আনসার-ভিডিপির জাতীয় সমাবেশ

অশুভ শক্তিকে সাহসিকতার সঙ্গে পরাজিত করতে হবে

প্রধানমন্ত্রী

প্রকাশ: ১৪ ফেব্রুয়ারি ২০২০      

সমকাল ডেস্ক

অশুভ শক্তিকে সাহসিকতার সঙ্গে পরাজিত করতে হবে

বৃহস্পতিবার গাজীপুরের সফিপুরে বাংলাদেশ আনসার ও ভিডিপির ৪০তম জাতীয় সমাবেশে কুচকাওয়াজ পরিদর্শন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বাসস

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আশা প্রকাশ করে বলেছেন, আনসার বাহিনী সততা, আন্তরিকতা ও সাহসিকতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করে জননিরাপত্তার ক্ষেত্রে অশুভ শক্তিকে পরাজিত করতে সক্ষম হবে। সরকারপ্রধান বলেছেন, দেশের সামগ্রিক উন্নয়নের পূর্বশর্ত রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক পরিবেশ স্থিতিশীল রাখা। এ পরিবেশ বজায় রাখার ক্ষেত্রে আনসার সদস্যরাও গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার।

গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে গাজীপুরের সফিপুরে বাংলাদেশ আনসার ও ভিডিপির ৪০তম জাতীয় সমাবেশে প্রধান অতিথির ভাষণে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন। খবর বাসস ও ইউএনবির।

বাংলাদেশ আনসার ও ভিডিপি একাডেমিতে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, 'আমরা সবাই একযোগে কাজ করলে বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলাদেশ অচিরেই বাস্তবে রূপান্তরিত করতে পারব। এটা আমার দৃঢ়বিশ্বাস।'

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আনসার ও ভিডিপি বাহিনীকে উন্নয়ন কাজে আরও সম্পৃক্ত করার পরিকল্পনা বর্তমান সরকারের রয়েছে। এ বাহিনীর সাহসিকতা ও কর্মদক্ষতা বর্তমানে সর্বজনস্বীকৃত। জাতীয় নির্বাচনসহ বিভিন্ন নির্বাচনে দায়িত্ব পালনসহ সন্ত্রাস, জঙ্গিবাদ, উগ্রবাদ ও মৌলবাদ নির্মূলে আনসার বাহিনী বিশেষ ভূমিকা রেখে যাচ্ছে।

শেখ হাসিনা বলেন, এ বাহিনী সরকারের উন্নয়ন অগ্রযাত্রার গুরুত্বপূর্ণ ও জনসম্পৃক্ত একটি বৃহৎ শৃঙ্খলা বাহিনী। এ বাহিনীর কার্যক্রম তৃণমূল পর্যন্ত বিস্তৃত এবং এর সদস্য সংখ্যা প্রায় ৬১ লাখ। দেশের প্রতিটি গ্রামে বা মহল্লায় এ বাহিনীর সদস্য রয়েছেন। কাজেই সরকারের যে কোনো সচেতনতামূলক কার্যক্রম আনসার-ভিডিপির সদস্যদের মাধ্যমে খুব সহজেই তৃণমূল পর্যায় পর্যন্ত পৌঁছে দেওয়া সম্ভব হচ্ছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, এ বাহিনীর প্রায় ৫০ হাজার অঙ্গীভূত আনসার সদস্য সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন স্থাপনা ও প্রতিষ্ঠানের নিরাপত্তা বিধান করে অর্থনীতির চাকা সচল রাখতে অনন্য ভূমিকা পালন করছে। বিমানবন্দরের নিরাপত্তায় এ বাহিনীর সদস্যরা 'এভসেক' (এভিয়েশন সিকিউরিটি)-এর অংশ হিসেবে দায়িত্ব পালন করছে। দেশ ও জনপদকে নিরাপদ রাখতে ২টি নারী ব্যাটালিয়নসহ এ বাহিনীতে ৪২টি আনসার ব্যাটালিয়ন রয়েছে।

তিনি বলেন, পার্বত্য এলাকায় এ বাহিনীর ১৬টি ব্যাটালিয়ন বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সঙ্গে অপারেশনাল ও শান্তি-শৃঙ্খলা রক্ষায় সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করছে। এছাড়া নবগঠিত আনসার গার্ড ব্যাটালিয়নের সদস্যরা কূটনৈতিক এলাকা, কূটনৈতিক ব্যক্তি এবং দেশের বিশিষ্ট ও গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিবর্গের নিরাপত্তায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, নিজেদের ওপর অর্পিত দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি এ বাহিনীর সদস্যরা খেলাধুলা ও দেশীয় সংস্কৃতি চর্চার মাধ্যমে দেশের গণ্ডি ছাড়িয়ে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে সুনাম বৃদ্ধি করেছে। সদ্য সমাপ্ত এসএ গেমস-এ বাংলাদেশের অর্জিত ১৪২টি পদকের মধ্যে ৬৮টি পদক অর্জন করেছে এ বাহিনীর খেলোয়াড়রা।

শেখ হাসিনা বলেন, 'আনসার ব্যাটালিয়ন আইন' প্রণয়ন করার কার্যক্রম সরকার হাতে নিয়েছে এবং রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র এবং মুজিবনগর মুক্তিযুদ্ধ স্মৃতি কমপ্লেক্স ও আম্রকাননের নিরাপত্তার জন্য ২টি আনসার ব্যাটালিয়ন গঠনের কার্যক্রম প্রায় চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। ঝুঁকিভাতা বৃদ্ধিসহ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর উন্নয়নে আওয়ামী লীগ সরকারের নেওয়া বিভিন্ন উন্নয়নমূলক পদক্ষেপেরও উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী।

দেশের জনগণের উন্নয়নে সরকারের নেওয়া বিভিন্ন জনকল্যাণমূলক কর্মসূচির প্রসঙ্গ টেনে সরকারপ্রধান বলেন, উন্নয়নশীল দেশের কাতারে আমরা প্রবেশ করেছি। সম্প্রতি বিশ্বের ৪১তম অর্থনীতির দেশ হিসেবে আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি পেয়েছে বাংলাদেশ। এসবই গত এগারো বছরে আমাদের সরকারের ধারাবাহিক উন্নয়নের ফলে সম্ভব হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, মাথাপিছু আয়, জিডিপি প্রবৃদ্ধির হার ও শিক্ষার হার বৃদ্ধি পেয়েছে এবং দারিদ্র্যের হার আগের তুলনায় অনেক কমে এসেছে। দেশের ৯৬ শতাংশ মানুষ এখন বিদ্যুৎ সুবিধার আওতায় এসেছে এবং মুজিববর্ষে দেশের প্রতিটি ঘরে ঘরে বিদ্যুতের আলো জ্বালানোই সরকারের লক্ষ্য।

এর আগে প্রধানমন্ত্রী সমাবেশস্থলে এসে পৌঁছলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগের সচিব মোস্তাফা কামাল উদ্দীন এবং বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর মহাপরিচালক মেজর জেনারেল কাজী শরীফ কায়কোবাদ তাকে অভ্যর্থনা জানান। প্রধানমন্ত্রীকে বর্ণাঢ্য কুচকাওয়াজ থেকে অভিবাদন জানানো হয়, প্রধানমন্ত্রী একটি সুসজ্জিত খোলা জিপে চড়ে প্যারেড পরিদর্শন এবং অভিবাদন গ্রহণ করেন।