১৩ ঘণ্টা পর একজন জীবিত উদ্ধার!

প্রকাশ: ৩০ জুন ২০২০

সমকাল প্রতিবেদক ও মুন্সীগঞ্জ প্রতিনিধি

১৩ ঘণ্টা পর একজন জীবিত উদ্ধার!

উদ্ধার সুমন বেপারি

বুড়িগঙ্গা নদীতে লঞ্চডুবির ১৩ ঘণ্টা পর এক ব্যক্তিকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে। তার নাম সুমন বেপারি। সদরঘাটের পন্টুনে ফলের ব্যবসা করেন তিনি। তবে কীভাবে তিনি এত সময় বেঁচে ছিলেন তা নিয়ে স্পষ্ট কোনো তথ্য নেই উদ্ধারকারীদের কাছে। ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা বলছেন, লঞ্চের এয়ার টাইট রুমে আটকা থাকতে পারেন তিনি। উদ্ধারের পর তাকে রাতেই  মিটফোর্ড হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

সুমন বেপারির ভাগ্নে আবুল হোসেন সমকালকে জানান, তাদের গ্রামের বাড়ি মুন্সীগঞ্জের আব্দুল্লাহপুরে। তিনি আরও জানান, উদ্ধারের পর মামার সঙ্গে হাসপাতালে তার কথা হয়েছে। মামা তাকে জানান, সকালে কাঠপট্টি থেকে মর্নিংবার্ড লঞ্চে উঠেছিলেন। ডুবে যাওয়ার পর কীভাবে কী হয়েছে তার কিছু মনে নেই। রাতে নিজেকে হাসপাতালে দেখতে পান তিনি। তার শারীরিক অবস্থা বেশ ভালো আছে। পন্টুনে ফলের ব্যবসা করলেও প্রতি সপ্তাহে একবার বাড়ি যান সুমন বেপারি।

নৌপুলিশের ঢাকা অঞ্চলের পুলিশ সুপার খোন্দকার ফরিদুল ইসলাম সমকালকে জানান, রাতে বিআইডব্লিউটিএ উদ্ধার অভিযান চালাচ্ছিল। তারা ডুবে যাওয়া লঞ্চের ভেতরে টায়ার-টিউব ঢুকিয়ে তাতে হাওয়া দিয়ে লঞ্চটিকে ভাসিয়ে তোলার চেষ্টা করছিল। এ সময় হঠাৎ একজনকে ভেসে উঠতে দেখা যায়। এরপর তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

ফরিদুল ইসলাম আরও জানান, পুরোপুরি সুস্থ হওয়ার পর তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করলে বেরিয়ে আসবে কীভাবে তিনি বেঁচে ছিলেন। পুরো বিষয়টি এখনও পরিস্কার নয়। তিনি লঞ্চের যাত্রী ছিলেন নাকি দুর্ঘটনার পর অন্য কোনোভাবে নদীতে পড়ে গেছেন তা জানা যাবে।

ফায়ার সার্ভিসের এক কর্মকর্তা জানান, সাধারণত ইঞ্জিন রুম এয়ারটাইট হওয়ার কারণে সেখানে পানি প্রবেশ করে না। রাত সোয়া ১০টার দিকে কুশন পদ্ধতি ব্যবহার করে লঞ্চ ভাসানোর চেষ্টা করা হলে সম্ভবত ইঞ্জিন রুম খুলে যায়। ওই সময় তিনি বের হয়ে আসেন। এরপর তাকে উদ্ধার করা হয়।

চিকিৎসকের মতে, ডুবে যাওয়া লোকের ফুসফুসে সামান্য হলেও পানি জমার কথা। তবে উদ্ধার হওয়া সুমন বেপারির শরীরে এক শতাংশ পানি জমেনি। মিটফোর্ড হাসপাতালের সহকারী রেজিস্ট্রার ডা. আমজাদ হোসেন সমকালকে জানান, সাধারণত বন্ধ ঘরে কেউ ১৩ ঘণ্টা থাকলে তার স্কিনে এক ধরনের দাগ পড়বে। ওই ব্যক্তির ক্ষেত্রে এটাও নেই।