চসিক নির্বাচন

সহিংসতা বাড়ছে, পরিস্থিতি উত্তপ্ত

প্রকাশ: ১৪ জানুয়ারি ২০২১     আপডেট: ১৪ জানুয়ারি ২০২১

সারোয়ার সুমন, চট্টগ্রাম

সহিংসতা বাড়ছে, পরিস্থিতি উত্তপ্ত

মঙ্গলবার রাতে চট্টগ্রামে নির্বাচনী সহিংসতায় নিহত আজগর আলীর মেয়ে ও স্বজনের আহাজারি - মো. রাশেদ

ক্রমশ সহিংস হয়ে উঠছে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন (চসিক) নির্বাচনের পরিস্থিতি। দল সমর্থিত প্রার্থীর বাইরে আওয়ামী লীগের অর্ধশত বিদ্রোহী প্রার্থী থাকায় বাড়ছে হামলা-পাল্টা হামলার ঘটনা। পড়ছে লাশও। নির্বাচনী সহিংসতায় নিজেদের মধ্যে সংঘর্ষে এরই মধ্যে নিহত হয়েছেন দু'জন। ১১নং দক্ষিণ কাট্টলী ওয়ার্ডে গত বছরের ১৮ মার্চ রাতে সহিংসতায় প্রাণ হারান আনোয়ার জাহিদ তানবীর। তিনি পাহাড়তলী থানা আওয়ামী লীগের দপ্তর সম্পাদক ছিলেন। ২৮নং পাঠানটুলী ওয়ার্ডে ফের লাশ পড়ে গত মঙ্গলবার রাতে। এবার প্রাণ হারান আজগর আলী বাবুল নামে আরেক আওয়ামী লীগ কর্মী। কাউন্সিলর পদে দল সমর্থিত প্রার্থী নজরুল ইসলাম বাহাদুরের সঙ্গে বিদ্রোহী প্রার্থী আবদুল কাদেরের অনুসারীদের সংঘর্ষ বাধলে নিহত হন বাবুল। এ ঘটনায় গুলিবিদ্ধ হয়ে হাসপাতালে আছেন আরও একজন। ঘটনার পর আবদুল কাদেরসহ ২৬ জনকে আটক করা হয়েছে। কাদেরসহ ১৩ জনকে আসামি করে গতকাল বুধবার ভোরে হয়েছে মামলাও। হামলা-পাল্টা হামলার এমন চিত্র ক্রমশ বাড়ছে চট্টগ্রামে। নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর থেকে এ পর্যন্ত বিভিন্ন ওয়ার্ডে আহত হয়েছেন অর্ধশতাধিক নেতাকর্মী।

বিশিষ্টজন বলছেন, এই চিত্র না পাল্টালে চট্টগ্রামে সহিংসতা বাড়বে আরও। পড়বে আরও লাশ।

জানতে চাইলে সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) চট্টগ্রাম জেলা শাখার সভাপতি অধ্যাপক সিকান্দার খান বলেন, নির্বাচন হওয়ার কথা উৎসবমুখর পরিবেশে। কিন্তু এখন হচ্ছে উল্টো। ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক দলের একাধিক প্রার্থী আছে বেশিরভাগ ওয়ার্ডে। আবার পেশিশক্তি দিয়ে ভোটে জয়লাভ করার চেষ্টাও করছেন কিছু প্রার্থী। এ জন্য হামলা-পাল্টা হামলার ঘটনা বাড়ছে। এটি এখনই শক্ত হাতে দমন করতে হবে নির্বাচন কমিশনকে। উৎসবমুখর পরিবেশ তৈরির জন্য এগিয়ে আসতে হবে প্রার্থীদেরও।

চসিক নির্বাচন ক্রমশ সহিংস হয়ে ওঠার নেপথ্যে রয়েছেন কাউন্সিলর পদের প্রার্থীরা। নগরের ৪১ ওয়ার্ডের মধ্যে ১৫টিতে এবার বর্তমান কাউন্সিলররা দলের সমর্থন পাননি। তাদের মধ্যে ১২ জন বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে ভোটের মাঠে আছেন। আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন ও দলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুবউল-আলম হানিফ একাধিকবার বৈঠক করে বিদ্রোহীদের নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানোর আহ্বান জানান। কিন্তু তাদের এই আহ্বানে সাড়া দিয়েছেন মাত্র ২ জন। এখনও ভোটের মাঠে বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে আছেন সদ্য সাবেক হওয়া ১০ কাউন্সিলর। এ জন্য হামলা ও পাল্টা হামলার ঘটনা ক্রমশ বাড়ছে। আধিপত্য বিস্তার করতে গিয়ে কাউন্সিলর প্রার্থীর অনুসারীরা সংঘর্ষে জড়াচ্ছেন। মেয়র পদে মানুষের আগ্রহ বেশি থাকলেও প্রধান এ পদের প্রার্থীদের অনুসারীরা বেপরোয়া আচরণ করেননি এখনও।

জানতে চাইলে আওয়ামী লীগ মনোনীত মেয়র প্রার্থী রেজাউল করিম চৌধুরী বলেন, ভোটের মাঠ উৎসবমুখর রাখতে তৎপর আছি আমরা। অনুসারীদের বলেছি সহনশীলভাবে প্রচার চালাতে। এ জন্য মেয়র পদ নিয়ে এখনও সহিংস কোনো ঘটনা ঘটেনি। কিন্তু কাউন্সিলর পদে একাধিক প্রার্থী থাকায় হামলা-পাল্টা হামলার ঘটনা ঘটছে।

বিএনপি মনোনীত মেয়র প্রার্থী ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, পেশিশক্তি দেখাতে প্রায় প্রতিদিনই হামলা-পাল্টা হামলায় জড়াচ্ছেন আওয়ামী লীগ সমর্থিত কাউন্সিলর প্রার্থীদের অনুসারীরা। এরই মধ্যে একাধিক লাশও পড়েছে। এ অবস্থা চলতে থাকলে নির্বাচনে আর উৎসবমুখর পরিবেশ থাকবে না।

কাদেরসহ ১১ আসামি রিমান্ডে :পাঠানটুলী এলাকায় গোলাগুলিতে আজগর আলী বাবুল হত্যা মামলায় প্রধান আসামি কাউন্সিলর প্রার্থী আবদুল কাদের ওরফে মাছ কাদেরসহ ১১ জনের তিন দিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত। গতকাল বুধবার চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট শফি উদ্দিনের আদালত শুনানি শেষে এ আদেশ দেন।

রিমান্ড মঞ্জুর হওয়া আসামিরা হলেন আবদুল কাদের, হেলাল উদ্দিন, ওবাইদুল করিম মিন্টু, আসাদ রায়হান, ইমরান হোসেন ডলার, দিদার উল্লাহ, মিনহাজ হোসেন ফরহাদ, শহিদুল ইসলাম ওরফে সাহেদ, জাহিদুল আলম জাহিদ, শহিদুল ইসলাম এবং আবদুর রহমান।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের পরিদর্শক শাহাদাত হোসেন খান বলেন, এজাহারনামীয় ছয়জন ও সন্দেহভাজন পাঁচজনসহ ১১ আসামিকে গ্রেপ্তার করে আদালতে হাজির করে ১০ দিনের রিমান্ড আবেদন করা হয়। আদালত তিন দিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করেন।