দেশে নতুন আক্রান্ত নেই ১ জনের মৃত্যু

প্রকাশ: ২৬ মার্চ ২০২০

সমকাল প্রতিবেদক

প্রাণঘাতী করোনাভাইরাসে দেশে আরও একজনের মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে মৃতের সংখ্যা পাঁচজনে পৌঁছাল। তবে গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে কারও শরীরে করোনার সংক্রমণ শনাক্ত হয়নি। এ কারণে আক্রান্তদের সংখ্যা ৩৯ রয়েছে। গতকাল বুধবার দুপুরে অনলাইন ব্রিফিংয়ে জাতীয় রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (আইইডিসিআর) পরিচালক অধ্যাপক ডা. মীরজাদী সেব্রিনা ফ্লোরা  এসব তথ্য জানান।

মৃত ব্যক্তির বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরে পরিচালক বলেন, গতকাল সকালে ৬৫ বছর বয়সী ওই ব্যক্তির মৃত্যু হয়। তিনি করোনাভাইরাসে আক্রান্ত একজনের স্বজন। মৃত ওই ব্যক্তি ১৮ মার্চ আক্রান্ত হন। এরপর একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন। অবস্থার অবনতি হলে তাকে ২১ মার্চ কুয়েত-মৈত্রী হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়। তিনি ডায়াবেটিস ও হাইপারটেনশনে আক্রান্ত ছিলেন।

ডা. ফ্লোরা বলেন, গত ২৪ ঘণ্টায় আরও দু'জন সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন। এ নিয়ে করোনা আক্রান্ত রোগীদের মধ্যে সাতজন সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরলেন। এ ছাড়া গত ২৪ ঘণ্টায় ৮২ জনের নমুনা পরীক্ষা করে কারও শরীরে করোনা শনাক্ত হয়নি। বর্তমানে আইসোলেশন ও প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টাইনে ৪৭ জন ভর্তি আছেন।

নমুনা পরীক্ষার আওতা বাড়ছে :আইইডিসিআরের পাশাপাশি ঢাকা ও ঢাকার বাইরে আরও কয়েকটি স্থানে করোনার নমুনা পরীক্ষা করা হবে জানিয়ে পরিচালক বলেন, ঢাকার জনস্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট, ঢাকা শিশু হাসপাতাল, ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল এবং ঢাকার বাইরে চট্টগ্রামের ফৌজদারহাটে বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ট্রপিক্যাল অ্যান্ড ইনফেকশাস ডিজিজেস, কক্সবাজার মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আইইডিসিআরের ফিল্ড ল্যাবরেটরি, ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, বরিশাল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালেও এই পরীক্ষা সম্প্রসারণ হচ্ছে।

করোনা সংক্রমণ বৃদ্ধির আশঙ্কা করে ডা. ফ্লোরা বলেন, করোনার প্রাথমিক পরীক্ষা আইইডিসিআরে করা হয়েছে। এখন যেহেতু রোগীর সংখ্যা আগের তুলনায় বেড়েছে এবং পরবর্তীতের সন্দেহভাজন রোগীর সংখ্যা বৃদ্ধি পেতে পারে, সে বিষয়টি মাথায় রেখেই পরীক্ষা কার্যক্রম আরেকটু সম্প্রসারণ করা হয়েছে।

করোনা পরীক্ষা নিয়ে বিভিন্ন অভিযোগের বিষয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নে তিনি বলেন, এ পর্যন্ত ৭৯৪ জনের নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে। অনেকে বলবেন, এ সংখ্যা এত কম কেন। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার পরামর্শ অনুযায়ী যেসব মানুষের স্বাস্থ্য পরীক্ষা করার প্রয়োজন এবং যাদের সংক্রমণ থাকতে পারে বলে সন্দেহ করা হয়, কেবল তাদেরই পরীক্ষা করা হয়।

ডা. ফ্লোরা আরও বলেন, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সংজ্ঞা মেনে নমুনা সংগ্রহের পাশাপাশি যেসব এলাকায় সংক্রমণ বেশি হয়েছে, সেখানে সংজ্ঞার বাইরে গিয়ে আইইডিসিআর কাজ করেছে। সেখানে যদি কারও মধ্যে লক্ষণ-উপসর্গ থাকে, তার নমুনাও সংগ্রহ করে পরীক্ষা করা হয়েছে।

কমিউনিটি ট্রান্সমিশন সীমিত আকারে হতে পারে :দেশে করোনাভাইরাসের কমিউনিটি ট্রান্সমিশন সীমিত আকারে হতে পারে বলে মনে করেন ডা. মীরজাদী সেব্রিনা ফ্লোরা। সাংবাদিকদের অপর প্রশ্নে তিনি বলেন, আমরা দু'জন আক্রান্ত ব্যক্তির ক্ষেত্রেই অনুসন্ধান করেছিলাম। কিন্তু এখন পর্যন্ত সেটার সোর্স অব ইনফেকশন জানা সম্ভব হয়নি। সেদিক থেকে সীমিত আকারে কমিউনিটি ট্রান্সমিশন হয়েছে বলে আমরা বলতে পারি। সীমিত আকারে যে এলাকার কথা আমরা বলেছি, সেখানে ট্রান্সমিশন হয়ে থাকতে পারে বলেই কিন্তু ওই এলাকাটিকে সামাজিকভাবে বিচ্ছিন্ন করে নিয়ন্ত্রণে রাখার কার্যক্রম নেওয়া হয়েছে। যখন সংক্রমণের উৎস চিহ্নিত করা যায়, সেটাকে লোকাল ট্রান্সমিশন বলে। অন্যদিকে সংক্রমণ পাওয়া গেলেও উৎস চিহ্নিত করা না গেলে সেটিকে কমিউনিটি ট্রান্সমিশন বলা হয়।

তিনি আরও বলেন, কমিউনিটি ট্রান্সমিশন বলার আগে বিষয়টি নিয়ে বিস্তারিত জানতে হবে। এ ব্যাপারে বিস্তারিত তথ্য-উপাত্ত বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার কাছে পেশ করতে হবে। তবে দেশব্যাপী এখনও কমিউনিটি ট্রান্সমিশনের মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়নি।

ডা. ফ্লোরা আরও বলেন, হাসপাতালে নিউমোনিয়া নিয়ে আসা রোগীর নমুনাও তারা এখন পরীক্ষা করছেন। এ ধরনের পরীক্ষায় এখন পর্যন্ত দু'জনের করোনা পজিটিভ পাওয়া গেছে। পরে তথ্য-উপাত্ত পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, তারা বিদেশফেরত ব্যক্তির সংস্পর্শে ছিলেন।