়েন সালমা-নাহিদারা। শেষ পর্যন্ত ২ রানের রুদ্ধশ্বাস জয় দিয়ে সোনার পদক ছিনিয়ে আনেন তারা।

নানা কারণে এবারের এসএ গেমসটি বাংলাদেশের জন্য ছিল গুরুত্বপূর্ণ। কয়েকটি ইভেন্ট থেকে ভারত নাম প্রত্যাহার করে নেওয়ায় স্বর্ণ জয়ের সম্ভাবনা বেড়ে যায় বাংলাদেশের। গেমসের দ্বিতীয় দিনেই আসে চারটি স্বর্ণ। তায়কোয়ান্দো থেকে একটি এবং কারাতে থেকে তিনটি। কিন্তু এরপর কেটে যায় তিন দিন। একবারের জন্যও প্যারেড গ্রাউন্ডে বাংলাদেশের জাতীয় সংগীত বাজেনি। ৭২ ঘণ্টা শুধুই রুপাতেই সন্তুষ্ট থাকতে হয়েছে। শনিবার আলো ঝলমলে সকালে স্বর্ণ জেতেন ভারোত্তোলক মাবিয়া আক্তার সীমান্ত। এরপর ভারোত্তোলন থেকে আরেকটি স্বর্ণ। ফেন্সিংয়ে স্বর্ণ জিতে সবাইকে চমকে দেন ফাতেমা মুজিব। এক দিনে আসে তিন স্বর্ণ। বিদেশের মাটিতে এসএ গেমসের সর্বোচ্চ সাতটি স্বর্ণ জয়ের রেকর্ডটি স্পর্শ করে বাংলাদেশ। ১৯৯৫ সালে মাদ্রাজ গেমসে জিতেছিল সাতটি স্বর্ণ।

পোখারায় রিকার্ভ পুরুষ দলগত ইভেন্টে রোমান সানা, তামিমুল ও রুবেল স্বর্ণ জেতার পরই আগের রেকর্ডকে ছাপিয়ে যায় বাংলাদেশ। এই আরচারি থেকে দিন শেষে আসে মোট ছয়টি স্বর্ণ। আর মেয়েদের ক্রিকেট থেকে আসে একটি। আরচারি থেকে ছয়টি স্বর্ণ আসায় এক দিনে এক ইভেন্টে সবচেয়ে বেশি স্বর্ণজয়ে অনন্য উচ্চতায় বাংলাদেশ। যার হাত ধরে আরচারিতে আসছে সাফল্য সেই ফ্রেডরিক মার্টিনও উচ্ছ্বসিত। জার্মানির এ কোচ নিজের অনুভূতি এভাবেই প্রকাশ করেন, 'হ্যাঁ, অবশ্যই আমি খুশি যে, ছয়টি ইভেন্টের সবকটিতেই স্বর্ণ জিতেছি আমরা। সকালে রিকার্ভে শুরু এবং কম্পাউন্ডে শেষ। আমি আশা করি, আগামীকাল আরও স্বর্ণ জিততে পারব।'

এর আগে এসএ গেমসের ইতিহাসে বাংলাদেশ এক দিনে মোট পাঁচটি স্বর্ণ জিতেছিল ২০১০ সালে। প্রত্যাশার প্রাপ্তি মেলানোর আনন্দ বাংলাদেশ অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশনের মহাসচিব সৈয়দ শাহেদ রেজার, 'বিদেশের মাটিতে এত স্বর্ণ আমরা কখনোই পাইনি। ক্রিকেটে আজ মেয়েরা পেয়েছে। আর আরচারি যে এত গোল্ড পাবে, তা আমরা কিন্তু বুঝেছি। কারণ তারা প্রথম থেকেই কাজ শুরু করেছে। তারা টানা ক্যাম্পের মধ্যে ছিল। ঢাকায় আপনারা যখন আমাকে জিজ্ঞাসা করেছিলেন, তখন আমি কিন্তু পদক সম্পর্কে কিছু বলিনি। যদি রেজাল্ট উল্টাপাল্টা হয়ে যায়। তাহলে আবার এটার জন্য আপনারাই আমাকে বলবেন যে, কী করেছে। ইনশাআল্লাহ আমি আশা করি আজকেই শেষ নয়, হয়তো আগামীতে আরও ভালো রেজাল্ট আসবে।'