দেশের চিত্র

করোনা আক্রান্ত ৩০ হাজার ছাড়াল

চব্বিশ ঘণ্টায় আক্রান্ত ১৬৯৪, মৃত্যু ২৪

প্রকাশ: ২৩ মে ২০২০

সমকাল প্রতিবেদক

দেশে করোনায় আক্রান্ত ৩০ হাজার ছাড়াল। গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে এক হাজার ৬৯৪ জনের শরীরে এই ভাইরাসের সংক্রমণ শনাক্ত হয়েছে। একই সঙ্গে গত ২৪ ঘণ্টায় আরও ২৪ জন এতে প্রাণ হারিয়েছেন। করোনা সংক্রমণের পর একদিনে এটিই সর্বোচ্চ মৃত্যুর সংখ্যা। এ নিয়ে দেশে করোনা সংক্রমণের ৭৬ দিনে এসে মোট আক্রান্ত ৩০ হাজার ২০৫ জনে পৌঁছাল। এ সময়ে মৃত্যু হয়েছে ৪৩২ জনের। এর বিপরীতে গত ২৪ ঘণ্টায় আরও ৫৮৮ জন সুস্থ হয়ে উঠেছেন। এ নিয়ে আক্রান্ত ছয় হাজার ১৯০ জন সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরলেন।

প্রতিদিনই করোনা পরিস্থিতির অবনতি ঘটছে। এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় স্বাস্থ্যবিভাগ সবাইকে ঘরে থাকার পরামর্শ দিলেও মানুষ তা আমলে নিচ্ছে না। ঈদের ছুটিতে ঘরমুখো মানুষের ভিড় সামলাতে হিমশিম খাচ্ছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। করোনা পরিস্থিতি নিয়ে গতকালের স্বাস্থ্য বুলেটিনেও ঈদের ছুটিতে ঢাকা ছেড়ে কাউকে গ্রামে না যাওয়ার অনুরোধ জানিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। এ অবস্থায় করোনা পরিস্থিতি আরও খারাপ হতে পারে বলে মনে করেন সংশ্নিষ্ট বিশেষজ্ঞরা। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সাবেক আঞ্চলিক পরিচালক অধ্যাপক মোজাহেরুল হক সমকালকে বলেন, ঈদের ছুটিতে যেভাবে মানুষ গ্রামে ফিরছে, তাতে বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি হবে। সবচেয়ে বড় হটস্পট ঢাকা থেকে হাজার হাজার মানুষ গ্রামে গিয়ে রোগটি ছড়িয়ে দেবে। এতে আক্রান্ত ও মৃত্যুর সংখ্যা আরও বাড়বে। সুতরাং গ্রামে ফিরে যাতে এসব মানুষ কোয়ারেন্টাইনে থাকেন, সে বিষয়ে এখন গুরুত্ব দিতে হবে। তাহলেও সংক্রমণ কিছুটা কমানো সম্ভব হতে পারে।

গ্রামে না যাওয়ার আহ্বান :করোনা পরিস্থিতি নিয়ে নিয়মিত স্বাস্থ্য বুলেটিনে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের দায়িত্বপ্রাপ্ত মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. নাসিমা সুলতানা ঈদের ছুটিতে ঢাকা ছেড়ে কাউকে গ্রামে না যাওয়ার অনুরোধ জানিয়েছেন। তিনি বলেন, গ্রামে যাওয়ার কারণে করোনা সংক্রমণের ঝুঁকি অনেক বেড়ে যেতে পারে। সুতরাং এই পরিস্থিতিতে যে যেখানে আছেন, সেখানেই অবস্থান করুন। শহর থেকে গ্রামের দিকে যাবেন না। প্রিয় আত্মীয়স্বজনের সঙ্গে মিলিত হওয়ার জন্য শহর থেকে গ্রামে যেতে চাচ্ছেন, আপনার কারণে সেই প্রিয়জন কিন্তু ঝুঁকিতে পড়তে পারেন।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে প্রতিটি মন্ত্রণালয় জনগণের কল্যাণে কাজ করে যাচ্ছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, মানুষের জন্য কাজ করতে গিয়ে অনেক চিকিৎসক, নার্সসহ স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মকর্তা, কর্মচারী, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, প্রশাসন, জনপ্রতিনিধি, সাংবাদিকসহ অনেকেই অসুস্থ হয়েছেন এবং মারাও গেছেন। অনুগ্রহ করে সহযোগিতা করুন, সরকারের সব নির্দেশনা মেনে চলুন এবং চলাচল বন্ধ করুন। নিজে সুস্থ থাকুন এবং প্রিয়জনকে সুস্থ রাখুন।

গত ২৪ ঘণ্টায় করোনায় মৃতদের বিস্তারিত তুলে ধরে ডা. নাসিমা সুলতানা বলেন, মারা যাওয়া ২৪ জনের মধ্যে ২১ থেকে ৩০ বছরের মধ্যে পাঁচজন, ৩১ থেকে ৪০ বছরের মধ্যে তিনজন, ৪১ থেকে ৫০ বছরের মধ্যে দু'জন, ৫১ থেকে ৬০ বছরের মধ্যে পাঁচজন, ৬১ থেকে ৭০ বছরের মধ্যে ছয়জন, ৭১ থেকে ৮০ বছরের মধ্যে দু'জন এবং ৮১ থেকে ৯০ বছরের মধ্যে একজন রয়েছেন। তাদের মধ্যে ঢাকা বিভাগের ১৩, চট্টগ্রাম বিভাগের ৯, বরিশাল ও ময়মনসিংহ বিভাগের রয়েছেন একজন করে। ২৪ জনের মধ্যে হাসপাতালে মারা গেছেন ১৫, বাড়িতে মারা গেছেন আট এবং মৃত অবস্থায় একজনকে হাসপাতালে আনা হয়েছে।

দায়িত্বপ্রাপ্ত মহাপরিচালক বলেন, গত ২৪ ঘণ্টায় নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে ৯ হাজার ৯৯৩টি, পরীক্ষা করা হয়েছে ৯ হাজার ৭২৭টি। মোট ৪৭টি ল্যাবে এসব নমুনা পরীক্ষা করা হয়। শনাক্ত রোগীর সংখ্যা বিবেচনায় সুস্থতার হার ২০ দশমিক ৪৯ শতাংশ, মৃত্যুর হার এক দশমিক ৪৩ শতাংশ।

আইসোলেশন ও কোয়ারেন্টাইনের বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরে তিনি বলেন, গত ২৪ ঘণ্টায় আইসোলেশনে নেওয়া হয়েছে আরও ২২৫ জনকে এবং বর্তমানে আইসোলেশনে রয়েছেন চার হাজার ৬০ জন। গত ২৪ ঘণ্টায় আইসোলেশন থেকে ছাড়পত্র পেয়েছেন ৬২ জন এবং এ পর্যন্ত ছাড়পত্র পেয়েছেন দুই হাজার ২৮ জন। একই সঙ্গে গত ২৪ ঘণ্টায় হোম ও প্রাতিষ্ঠানিক মিলিয়ে কোয়ারেন্টাইনে নেওয়া হয়েছে দুই হাজার ৫৬০ জনকে। এ পর্যন্ত কোয়ারেন্টাইনে নেওয়া হয়েছে দুই লাখ ৫৮ হাজার ৯৪ জনকে। গত ২৪ ঘণ্টায় কোয়ারেন্টাইন থেকে ছাড়পত্র পেয়েছেন দুই হাজার ১৯ জন। এ পর্যন্ত মোট ছাড়পত্র পেয়েছেন দুই লাখ তিন হাজার ১৭১ জন। বর্তমানে হোম ও প্রাতিষ্ঠানিক মিলিয়ে কোয়ারেন্টাইনে রয়েছেন ৫৪ হাজার ৯২৩ জন।

চিকিৎসা ব্যবস্থাপনার চিত্র তুলে ধরে ডা. নাসিমা সুলতানা বলেন, সারাদেশে আইসোলেশন শয্যা আছে ১৩ হাজার ২৮৪টি। এর মধ্যে রাজধানীতে সাত হাজার ২৫০টি এবং ঢাকার বাইরে আছে ছয় হাজার ৩৪টি। সারাদেশে আইসিইউ শয্যা আছে ৩৯৯ এবং ডায়ালাইসিস ইউনিট আছে ১০৬টি। দেশের বিভিন্ন জেলা-উপজেলা পর্যায়ে প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টাইনের জন্য ৬২৬টি প্রতিষ্ঠান প্রস্তুত রয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে তাৎক্ষণিকভাবে সেবা দেওয়া যাবে ৩১ হাজার ৮৪০ জনকে।

বুলেটিনে সংক্রমণের ঝুঁকি এড়াতে সবাইকে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর এবং বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার পরামর্শ ও নির্দেশনা মেনে চলার আহ্বান জানানো হয়।