আবারও এক দিনে শনাক্ত ৪ হাজার, মৃত্যু ৪৫

প্রকাশ: ৩০ জুন ২০২০

সমকাল প্রতিবেদক

আবারও এক দিনে শনাক্ত ৪ হাজার, মৃত্যু ৪৫

প্রতীকী ছবি

দেশে এক দিনে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ আবারও চার হাজার অতিক্রম করল। গত চব্বিশ ঘণ্টায় আরও চার হাজার ১৪ জনের শরীরে নতুন করে করোনার সংক্রমণ শনাক্ত হয়েছে। গত ৮ মার্চ দেশে করোনার সংক্রমণ শনাক্ত হওয়ার পর এক দিনে এটিই সর্বোচ্চ সংখ্যা। এর আগে গত ১৭ জুন একদিনে চার হাজার আটজন রোগী শনাক্তের তথ্য দিয়েছিল স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। এতদিন সেটাই ছিল এক দিনের সর্বোচ্চ শনাক্তের সংখ্যা। এর মধ্য দিয়ে আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে এক লাখ ৪১ হাজার ৮০১ জনে পৌঁছাল। গত চব্বিশ ঘণ্টায় প্রাণঘাতী এই ভাইরাসের সংক্রমণে আরও ৪৫ জন প্রাণ হারিয়েছেন। এর আগে ১৬ জুন এক দিনে মোট ৫৩ জনের মৃত্যুর খবর জানানো হয়েছিল। এখন পর্যন্ত সেটাই মৃত্যুর সর্বোচ্চ সংখ্যা। এ নিয়ে মৃতের সংখ্যা বেড়ে এক হাজার ৭৮৩ জনে পৌঁছাল। এর বিপরীতে গত চব্বিশ ঘণ্টায় করোনাভাইরাস আক্রান্ত আরও দুই হাজার ৫৩ জন সুস্থ হয়ে উঠেছেন। এ নিয়ে করোনা আক্রান্ত সুস্থ হয়ে ওঠা রোগীর সংখ্যা ৫৭ হাজার ৭৮০ জনে দাঁড়িয়েছে।

করোনা পরিস্থিতি বিশ্নেষণ করে দেখা যায়, দেশে করোনাভাইরাসের প্রথম সংক্রমণ শনাক্ত হয় গত ৮ মার্চ। এর ১০ দিনের মাথায় ১৮ মার্চ প্রথম একজনের মৃত্যু হয়। প্রথম সংক্রমণের ১০৩ দিনের মাথায় ১৮ জুন দেশে শনাক্ত রোগীর সংখ্যা এক লাখ ছাড়িয়ে যায়। আর মৃতের সংখ্যা ২২ জুন দেড় হাজার ছাড়িয়ে যায়। এ পর্যন্ত করোনা শনাক্তের হার ১৮ দশমিক ৯৫ শতাংশ। মৃত্যুহার ১ দশমিক ২৫ শতাংশ এবং সুস্থতার হার ৪০ দশমিক ৭৪ শতাংশ। করোনাভাইরাস সংক্রমণের দিক দিয়ে দক্ষিণ এশিয়ার সার্কভুক্ত দেশগুলোর মধ্যে ভারত ও পাকিস্তানের পরই এখন বাংলাদেশের অবস্থান। করোনার উৎসস্থল চীনকে ছাড়িয়েছে এ তিনটি দেশই। এ পর্যন্ত সাত লাখ ৪৮ হাজার ৩৪ জনের করোনা পরীক্ষা করে দেশে মোট শনাক্তের সংখ্যা এক লাখ ৪১ হাজার ৮০১ জনে দাঁড়িয়েছে। করোনার সংক্রমণ বিবেচনায় বর্তমানে বিশ্বে বাংলাদেশ ১৭তম স্থানে রয়েছে। আর এশিয়ার ৪৯টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান ষষ্ঠ। এর আগে রয়েছে ভারত, ইরান, তুরস্ক, পাকিস্তান ও সৌদি আরব।

করোনা পরিস্থিতি নিয়ে নিয়মিত ভার্চুয়াল স্বাস্থ্য বুলেটিনে গতকাল সোমবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (প্রশাসন) অধ্যাপক ডা. নাসিমা সুলতানা সর্বশেষ পরিস্থিতি তুলে ধরেন। মৃত ৪৫ জনের বিষয়ে বিস্তারিত তুলে ধরে তিনি বলেন, গত চব্বিশ ঘণ্টায় যারা মারা গেছেন, তাদের মধ্যে ৩৬ জন পুরুষ এবং ৯ জন নারী। ৩০ জন হাসপাতালে এবং ১৪ জনের বাড়িতে মৃত্যু হয়েছে। একজনকে মৃত অবস্থায় হাসপাতালে নেওয়া হয়েছিল। তাদের মধ্যে একজনের বয়স ছিল ৯০ বছরের বেশি। এ ছাড়া একজনের বয়স ৯১ থেকে ৯০ বছরের মধ্যে, ছয়জনের বয়স ৭১ থেকে ৮০ বছরের মধ্যে, ১৪ জনের বয়স ৬১ থেকে ৭০ বছরের মধ্যে, ১১ জনের বয়স ৫১ থেকে ৬০ বছরের মধ্যে, ৭ জনের বয়স ৪১ থেকে ৫০ বছরের মধ্যে, তিনজনের বয়স ৩১ থেকে ৪০ বছরের মধ্যে, দু'জনের বয়স ২১ থেকে ৩০ বছরের মধ্যে ছিল। মৃত এই ৪৫ জনের মধ্যে ২২ জন ঢাকা বিভাগের, ১০ জন চট্টগ্রাম বিভাগের, পাঁচজন খুলনা বিভাগের, একজন রাজশাহী বিভাগের, একজন ময়মনসিংহ বিভাগের, তিনজন সিলেট বিভাগের, তিনজন বরিশাল বিভাগের বাসিন্দা ছিলেন।

বুলেটিনে ডা. নাসিমা সুলতানা বলেন, দেশের ৬৫টি পরীক্ষাগারে গত চব্বিশ ঘণ্টায় ১৭ হাজার ৮৩৭টি নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে। দেশে এ পর্যন্ত মোট সাত লাখ ৪৮ হাজার ৩৪টি নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে। চব্বিশ ঘণ্টায় নমুনা পরীক্ষার বিবেচনায় শনাক্তের হার ২২ দশমিক ৫০ শতাংশ। আর শনাক্ত রোগীর সংখ্যার বিবেচনায় সুস্থতার হার ৪০ দশমিক ৫৫ শতাংশ, মৃতের হার ১ দশমিক ২৬ শতাংশ।

আইসোলেশনের চিত্র তুলে ধরে অতিরিক্ত মহাপরিচালক বলেন, গত চব্বিশ ঘণ্টায় আইসোলেশনে নেওয়া হয়েছে আরও এক হাজার ২৮ জনকে এবং এ পর্যন্ত আইসোলেশনে নেওয়া হয়েছে ২৫ হাজার ৮৩৮ জনকে। গত চব্বিশ ঘণ্টায় আইসোলেশন থেকে ছাড়া পেয়েছেন ৬০৯ জন এবং এ পর্যন্ত ছাড়া পেয়েছেন ১০ হাজার ৮৯৬ জন। বর্তমানে আইসোলেশনে রয়েছেন ১৪ হাজার ৯৪২ জন।

গতকাল বুলেটিনের শুরুতে ডা. নাসিমা সুলতানা করোনাভাইরাসের এই সময়ে গর্ভবতী মায়ের স্বাস্থ্যের দিকে খেয়াল রাখার আহ্বান জানান। একই সঙ্গে তিনি বলেন, করোনা আক্রান্ত মায়ের দুধপানে শিশুর করোনা আক্রান্ত হওয়ার কোনো তথ্য বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা পায়নি। অর্থাৎ, শিশুকে দুধপান করানো যাবে। বুলেটিনে করোনা প্রতিরোধে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা ও রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ানোর পরামর্শ দিয়ে অতিরিক্ত মহাপরিচালক বলেন, করোনা মোকাবিলায় তরল খাবার, কুসুম গরম পানি ও আদা চা পান করতে হবে। সম্ভব হলে মৌসুমি ফল খাওয়া ও ফুসফুসের ব্যায়াম করতে হবে। এ সময় ধূমপান ত্যাগ করতে হবে। কারণ, ধূমপান ফুসফুসের কার্যকারিতা নষ্ট করে দেয়।