দেশের চিত্র

করোনায় আরও ৪৮ জনের মৃত্যু শনাক্ত ২৬৯৫

প্রকাশ: ৩১ জুলাই ২০২০

সমকাল প্রতিবেদক

দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় করোনাভাইরাসে আরও ৪৮ জনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে নমুনা পরীক্ষা ও শনাক্তের সংখ্যা কমলেও নতুন করে দুই হাজার ৬৯৫ জনের শরীরে এ ভাইরাস শনাক্ত হয়েছে। সব মিলিয়ে এ পর্যন্ত দেশে দুই লাখ ৩৪ হাজার ৮৮৯ জনের করোনা শনাক্ত হয়েছে। মোট মারা গেছেন তিন হাজার ৮৩ জন।

বৃহস্পতিবার দেশে সংক্রমণ পরিস্থিতি নিয়ে নিয়মিত বুলেটিনে এই তথ্য জানান স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (প্রশাসন) অধ্যাপক নাসিমা সুলতানা।

বিফিংয়ে বলা হয়, নতুন করে মারা যাওয়া ৪৮ জনের মধ্যে ৩৬ পুরুষ ও ১২ জন নারী। গত ২৪ ঘণ্টায় সুস্থ হয়েছেন দুই হাজার ৬৬৮ জন। সব মিলে এখন পর্যন্ত সুস্থ হয়েছেন এক লাখ ৩২ হাজার ৯৬০ জন। আগের দিন বুধবার সংক্রমিত তিন হাজার নয়জন শনাক্ত হওয়ার কথা জানানো হয়েছিল। মারা যান ৩৫ জন।

ব্রিফিংয়ের তথ্যমতে, আগের নমুনাসহ ১২ হাজার ৯৩৭টি নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে গত ২৪ ঘণ্টায়। এর আগের দিন ১৪ হাজার ১২৭টি নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছিল। এখন পর্যন্ত পরীক্ষা হয়েছে ১১ লাখ ৬৪ হাজার ১৯৫টি নমুনা।

দেশে করোনাভাইরাসের প্রথম সংক্রমণ ধরা পড়েছিল ৮ মার্চ। ১৮ জুলাই শনাক্ত রোগীর সংখ্যা দুই লাখ পেরিয়ে যায়। এর মধ্যে ২ জুলাই একদিনে সর্বোচ্চ চার হাজার ১৯ রোগী শনাক্ত হয়। ১৮ মার্চ দেশে এই ভাইরাসে প্রথম মৃত্যুর খবর জানায় স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। ১৭ জুলাই তা আড়াই হাজার ছাড়িয়ে যায়। এর মধ্যে ৩০ জুন এক দিনে রেকর্ড ৬৪ জনের মৃত্যুর খবর জানানো হয়। দেশে ৮০টি ল্যাবে করোনা পরীক্ষা হচ্ছে। ২৪ ঘণ্টায় শনাক্তের হার ২০ দশমিক ৮৩ শতাংশ, এখন পর্যন্ত মোট শনাক্তের হার ২০ দশমিক ১৮ শতাংশ। ২৪ ঘণ্টায় শনাক্ত বিবেচনায় সুস্থতার হার ৫৬ দশমিক ৬১ শতাংশ এবং মৃত্যুর হার এক দশমিক ৩১ শতাংশ।

অধ্যাপক নাসিমা সুলতানা জানান, এখন পর্যন্ত মোট পুরুষ মারা গেছেন দুই হাজার ৪২৪ জন, যা ৭৮ দশমিক ৬২ শতাংশ এবং নারী মারা গেছেন ৬৫৯ জন, যা ২১ দশমিক ৩৮ শতাংশ। ২৪ ঘণ্টায় হাসপাতালে মারা গেছেন ৪১ জন এবং বাড়িতে মারা গেছেন সাতজন।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুয়ায়ী, ২৪ ঘণ্টায় মৃতদের মধ্যে বয়স বিবেচনায় ৩১ থেকে ৪০ বছরের মধ্যে একজন, ৪১ থেকে ৫০ বছরের মধ্যে চারজন, ৫১ থেকে ৬০ বছরের মধ্যে ১৪ জন, ৬১ থেকে ৭০ বছরের মধ্যে ১২ জন, ৭১ থেকে ৮০ বছরের মধ্যে ১১ জন, ৮১ থেকে ৯০ বছরের মধ্যে পাঁচজন এবং ৯১ থেকে ১০০ বছরের মধ্যে একজন রয়েছেন।

এ পর্যন্ত শূন্য থেকে ১০ বছরের মধ্যে মারা গেছেন ১৮ জন, যা শূন্য দশমিক ৫৮ শতাংশ; ১১ থেকে ২০ বছরের মধ্যে ৩০ জন, যা শূন্য দশমিক ৯৭ শতাংশ; ২১ থেকে ৩০ বছরের মধ্যে ৮৫ জন, যা দুই দশমিক ৭৬ শতাংশ; ৩১ থেকে ৪০ বছরের মধ্যে ২০২ জন, যা ছয় দশমিক ৫৫ শতাংশ; ৪১ থেকে ৫০ বছরের মধ্যে ৪৩৫ জন, যা ১৪ দশমিক ১১ শতাংশ; ৫১ থেকে ৬০ বছরের মধ্যে ৮৯০ জন, যা ২৮ দশমিক ৮৭ শতাংশ এবং ষাটের অধিক এক হাজার ৪২৩ জন, যা ৪৬ দশমিক ১৬ শতাংশ।

অধ্যাপক নাসিমা সুলতানা জানান, গত ২৪ ঘণ্টায় বিভাগভিত্তিক মৃতের সংখ্যা ঢাকা বিভাগে ১৭ জন, চট্টগ্রামে ১২ জন, খুলনা এবং সিলেটে পাঁচজন করে, রাজশাহীতে তিনজন এবং বরিশাল, রংপুর এবং ময়মনসিংহে দু'জন করে রয়েছেন।

এ পর্যন্ত বিভাগভিত্তিক মৃতের সংখ্যা এবং শতকরা হারে দেখা যায়, ঢাকায় এক হাজার ৪৭৫ জন, যা ৪৭ দশমিক ৮৪ শতাংশ; চট্টগ্রামে ৭৫১ জন, যা ২৪ দশমিক ৩৬ শতাংশ; রাজশাহীতে ১৮২ জন, যা পাঁচ দশমিক ৯০ শতাংশ; খুলনায় ২১৯ জন, যা সাত দশমিক ১০ শতাংশ; বরিশালে ১০২ জন, যা তিন দশমিক ৯২ শতাংশ; সিলেটে ১৫১ জন, যা চার দশমিক ৯০ শতাংশ; রংপুরে ১৭৭ জন, যা তিন দশমিক ৮০ শতাংশ এবং ময়মনসিংহে ৬৭ জন, যা দুই দশমিক ১৭ শতাংশ।

অধ্যাপক নাসিমা সুলতানা জানান, গত ২৪ ঘণ্টায় আইসোলেশনে যুক্ত হয়েছেন ৬৩৫ জন, আর ২৪ ঘণ্টায় আইসোলেশন থেকে ছাড়া পেয়েছেন ৭৩৬ জন। এ পর্যন্ত আইসোলেশনে গেছেন মোট ৪৯ হাজার ৯৫১ জন, ছাড়া পেয়েছেন ৩১ হাজার ৩৮৩ জন। বর্তমানে আইসোলেশনে আছেন ১৮ হাজার ৫৬৮ জন।

তিনি আরও জানান, আজ থেকে রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (আইইডিসিআর) হটলাইন নম্বর ১০৬৫৫-এ কল গ্রহণ করা হবে। অন্য নম্বর বন্ধ থাকবে। করোনার ঝুঁকি এড়াতে সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখা ও স্বাস্থ্যবিধি মানতে সবাইকে অনুরোধ জানিয়ে তিনি বলেন, রোগ প্রতিরোধে সচেষ্ট থাকুন, সচেতন থাকুন।