পাঠাও-এর অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা ফাহিম সালেহকে হত্যার দু'দিন পর পার্টির পরিকল্পনা ছিল ঘাতক টাইরেস হ্যাসপিলের। এ জন্য ফাহিমকে হত্যার পর বড় আকারের বেলুনও কিনেছিল হ্যাসপিল। বেলুন কেনার সময় তার সঙ্গে এক নারীকেও দেখা গেছে।

নিউইয়র্ক পুলিশের কাছে আসা ভিডিওচিত্রে দেখা যাচ্ছে, ইস্ট হাউস্টন স্ট্রিটের মাইলখানেকের মতো দূরে ক্রসবি স্ট্রিটের একটি অ্যাপার্টমেন্টের সামনে কালো রঙের একটি গাড়ি থেকে বের হয়ে এক নারী হ্যাসপিলের হাতে বেলুন তুলে দেন। বড় আকারের পার্টি বেলুনটি কিনতে ফাহিম সালেহর ক্রেডিট কার্ড ব্যবহার করা হয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছে। ব্রুকলিনে বসবাস করা হ্যাসপিল ক্রসবি স্ট্রিটের অভিজাত অ্যাপার্টমেন্ট কয়েক দিনের জন্য ভাড়া করে। ক্রেডিট কার্ডের সূত্র ধরেই হ্যাসপিলকে গ্রেপ্তার করা হয়।

নিউইয়র্ক পোস্টকে একজন পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, 'হ্যাসপিল একজন নিউ আমেরিকান সাইকো (মনোবিকারী)'। ফাহিম সালেহকে হত্যার পরও তার ক্রেডিট কার্ড ব্যবহার করছিল হ্যাসপিল।

গত ১৪ জুলাই নিউইয়র্কের ম্যানহাটন এলাকার নিজ অ্যাপার্টমেন্ট থেকে ফাহিম সালেহর খণ্ড-বিখণ্ড মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় ১৭ জুলাই গ্রেপ্তার করা হয় তার সাবেক ব্যক্তিগত সহকারী হ্যাসপিলকে। এদিন মধ্যরাতে ম্যানহাটনের ক্রিমিনাল কোর্টে হ্যাসপিলকে হাজির করে তার বিরুদ্ধে দ্বিতীয় মাত্রার খুনের অভিযোগ আনা হয়। হ্যাসপিলকে আগামী ১৭ আগস্ট ফের আদালতে হাজির করার নির্দেশ দিয়েছেন বিচারক।

এদিকে পারিবারিক সূত্র জানিয়েছে, নিউইয়র্ক সময় রোববার দুপুর ১২টায় ফাহিম সালেহর জানাজা হওয়ার কথা রয়েছে। জানাজা শেষে নিউইয়র্ক শহরের উপকণ্ঠে পোকেস্ত্রী রুরাল সেমিট্রিতে তাকে সমাহিত করা হবে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে ফাহিম সালেহর এক আত্মীয় সমকালকে জানিয়েছেন, তবে এ সময় মিডিয়ার উপস্থিতির অনুমোদন নেই।

তিনি বলেন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও গোয়েন্দা বিভাগ থেকে ফাহিমের পরিবারকে মিডিয়ার সঙ্গে কথা না বলারও পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এ কারণে পরিবারের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে কিছু বলা হচ্ছে না। ফাহিমের ছোট বোন পুলিশের সঙ্গে সব রকম যোগাযোগ ও সহযোগিতা করছেন বলে জানিয়েছেন সেই আত্মীয়। তিনি জানান, ভাইয়ের জানাজায় অংশ নিতে ফাহিমের বড় বোন ও তার স্বামী মধ্যপ্রাচ্য থেকে নিউইয়র্কে এসেছেন।

ফাহিম সালেহর জন্য প্রার্থনা করছেন অনেক বিদেশি। অনেকেই ইস্ট হাউস্টন স্ট্রিটের অ্যাপার্টমেন্টের সামনে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানাচ্ছেন। কেউ কেউ নীরবতা পালন করছেন।

ফাহিমের কাছ থেকে আগে ৯০ হাজার ডলার চুরি করেছিল হ্যাসপিল। ফাহিম তখন তাকে নিজের প্রতিষ্ঠান থেকে বরখাস্ত করেছিলেন। তবে তার বিরুদ্ধে পুলিশের কাছে কোনো অভিযোগ করেননি; বরং হ্যাসপিল যেন কিস্তিতে টাকাটা ফেরত দিতে পারে, তার পথ বাতলে দিতে চেয়েছিলেন তিনি। সে কারণেই ফাহিমকে হত্যা করা হয়েছে বলে পুলিশের ধারণা।

মন্তব্য করুন