সাহসী পদক্ষেপ নিতে শুরু করেছেন বাইডেন

সিনেটে পার পেয়ে যেতে পারেন ট্রাম্প

প্রকাশ: ২৪ জানুয়ারি ২০২১

সমকাল ডেস্ক

ক্ষমতা গ্রহণ করে গত দুই দিনে সাহসী পদক্ষেপ নেওয়া শুরু করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের ৪৬তম প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন। করোনাকালে বিপর্যস্ত অর্থনীতি ও দেশটির পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর সুরক্ষায় সুস্পষ্ট উদ্যোগ গ্রহণ করে তাদের পাশে দাঁড়াতে একের পর এক নির্বাহী আদেশ জারি করছেন। স্থানীয় সময় শুক্রবার এ সংক্রান্ত এক আদেশে সই করার আগে বাইডেন বলেন, 'আমি তো দেশের মানুষকে অভুক্ত থাকতে দিতে পারি না। আমরা এমন করতে পারি না, এমন করবও না।' এদিকে ক্যাপিটলে হামলার জন্য সদ্যসাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের অভিশংসন নিয়ে আগামী ৯ ফেব্রুয়ারি থেকে আনুষ্ঠানিক শুনানি শুরু হবে বলে সিনেটের পক্ষ থেকে নিশ্চিত করা হয়েছে। বিশ্নেষকরা বলছেন, এবার সিনেটে অভিশংসন থেকে খালাস পেয়ে যেতে পারেন ট্রাম্প।

করোনায় পর্যুদস্ত জনগোষ্ঠীর দুঃখ লাঘবে এরই মধ্যে প্রায় এক ডজন নির্বাহী আদেশে স্বাক্ষর করেছেন নতুন প্রেসিডেন্ট বাইডেন। তিনি বলেছেন, 'লোকজন কর্মহীন হয়ে পড়ে আছে- আমরা তা নীরব দর্শক হয়ে দেখে যেতে পারি না।' বাইডেন আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, যুক্তরাষ্ট্রে এরই মধ্যে চার লাখের বেশি মানুষ মারা গেছে। দেশে জরুরি অবস্থা বিরাজ করছে। ফেব্রুয়ারি মাসের মধ্যে করোনায় মৃতের সংখ্যা ছয় লাখ ছাড়াতে পারে।

বাইডেন আরও জানান, ক্ষুদ্র ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলোকে সর্বোচ্চ সহযোগিতা করার জন্য সব ফেডারেল কর্তৃপক্ষকে তিনি নির্দেশ দিয়েছেন। বাড়ি ভাড়া দিতে না পারার জন্য ভাড়াটে উচ্ছেদ স্থগিত রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। গৃহঋণ পরিশোধ না করার কারণে কোনো ব্যাংককে বাড়ি জব্দ না করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

ভিন্ন এক নির্বাহী আদেশে প্রেসিডেন্ট বাইডেন ফেডারেল নাগরিক প্রণোদনা দ্রুত নিশ্চিত করা ও জনগণের হাতে পৌঁছানো সহজ করার জন্য অর্থ বিভাগের প্রতি নির্দেশ দিয়েছেন।

সিনেটে খালাস পেয়ে যেতে পারেন ট্রাম্প :ট্রাম্প হয়তো ২০২৪ সালেও প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার সুযোগ পেয়ে যেতে পারেন। বাইডেনের অভিষেক অনুষ্ঠানের আগে ৬ জানুয়ারি ক্যাপিটল হিলে ট্রাম্প সমর্থকরা তা ব চালিয়েছিল। ওই তা বে উস্কানি দেওয়ার অভিযোগে ট্রাম্পের বিরুদ্ধে সিনেটে অভিশংসন শুনানি শুরু হচ্ছে ৯ ফেব্রুয়ারি। ২০১৯ সালের মতো এবারও তিনি সিনেটে খালাস পেয়ে যেতে পারেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। সিনেটে ট্রাম্পের বিরুদ্ধে যেসব অভিযোগ আনা হয়েছে, তা অনেক দুর্বল প্রকৃতির। এ ছাড়া নিজের দল রিপাবলিকান পার্টি এখনও ট্রাম্পকে আশ্বাস দিয়ে যাচ্ছে- দল তার পক্ষেই আছে।

স্থানীয় সময় শুক্রবার সিনেটের নতুন সংখ্যাগরিষ্ঠ দল ডেমোক্রেটিক পার্টির নেতা চাক শুমার নিশ্চিত করেছেন, ট্রাম্পের অভিশংসন শুনানি ৯ ফেব্রুয়ারিই শুরু হবে। তবে এ বিচার শুরু করা বিষয়ে তাড়াহুড়া না করতে মত দিয়েছেন রিপাবলিকান পার্টির নেতারা। তাদের দাবি, বিচার মোকাবিলা করতে ট্রাম্পের আইনজীবীদের সময় দেওয়া উচিত। এ দাবির পরিপ্রেক্ষিতে তাদের দুই সপ্তাহ সময় দেওয়া হয়েছে।

১৩ জানুয়ারি প্রতিনিধি পরিষদে ২৩২/১৯৭ ভোটে অভিশংসিত হন ট্রাম্প। ১০ রিপাবলিকান আইনপ্রণেতা অভিশংসনের পক্ষে ভোট দেন। তবে সিনেটে ট্রাম্পকে অভিশংসন করার জন্য দুই-তৃতীয়াংশ অর্থাৎ ১০০ জনের মধ্যে ৬৭ জনের ভোট লাগবে। শেষ পর্যন্ত এটি জোগাড় করা হয়তো সম্ভব হবে না। সূত্র বিবিসি, এএফপি ও সিএনএন।