করোনাভাইরাসের টিকা নিয়ে দেশবাসীর অপেক্ষার অবসান ঘটল। ভারত সরকারের উপহার হিসেবে পাঠানো অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রাজেনেকার টিকা ২০ লাখ ডোজ গতকাল বৃহস্পতিবার বুঝে পেয়েছে সরকার। দুপুরে রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন পদ্মায় বাংলাদেশে ভারতের হাইকমিশনার বিক্রম দোরাইস্বামী স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেকের হাতে সেরাম ইনস্টিটিউটে উৎপাদিত টিকা আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেন। করোনাভাইরাসের টিকা পাওয়া নিয়ে সব ধরনের অনিশ্চয়তা দূর হলো। এখন শুরু হবে টিকাদানের পালা। তবে টিকাদানের সঠিক দিনক্ষণ এখনও চূড়ান্ত হয়নি।

তবে স্বাস্থ্য বিভাগের সূত্র বলছে, ভারত থেকে কেনা টিকার প্রথম চালানের ৫০ লাখ ডোজ আসার কথা রয়েছে আগামী সোমবার। ওই টিকা আসার পর ২৭ অথবা ২৮ জানুয়ারি রাজধানী ঢাকার একটি করোনা ডেডিকেটেড হাসপাতালে আনুষ্ঠানিকভাবে পর্যবেক্ষণমূলক টিকাদান শুরু হবে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভার্চুয়ালি সেই অনুষ্ঠানে যোগ দেবেন। প্রথম দিন সরাসরি করোনা আক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসায় যুক্ত স্বাস্থ্যকর্মীদের পাশাপাশি বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার ২০ থেকে ২৫ জনকে টিকা দেওয়া হবে। এরপর আরও বড় পরিসরে টিকাদান কার্যক্রম শুরু হবে ঢাকা মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল, মুগদা মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল, কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতাল এবং বাংলাদেশ-কুয়েত মৈত্রী হাসপাতালে। সেখানে ৪০০ থেকে ৫০০ জনকে টিকা দিয়ে সাত দিন পর্যবেক্ষণে রাখা হবে। এরপর গণটিকাদান শুরু হবে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা টিকাদান কর্মসূচির উদ্বোধন করবেন। প্রতিদিন দুই লাখ ডোজ করে প্রথম মাসে ৬০ লাখ ডোজ টিকা দেওয়া হবে।

পর্যবেক্ষণমূলক টিকাদানের ব্যাখ্যায় স্বাস্থ্য অধিদপ্তর বলছে, ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তর অক্সফোর্ডের টিকার জরুরি ব্যবহারের অনুমতি দিলেও দেশে এই টিকার ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল হয়নি। এ কারণে গণটিকাদান শুরুর আগে পরীক্ষামূলকভাবে প্রয়োগ করা হচ্ছে। টিকার পরীক্ষামূলক প্রয়োগে সাফল্যের পর সরকার গণটিকাদান কার্যক্রম শুরু করতে চায়।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক ডা. রওশন জাহান আক্তার আলো জানান, সর্বমোট ১৬৭ কার্টন টিকা এসেছে, যেখানে ২০ লাখ চার হাজার ডোজ টিকা আছে। প্রতি বক্সে আছে এক হাজার ২০০ ভায়াল টিকা। এক ভায়ালে ১০ জনকে টিকা দেওয়া যাবে।

উপহারের টিকা গ্রহণ করলেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী :পূর্ব ঘোষণা অনুযায়ী গতকাল সকাল সোয়া ১১টার দিকে ভারত সরকারের উপহারের টিকা বহনকারী এয়ার ইন্ডিয়ার একটি বিশেষ বিমান হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে। বিমানবন্দরে সব প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে সম্প্রসারিত টিকাদান কর্মসূচির পরিবহনে করে কিছু টিকা রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন পদ্মায় নিয়ে আসা হয়। সেখানে এক সংক্ষিপ্ত অনুষ্ঠানে ঢাকায় নিযুক্ত ভারতের হাইকমিশনার বিক্রম দোরাইস্বামী স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেকের হাতে উপহারের টিকা তুলে দেন। অনুষ্ঠানে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন, প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলমসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

উপহারের টিকা গ্রহণ করে স্বাস্থ্যমন্ত্রী ভারত সরকারকে ধন্যবাদ জানান। জাহিদ মালেক বলেন, বাণিজ্যিক চুক্তি অনুযায়ী ২৫ জানুয়ারির মধ্যে সেরাম ইনস্টিটিউট থেকে অক্সফোর্ডের টিকার আরও ৫০ লাখ ডোজ আসার কথা রয়েছে এবং সে অনুযায়ী টিকা আসবে। ফ্লাইট শিডিউল হাতে পেলে জানিয়ে দেব, কবে থেকে টিকা পাচ্ছি। এখনও ফ্লাইট শিডিউল পাইনি। তবে মাঝেমধ্যে ফ্লাইট শিডিউল এদিক-সেদিক হয়। তেমন হলে জানানো হবে। প্রতি মাসে ৫০ লাখ ডোজ করে মোট তিন কোটি ডোজ টিকা আসার কথা রয়েছে।

টিকাদান কবে নাগাদ শুরু হচ্ছে- সাংবাদিকদের এ-সংক্রান্ত প্রশ্নের জবাবে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, আজ (বৃহস্পতিবার) টিকা গ্রহণ করেছি। এখন বিতরণ নিয়ে পরিকল্পনা করছি। পরিকল্পনা শতভাগ তৈরি হয়ে গেছে, তা কিন্তু নয়। আগামী ছয় থেকে সাত দিনের মধ্যে টিকার একটি পর্যবেক্ষণমূলক ট্রায়াল করার চিন্তাভাবনা চলছে। সুনির্দিষ্ট দিনক্ষণ জানানো হবে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পর্যবেক্ষণমূলক এই ট্রায়ালে ভার্চুয়ালি যুক্ত হবেন। প্রধানমন্ত্রীর সিদ্ধান্ত পেলেই পর্যবেক্ষণমূলক ট্রায়াল শুরু হবে।

টিকার পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া নিয়ে কোনো গুজবে কান না দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, টিকা মানুষের জীবন রক্ষাকারী ওষুধ। যারা মানুষের জীবন নিয়ে ষড়যন্ত্র, রাজনীতি করে তারা সঠিক লোক নয়। আমরা করোনা মোকাবিলায় আছি, জীবন রক্ষায় আছি। এই মোকাবিলায় টিকা একটি অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ হাতিয়ার। এ জন্য কেউ যাতে জনসাধারণকে বিভ্রান্ত না করে, সে জন্য আহ্বান জানাচ্ছি।

অনুষ্ঠানে পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে মোমেন বলেন, 'আজকে একটি ঐতিহাসিক দিন, ভারত সরকার আমাদের ২০ লাখ টিকা উপহার হিসেবে দিয়েছে। এরপর চুক্তি অনুযায়ী আরও তিন কোটি ডোজ টিকা আসবে। টিকা দেওয়ার জন্য ভারত সরকার ও তাদের জনগণকে অসংখ্য ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানাই। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি দু'দেশের মধ্যে যে শক্তিশালী সম্পর্ক তৈরি করেছেন, তারই একটি পরিচয় বহন করে উপহারের এই টিকা।'

ভারতের হাইকমিশনার বিক্রম দোরাইস্বামী বলেন, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এবং বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার মধ্যে ভার্চুয়াল শীর্ষ সম্মেলনে আলোচনার ধারাবাহিকতায় উপহারের এই ২০ লাখ ডোজ টিকা এলো। ভারতে টিকাদান কার্যক্রম শুরুর চার দিনের মাথায় বাংলাদেশকে টিকা সরবরাহ করা হয়েছে। কারণ যাতে আমাদের বন্ধুরাষ্ট্রও একই সময়ে জনগণের ইমিউনিটি নিশ্চিত করতে পারে।

হাইকমিশনার আরও বলেন, প্রতিবেশী প্রথমে নীতির অংশ হিসেবে ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কের প্রতি ভারত সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেয়। কোভিশিল্ডের ২০ লাখ ডোজ উপহার ভারতের প্রতিবেশী কোনো দেশকে দেওয়া সবচেয়ে বড় সংখ্যা।

এদিকে গতকাল এক টুইটবার্তায় ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর ড. এস জয়শঙ্কর বলেছেন, 'ভ্যাকসিন মৈত্রীর' মাধ্যমে ভারত পুনর্ব্যক্ত করেছে যে সম্পর্কের ক্ষেত্রে বাংলাদেশই তাদের সর্বাধিক অগ্রাধিকার পাচ্ছে।

কোন ধাপে কারা টিকা পাবেন :খসড়া পরিকল্পনা অনুযায়ী তিন পর্যায়ের পাঁচটি ধাপে ১৩ কোটি ৮২ লাখ ৪৭ হাজার মানুষকে টিকার আওতায় আনা হবে। প্রথম পর্যায়ের প্রথম ধাপে মোট জনগোষ্ঠীর তিন শতাংশ বা ৫১ লাখ ৮৪ হাজার ২৮২ জনকে টিকা দেওয়া হবে। এই তিন শতাংশের মধ্যে রয়েছেন কভিড-১৯ চিকিৎসার সঙ্গে সরাসরি যুক্ত তিন লাখ ৩২ হাজার ২৭ জন সরকারি স্বাস্থ্যসেবা কর্মী। তাদের মধ্যে চিকিৎসক, নার্স এবং মিডওয়াইফারি পেশায় নিয়োজিত কর্মী, মেডিকেল ও প্যাথলজি ল্যাব কর্মী, পেশাদার স্বাস্থ্য ও পরিচ্ছন্ন কর্মী, সাইকোথেরাপির সঙ্গে সংশ্নিষ্টরা, মেডিসিন পারসোনেল, কমিউনিটি স্বাস্থ্যকর্মী ও অ্যাম্বুলেন্স চালকরা রয়েছেন। কভিড-১৯ চিকিৎসার সঙ্গে সরাসরি যুক্ত বেসরকারি খাতের ছয় লাখ কর্মীও টিকা পাবেন।

আরও পাবেন সরকারি-বেসরকারি স্বাস্থ্যসেবা কর্মী, যারা স্বাস্থ্যসেবার বিভিন্ন ধাপে কাজ করলেও সরাসরি কভিড-১৯ মোকাবিলার সঙ্গে যুক্ত নন। যেমন স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনা কর্মী, বাণিজ্য কর্মী, ক্লারিক, লন্ড্রি কর্মী, অ্যাম্বুলেন্সের পাশাপাশি অন্যান্য গাড়িচালক- এমন এক লাখ ২০ হাজার জনকেও টিকা দেওয়া হবে।

এ ছাড়া দুই লাখ ১০ হাজার মুক্তিযোদ্ধা, ফ্রন্টলাইনে কাজ করা পুলিশ, ট্রাফিক পুলিশ, আনসার, ভিডিপিসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পাঁচ লাখ ৪৬ হাজার ৬১৯ সদস্যকে টিকা দেওয়া হবে। সেনাবাহিনী, নেভি, বিমানবাহিনী, বিজিবি, র‌্যাব, কোস্টগার্ড ও প্রেসিডেন্ট গার্ডের তিন লাখ ৬০ হাজার ৯১৩ সদস্যও টিকা পাবেন। বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের ৫০ হাজার কর্মকর্তা এবং ফ্রন্টলাইনে কাজ করা ৫০ হাজার সাংবাদিক ও সংবাদকর্মীকেও টিকার আওতায় আনা হবে।

প্রথম ধাপে টিকা পাবেন এমপি, সিটি করপোরেশনের মেয়র, কাউন্সিলর, জেলা কাউন্সিল, উপজেলা পরিষদ, পৌরসভার কর্মী ও ইউনিয়ন পরিষদের জনপ্রতিনিধিরাও। তাদের সংখ্যা এক লাখ ৭৮ হাজার ২৯৮ জন। সিটি করপোরেশন ও পৌরসভার এক লাখ ৫০ হাজার কর্মীকেও টিকা দেওয়া হবে। টিকা পাবেন ধর্মীয় নেতারা। তাদের সংখ্যা পাঁচ লাখ ৪১ হাজার। আছেন দাফন ও সৎকারে নিয়োজিত ৭৫ হাজার কর্মী, ওয়াসা, ডেসা, তিতাস ও ফায়ার সার্ভিসের চার লাখ কর্মী। স্থল, সমুদ্র ও বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষের এক লাখ ৫০ হাজার কর্মী, প্রবাসী শ্রমিক এক লাখ ২০ হাজার।

টিকা পাবেন জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের সরকারি চার লাখ কর্মী। থাকবেন ব্যাংক কর্মী এক লাখ ৯৭ হাজার ৬২১ জন, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কম এমন রোগী ছয় লাখ ২৫ হাজার। বাফার, জরুরি ও মহামারি ব্যবস্থাপনায় নিয়োজিত ৭৭ হাজার ৮০৪ কর্মীও প্রথম ধাপে টিকার আওতায় আসবেন।

প্রথম পর্যায়ের দ্বিতীয় ধাপে ৭ শতাংশ বা এক কোটি ২০ লাখ ৯৬ হাজার ৬৫৭ প্রবীণ টিকা পাবেন। তাদের সবার বয়স ৬০ বছর বা এর চেয়ে বেশি। দ্বিতীয় পর্যায়ের একটি ধাপে ১১ থেকে ২০ শতাংশ বা এক কোটি ৭২ লাখ ৮০ হাজার মানুষ টিকা পাবেন। এই পর্যায়ে টিকা পাবেন ৫৫ বছর বা তার চেয়ে বেশি বয়সী নাগরিক ৫৫ লাখ ৬৬ হাজার ৭৫৭, কো-মরবিডিটিসহ স্বাস্থ্যঝুঁকিতে থাকা বয়স্ক ৩০ লাখ ২১ হাজার ৯৩৬, শিক্ষক ও সব ধরনের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের কর্মী ১৭ লাখ ৮৮ হাজার ৫৩, প্রথম পর্যায়ে বাদ পড়া গণমাধ্যম কর্মী ৫০ হাজার, দুর্গম এলাকায় বসবাসকারী ১০ লাখ ১১ হাজার ২২৮, আদিবাসী সম্প্রদায়ের সদস্য ১০ লাখ, গণপরিবহন কর্মী পাঁচ লাখ, হোটেল, রেস্তোরাঁ এবং ওষুধের দোকানের কর্মী দুই লাখ ৪২ হাজার ৯৬৪, গার্মেন্ট শ্রমিক ৩৬ লাখ, যৌনকর্মী ও তৃতীয় লিঙ্গের এক লাখ ৫০ হাজার সদস্য।

তৃতীয় ও সর্বশেষ পর্যায়ে মোট দুটি ধাপে টিকা দেওয়া হবে। এর মধ্যে প্রথম ধাপে ২১ থেকে ৪০ শতাংশ বা তিন কোটি ৪৫ লাখ ৬১ হাজার এবং দ্বিতীয় ধাপে ৪১ থেকে ৫০ শতাংশ বা ছয় কোটি ৯১ লাখ ২৩ হাজার মানুষকে টিকা দেওয়া হবে। তৃতীয় পর্যায়ের প্রথম ও দ্বিতীয় ধাপে টিকা পাননি এমন শিক্ষক ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের কর্মচারী ছয় লাখ ৬৭ হাজার ২০৪, অনুমোদন সাপেক্ষে প্রসূতি ৩৮ লাখ ১৫ হাজার ২০১, অন্যান্য সরকারি কর্মচারী ১২ লাখ ১৭ হাজার ৬২ জন।

অন্য আইন প্রয়োগকারী কর্মী ৪৩ লাখ, অন্য সিটি করপোরেশন ও পৌরসভার কর্মী ছয় লাখ, অন্যান্য স্বায়ত্তশাসিত ও আধাসরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মী ২২ লাখ, রপ্তানি ও শিল্প প্রতিষ্ঠানের কর্মী ২০ লাখ ৮১ হাজার ৮৮৪, বেসরকারি বিদ্যুৎকেন্দ্র ও বন্দর কর্মী ২৫ লাখ, কয়েদি ও জেলকর্মী এক লাখ ৫৮৬, শহরের বস্তিবাসী বা ভাসমান জনগোষ্ঠী ২২ লাখ ৩২ হাজার ১১৪, কৃষি ও খাদ্য সরবরাহের কাজে নিয়োজিত কর্মী ১৬ লাখ ৫০ হাজার, ডরমেটরির বাসিন্দা পাঁচ লাখ, গৃহহীন জনগোষ্ঠী দুই লাখ, অন্যান্য শিল্পপ্রতিষ্ঠানের কর্মী ৫১ লাখ ৫৪ হাজার ৮৪৪, বাদ পড়া গণপরিবহন কর্মী তিন লাখ, বাদ পড়া ৫০ থেকে ৫৪ বছর বয়সী নাগরিক ৬৫ লাখ ৪৬ হাজার ৩২৩, জরুরি ও মহামারি ব্যবস্থাপনায় নিয়োজিত চার লাখ ৯৬ হাজার ৬৫৯ কর্মী টিকা পাবেন।

তৃতীয় পর্যায়ের দ্বিতীয় ধাপে অর্থাৎ সর্বশেষ ধাপে টিকা পাবেন বাদ পড়া যুব জনগোষ্ঠী তিন কোটি ২২ লাখ ৩৪ হাজার, শিশু ও স্কুলগামী শিক্ষার্থী তিন কোটি ৪৭ হাজার ১৫৭ এবং আগের বাদ পড়া আট লাখ ৪২ হাজার ৫৯৭ জন।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. আবুল বাসার মোহাম্মদ খুরশীদ আলম সমকালকে বলেন, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার নির্দেশনা ও সরকারের গাইডলাইন মেনে টিকাদান কার্যক্রম সম্পন্ন করা হবে। প্রথমে কভিড-১৯ চিকিৎসার জন্য যুক্ত চিকিৎসক, নার্স ও স্বাস্থ্যকর্মীরা টিকা পাবেন। পরবর্তী সময়ে ধাপে ধাপে ঝুঁকিপূর্ণ বিবেচনায় দেশের সব মানুষ টিকার আওতায় আসবে।

তিনি বলেন, পরবর্তী ছয় মাসে মোট তিন কোটি ডোজ টিকা সেরাম থেকে আসবে। একই সঙ্গে কোভ্যাক্স থেকে মোট জনগোষ্ঠীর ২০ শতাংশ হারে ছয় কোটি ৮০ লাখ ডোজ টিকা পাওয়া যাবে। এর মাধ্যমে মোট পাঁচ কোটি মানুষ টিকার আওতায় আসবে। এই টিকা শেষ হওয়ার পর আগের পরিস্থিতি বুঝে টিকার ব্যবস্থা করা হবে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশনা অনুযায়ী দেশে সব মানুষ টিকার আওতায় আসবে। তবে টিকা পেতে সবাইকে ধৈর্য ধারণের আহ্বান জানান তিনি।







মন্তব্য করুন