সাহেদের বিরুদ্ধে প্রথম চার্জশিট

প্রকাশ: ৩১ জুলাই ২০২০

বিশেষ প্রতিনিধি, ঢাকা ও সাতক্ষীরা প্রতিনিধি

রিজেন্ট হাসপাতালের চেয়ারম্যান মো. সাহেদের বিরুদ্ধে গতকাল বৃহস্পতিবার অস্ত্র মামলার চার্জশিট আদালতে দাখিল করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা (ডিবি)। রিজেন্টের কেলেঙ্কারি সামনে আসার পর এই প্রথম তার বিরুদ্ধে চার্জশিট দেওয়া হলো। এদিন প্রতারক হিসেবে অভিযুক্ত সাহেদ করিমকে সাতক্ষীরার দেবহাটা উপজেলার শাখরা কোমরপুর সীমান্তে অভিযানেও নিয়ে যায় র‌্যাব।

গতকাল বিকেল ৪টার দিকে র‌্যাব সদস্যদের নিরাপত্তা বেষ্টনীর মধ্য দিয়ে একটি সিলভার রঙের মাইক্রোবাসযোগে সাহেদকে খুলনা র‌্যাব-৬-এর কার্যালয় থেকে সাতক্ষীরায় নিয়ে আসা হয়। পরে তাকে নিয়ে যাওয়া হয় দেবহাটার লাবণ্যবতী ব্রিজ এলাকায়। সেখানে প্রতারক সাহেদ করিমকে মাইক্রোবাস থেকে নামানো হয়। প্রায় আধাঘণ্টা তাকে নিয়ে ওই এলাকায় ঘোরাঘুরি করেন র‌্যাব সদস্যরা।

বিকেল ৪টা ১১ মিনিটে সাহেদকে লাবণ্যবতী খালের ওপর নির্মিত কোমরপুরের বেইলি ব্রিজের ওপর নিয়ে আসে র‌্যাব। এরপর উৎসুক সাধারণ মানুষ ও স্থানীয় সাংবাদিকদের ব্রিজ থেকে নির্দিষ্ট দূরত্বে সরিয়ে কিছু সময় তার সঙ্গে কথাবার্তা বলে তাকে আবারও গাড়িতে ওঠায়। এ সময় সাহেদের মুখমণ্ডল ছিল হেলমেটে ঢাকা, গায়ে ছিল গেঞ্জি ও র‌্যাবের নিরাপত্তা জ্যাকেট। ব্রিজের ওপর থেকেই ফের খুলনার উদ্দেশে রওনা দেয় র‌্যাব। তদন্তের স্বার্থে র‌্যাব উপস্থিত সংবাদকর্মীদের কোনো ধরনের প্রশ্ন করার চেষ্টা থেকে বিরত থাকতে বলে।

গত ২০ জুলাই সাহেদ করিম দেবহাটা উপজেলার শাখরা কোমরপুরের লাবণ্যবতী খাল দিয়েই ভারতে পাড়ি জমানোর চেষ্টা করেছিলেন। ব্রিজের নিচ থেকে র‌্যাব সদস্যরা তাকে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে আটক করেন। বর্তমানে সাহেদ রিমান্ডে রয়েছেন। দেবহাটা থানায় করা অস্ত্র মামলায় তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য বৃহস্পতিবার বিকেলে সাতক্ষীরার দেবহাটা সীমান্তে নিয়ে আসা হয়। ঘটনাস্থল পরিদর্শন শেষে তাকে আবারও খুলনা র‌্যাব-৬-এর কার্যালয়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। সেখানে রেখে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে।

চার্জশিট :ঢাকা মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার আবদুল বাতেন জানান, অস্ত্র মামলার ক্ষেত্রে ১৫ দিনের মধ্যে চার্জশিট দেওয়ার বাধ্যবাধকতা রয়েছে। সাহেদের বিরুদ্ধে অস্ত্র আইনে বৃহস্পতিবার চার্জশিট হয়েছে। অস্ত্র পজিশনে পাওয়া গেলে সেটা দণ্ডনীয় অপরাধ। সেটা তিনি যদি ব্যবহার নাও করে থাকেন, তা-ও অপরাধ। অস্ত্র মামলায় সাজা নিশ্চিত করতে যে ধরনের তথ্য-প্রমাণ দরকার, আমরা সেসবের সত্যতা নিশ্চিত করেছি। এখন আদালত বিচার করে এর রায় দেবেন।

আবদুল বাতেন বলেন, অস্ত্র মামলায় দু'জন সাক্ষীর ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি রেকর্ড করা হয়েছে। তদন্ত শেষে এ মামলার চার্জশিট হয়েছে। সাহেদ যখন আমাদের রিমান্ডে ছিলেন, তখন তার ভাষ্যমতে ব্যবহার করা গাড়িটি আমরা জব্দ করি এবং গাড়ি থেকে অবৈধ অস্ত্র জব্দ করি। সেই অস্ত্র মামলায় আজকেই চার্জশিট দাখিল করা হয়েছে।