চসিক নির্বাচন: দুই প্রধান মেয়র প্রার্থীর ইশতেহার

স্বাবলম্বী চট্টগ্রাম গড়তে রেজাউলের ৩৭ প্রতিশ্রুতি

প্রকাশ: ২৪ জানুয়ারি ২০২১     আপডেট: ২৪ জানুয়ারি ২০২১

চট্টগ্রাম ব্যুরো

অঙ্গীকারের নামে নগরবাসীকে 'স্বপ্নের বিরিয়ানি' খাওয়াতে চান না রেজাউল করিম চৌধুরী। নগরের বিশাল জনগোষ্ঠীকে নূ্যনতম সেবা দিয়েই যোগ্যতার পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে চান তিনি। চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন নির্বাচন উপলক্ষে শনিবার ইশতেহার ঘোষণার অনুষ্ঠানে এমন মন্তব্য করেন আওয়ামী লীগ দলীয় প্রার্থী। ইশতেহারে ১২টি ইস্যুতে ৩৭ দফা উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি ঘোষণা করেছেন তিনি। জলাবদ্ধতা নিরসনের বিষয়টিকে অগ্রাধিকার দিয়ে ইশতেহারে ব্যতিক্রম হিসেবে রেখেছেন তিনি ১০০ দিনের কর্মসূচি। অতীতের সব ভুল ছুড়ে ফেলে চট্টগ্রামকে বিশ্বমানের নগর হিসেবে গড়ে তোলার প্রত্যয়ও ব্যক্ত করেন আওয়ামী লীগের মেয়র প্রার্থী। দলের শীর্ষ নেতাদের নিয়ে রেজাউল নিজেই ইশতেহার পড়ে শোনান। পরে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নেরও জবাব দেন তিনি।

নগর উন্নয়ন এবং পরিচালনায় আলাদাভাবে আরও কিছু প্রতিশ্রুতি তুলে ধরেন নৌকার প্রার্থী। নির্বাচিত হলে তিনি যানজট সমস্যা থেকে উত্তরণ, সড়কে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা, নালা-নর্দমা, খাল-নদী থেকে দখলদার উচ্ছেদ ও সুষ্ঠু বর্জ্য ব্যবস্থাপনার ঘোষণা দেন তিনি। চট্টগ্রামকে পর্যটন রাজধানী হিসেবে গড়ে তোলা, হোল্ডিং ট্যাক্স সহনীয় পর্যায়ে রাখা, সমন্বয়কের ভূমিকা পালন করে চলমান উন্নয়ন প্রকল্প চলমান রাখা ও সিটি করপোরেশনকে আর্থিকভাবে স্বাবলম্বী করার প্রতিশ্রুতিও দেন রেজাউল করিম। চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের অডিটোরিয়ামে এসব প্রতিশ্রুতি ঘোষণা করেন তিনি।

আওয়ামী লীগ থেকে নির্বাচিত আগের মেয়র এবিএম মহিউদ্দিন চৌধুরী ১৯৯৪ সালে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের প্রথম নির্বাচনে ২৮ দফা উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি দিয়ে ভোটের মাঠে লড়েছিলেন। ২১ বছর পর ২০১৫ সালে ৩৫ দফা উন্নয়নের স্বপ্ন দেখিয়ে ভোটের মাঠে জেতেন আরেক আওয়ামী লীগ নেতা আ জ ম নাছির উদ্দীন। মহিউদ্দিন-নাছিরের উত্তরসূরি হয়ে এবার রেজাউল করিম চৌধুরী দিলেন উন্নয়নের ৩৭ দফা প্রতিশ্রুতি।

নৌকার মেয়র প্রার্থী বলেন, অঙ্গীকারের স্বপ্নের কাচ্চি বিরিয়ানি নয়, নগরের বিপুল জনগোষ্ঠীকে নূ্যনতম সেবা দিতে পারাটাই আসল যোগ্যতা। সবার সহযোগিতা পেলে যোগ্যতার পরীক্ষায় জিতব বলে আন্তরিকভাবে বিশ্বাস করি। এ সময় আওয়ামী লীগের উপদেষ্টামণ্ডলীর সদস্য শিক্ষাবিদ অনুপম সেন, কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক এস এম কামাল হোসেন, উত্তর জেলা কমিটির সভাপতি এম এ সালাম, নগর কমিটির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মাহতাব উদ্দিন চৌধুরী ও সাধারণ সম্পাদক সাবেক মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীন, দক্ষিণ জেলার সাধারণ সম্পাদক মফিজুর রহমান উপস্থিত ছিলেন।

৩৭ দফা প্রতিশ্রুতির মধ্যে আওয়ামী লীগ প্রার্থী সর্বাধিক গুরুত্ব দিয়েছেন জলাবদ্ধতা নিরসনকে। এই সমস্যা সমাধান ছাড়া চট্টগ্রামকে বাণিজ্যিক রাজধানী করা সম্ভব নয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি। এজন্য চলমান মেগা প্রকল্পগুলো ঠিকমতো বাস্তবায়নে মনোযোগী থাকবেন তিনি। নগরীর দখল হয়ে যাওয়া খাল-নালা-নদী পুনরুদ্ধার ও পানি নিস্কাশনের উপযোগী করতে ১০০ দিনের মধ্যে সব ত্রুটি ও প্রতিবন্ধকতা চিহ্নিত করে তা নির্মূলে আইনের কঠোর প্রয়োগ নিশ্চিত করবেন বলেও জানান তিনি। তবে রেজাউলের ইশতেহারে নগরীর মশক নিধন নিয়ে পরিকল্পনা ছিল না। এটি নিয়ে সাংবাদিকরা প্রশ্ন তুললে তিনি 'নগরবাসীকে নিয়ে সব সমস্যা সমাধান করবেন ' বলে উল্লেখ করেন।

গৃহকর নিয়ে বিতর্ক এড়াতে রেজাউল ডিজিটাল গৃহশুমারির প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। তিনি জানিয়েছেন, বাড়িওয়ালা-ভাড়াটিয়া কেউ যেন ক্ষতিগ্রস্ত না হন, সেভাবে যৌক্তিক হারে গৃহকর নির্ধারণ করা হবে। নাগরিক সেবা চালু রাখতে করদাতাদের স্বচ্ছতা-দায়বদ্ধতাও পূর্বশর্ত বলে তিনি মন্তব্য করেন। অপরিকল্পিত স্থাপনা তৈরি, সড়ক ও ফুটপাত দখল কঠোরভাবে নিরুৎসাহিত করার কথাও জানান রেজাউল। স্বল্প খরচে শিক্ষার মানসম্মত বিকাশে সর্বোচ্চ মনোযোগ দেওয়ার কথা জানান তিনি। স্বাস্থ্য খাতের উন্নয়নে নগরীর ধনাঢ্য ব্যক্তি এবং করপোরেট গ্রুপগুলোকে যুক্ত করার ইচ্ছার কথা জানান রেজাউল। তিনি বলেন, আর্থিক সহায়তা পেলে সিটি করপোরেশনের উদ্যোগে মেডিকেল কলেজ ও পাঁচশ শয্যার হাসপাতাল চালু করার ইচ্ছা আছে।

বর্জ্য অপসারণে নজরদারি বাড়ানোর কথা বলেন রেজাউল। তিনি বলেন, পলিথিন ও প্লাস্টিক বর্জ্যের ডাম্পিং ইয়ার্ড করে রিসাইক্লিং প্লান্ট তৈরি করব। পর্যটন সুবিধা কাজে লাগিয়ে ও সৈকতে পর্যটনের আধুনিক সুবিধা যোগ করে নগর উন্নয়নে বাড়তি আয়ের ওপরও জোর দেবেন বলে জানান তিনি। এছাড়া সড়কে শৃঙ্খলা ফেরাতে ডিজিটাল ট্রাফিক সিস্টেম ও নিরাপদ পথচারী পারাপারে আন্ডারপাস চালু করতে চান। যানজট নিরসনে সংশ্নিষ্ট সব পক্ষের সঙ্গে বসে যত দ্রুত সম্ভব তা দূর করার দিকে মনোযোগ দেবেন আওয়ামী লীগ প্রার্থী।

সিটি করপোরেশনের সব কার্যক্রমকে ডিজিটাল নেটওয়ার্কের আওতায় আনতে সব উন্নয়ন ও সেবা খাতকে এক ছাতার নিচে আনার ঘোষণা দেন তিনি। নাগরিক তথ্যসেবাসহ সব সেবা কেন্দ্রীয় সার্ভার নেটওয়ার্কের আওতায় আনারও ঘোষণা দেন তিনি। চসিকের ১২০০ কোটি টাকার দেনা নিয়ে রেজাউলকে করা সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তর দেন সাবেক মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীন। তিনি বলেন, দেনা ১২০০ কোটি টাকা না, এক হাজার কোটি টাকার মতো।