উদ্ধারকারী জাহাজের ধাক্কায় বড় ফাটল পোস্তগোলা ব্রিজে

প্রকাশ: ৩০ জুন ২০২০

সমকাল প্রতিবেদক

উদ্ধারকারী জাহাজের ধাক্কায় মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে পোস্তগোলা ব্রিজ নামে পরিচিত প্রথম বুড়িগঙ্গা সেতু। সেতুর পূর্ব পাশের দুটি গার্ডারে বড় ধরনের ফাটল দেখা দিয়েছে। গার্ডার দুটি প্রতিস্থাপন করতে হবে বলে জানিয়েছেন সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের (সওজ) অতিরিক্ত প্রকৌশলী সবুজ উদ্দিন খান।

ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় গতকাল সোমবার সন্ধ্যায় চার লেনের সেতুর পূর্ব পাশের দুই লেনে যান চলাচল বন্ধ করা হয়। রাজধানীর অন্যতম ব্যস্ত এই সেতুতে প্রবেশ সংকোচিত হওয়ায় এর দুই পাশে হাজারো যানবাহন আটকা পরে। সৃষ্টি হয় যানজট।

স্থানীয় এমপি সৈয়দ আবু হোসেন বাবলা জানিয়েছেন, পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করছে। যানবাহনকে বিকল্প পথ ব্যবহারের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

গতকাল সকালে 'ময়ূর-২' নামের একটি লঞ্চের ধাক্কায় 'মর্নিংবার্ড' নামে ছোট আরেকটি লঞ্চ অর্ধশতাধিক যাত্রী নিয়ে বুড়িগঙ্গায় ডুবে যায়। একে উদ্ধারে নারায়ণগঞ্জ থেকে আসার পথে উদ্ধারকারী জাহাজ ধাক্কা খায় পোস্তগোলা সেতুতে। বর্ষায় নদীতে পানি বৃদ্ধির কারণে সেতুর নিচে নৌপথের উচ্চতা কমে গেছে। অভ্যন্তরীণ নৌ পরিবহন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এ কারণে উদ্ধারকারী জাহাজের ক্রেন সেতুতে ধাক্কা খায়।

প্রথমে ঘটনা সামান্য মনে হলেও পরে সওজ জানায় আঘাত গুরুতর। চীনের আর্থিক সহায়তায় ১৯৮৮ সালে নির্মিত পোস্তগোলা সেতুর বড় ক্ষতি হয়েছে। সওজের ঢাকা জোনের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সবুজ উদ্দিন খান জানিয়েছেন, সেতুর নির্মাণকারী প্রতিষ্ঠান ও বিশেষজ্ঞদের কাছে ক্ষতিগ্রস্ত গার্ডারের ছবি পাঠানো হয়েছে। তাদের প্রাথমিক মত, গার্ডার প্রতিস্থাপন করতে হবে। আজ মঙ্গলবার বিশেষজ্ঞরা দুর্ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে চূড়ান্ত মতামত জানাবেন।

নবনির্মিত ঢাকা-মাওয়া-ভাঙ্গা এক্সপ্রেসওয়ে রাজধানীর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে পোস্তগোলা সেতুর মাধ্যমে। বাবুবাজার সেতু হয়েও এক্সপ্রেসওয়েতে প্রবেশের সুযোগ রয়েছে। তবে বাবুবাজার সেতুর পর কেরানীগঞ্জ থেকে কদমতলী পর্যন্ত ফ্লাইওভারের কাজ এখনও শেষ হয়নি। তাই অধিকাংশ যানবাহন পোস্তাগোলা হয়ে চলাচল করে। এ সেতু বন্ধ হলে, দক্ষিণবঙ্গের যাত্রীদের ব্যাপক দুর্ভোগ পোহাতে হবে।