দেশের চিত্র

করোনায় মৃত্যু আট হাজার ছাড়াল

প্রকাশ: ২৪ জানুয়ারি ২০২১

সমকাল প্রতিবেদক

করোনায় মৃত্যু আট হাজার ছাড়াল

প্রতীকী ছবি

দেশে প্রাণঘাতী করোনাভাইরাস সংক্রমণে মৃতের সংখ্যা আট হাজার ছাড়াল। গত ২৪ ঘণ্টায় আরও ২২ জনের মৃত্যুর মধ্য দিয়ে সংক্রমণের ৩২২তম দিনে এসে মোট আট হাজার তিনজনের মৃত্যু হলো। একই সঙ্গে গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে আরও ৪৩৬ জনের শরীরে করোনাভাইরাস শনাক্ত হয়েছে। এর মধ্য দিয়ে মোট আক্রান্তের সংখ্যা পাঁচ লাখ ৩১ হাজার ৩২৬ জনে পৌঁছাল। এর বিপরীতে গত ২৪ ঘণ্টায় করোনা আক্রান্ত ৩৩৮ জন সুস্থ হয়ে উঠেছেন। এ নিয়ে করোনা আক্রান্ত  মোট চার লাখ ৭৫ হাজার ৮৯৯ জন সুস্থ হয়ে উঠলেন।

করোনায় মৃতদের তথ্য-উপাত্ত বিশ্নেষণে দেখা যায়, সারাদেশের মধ্যে প্রায় ৫৬ শতাংশ মৃত্যু নিয়ে শীর্ষে অবস্থান করছে ঢাকা বিভাগ। সবচেয়ে কম মৃত্যু নিয়ে সবার শেষে রয়েছে ময়মনসিংহ বিভাগ। মৃতদের তিন-চতুর্থাংশের বেশি পুরুষ। মৃতদের মধ্যে ৫৫ শতাংশের বয়স ৬০ বছরের ওপরে। করোনার সংক্রমণ ও মৃতের পরিসংখ্যান বিশ্নেষণ করে দেখা যায়, গত দেড় মাসে সংক্রমণ কমে এসেছে। তবে মৃত্যুহার কমেনি। গত দেড় মাসে প্রতিদিন গড়ে ২৩ জনের বেশি মানুষ মৃত্যুবরণ করেছেন।

মৃতের পরিসংখ্যান

প্রথম মৃত্যু :দেশে করোনার প্রথম সংক্রমণ শনাক্ত হয় গত ৮ মার্চ। এর ১০ দিনের মাথায় ১৮ মার্চ প্রথম একজনের মৃত্যু হয়।

মৃত্যু ১০০০ ছাড়ায় :করোনা সংক্রমণের ৯৫ দিনের মাথায় গত ১০ জুন মৃতের সংখ্যা হাজার ছাড়ায়। ওইদিন ৩৭ জনের মৃত্যুর ফলে মোট মৃতের সংখ্যা এক হাজার ১২ জনে পৌঁছায়। ওইদিন মোট আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়ায় ৭৪ হাজার ৮৬৫ জনে। ওইদিন কাতারকে পেছনে ফেলে বাংলাদেশ সংক্রমিত দেশগুলোর মধ্যে ১৯ নম্বরে উঠে আসে।

মৃত্যুর সারিতে ২০০০ :সংক্রমণের ১২০ দিনের মাথায় ৫ জুলাই মৃতের সংখ্যা দুই হাজার ছাড়ায়। ওইদিন মোট আক্রান্তের সংখ্যা দুই হাজার ৫২ এবং মোট আক্রান্তের সংখ্যা এক লাখ ৬২ হাজার ৪১৭ জনে পৌঁছায়।

মৃতের সংখ্যা ৩০০০ :সংক্রমণের ১৪৩ দিনের মাথায় ২৮ জুলাই মৃতের সংখ্যা তিন হাজারে পৌঁছায়। ওইদিন পর্যন্ত করোনায় আক্রান্তের সংখ্যা দুই লাখ ২৯ হাজার ১৮৫ জনে পৌঁছায়।

মৃত্যু ৪০০০ :সংক্রমণের ১৭১ দিনের মাথায় ২৫ আগস্ট মৃতের সংখ্যা চার হাজার ২৮ এবং আক্রান্তের সংখ্যা দুই লাখ ৯৯ হাজার ৬২৮ জনে পৌঁছায়।

মৃত্যু ছাড়ায় ৫০০০ :সংক্রমণের ১৯৯তম দিনে ২২ সেপ্টেম্বর মৃতের সংখ্যা পাঁচ হাজার ৭ এবং আক্রান্তের সংখ্যা তিন লাখ ৫২ হাজার ১৭৮ জনে পৌঁছায়।

মৃত্যু ছাড়ায় ৬০০০ :সংক্রমণের ২৪২তম দিনে ৪ নভেম্বর মৃতের সংখ্যা ছয় হাজার ৪ এবং আক্রান্তের সংখ্যা চার লাখ ১৪ হাজার ১৬৪ জনে পৌঁছায়।

মৃত্যু ৭০০০ ছাড়াল :সংক্রমণের ২৮০তম দিনে ১২ ডিসেম্বর মৃতের সংখ্যা সাত হাজার ২০ এবং আক্রান্তের সংখ্যা চার লাখ ৮৯ হাজার ১৭৮ জনে পৌঁছায়।

মৃত্যুর সারিতে ৮০০০ :সংক্রমণের ৩২২তম দিনে গতকাল মৃতের সংখ্যা আট হাজার তিনজনে এবং আক্রান্তের সংখ্যা পাঁচ লাখ ৩১ হাজার ৩২৬ জনে পৌঁছাল।

সংক্রমণ কমলেও মৃত্যু কমছে না :সংক্রমণের ৭৯ দিনের মাথায় ২৫ মে মৃতের সংখ্যা পাঁচশ ছাড়ায়। এরপর দ্রুতই আক্রান্তের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে মৃতের সংখ্যাও বাড়তে থাকে। মৃতের সংখ্যা পাঁচশ থেকে এক হাজার ছাড়াতে সময় লাগে মাত্র ১৬ দিন। সংক্রমণের ৯৫ দিনের মাথায় ১০ জুন মৃত্যু এক হাজার ১২ জনে পৌঁছায়। সংক্রমণের ১২০তম দিনে ৫ জুলাই মৃতের সংখ্যা দুই হাজার অতিক্রম করে। অর্থাৎ ২৫ দিনে এক হাজার ৪০ জন মৃত্যুবরণ করেন। সংক্রমণের ১৪৩তম দিনে ২৮ জুলাই মৃতের সংখ্যা তিন হাজারে পৌঁছায়। অর্থাৎ ২৩ দিনে ৯৪৮ জন মৃত্যুবরণ করেন।

সংক্রমণের ১৭১তম দিনে ২৫ আগস্ট মৃতের সংখ্যা চার হাজার ২৮ জনে পৌঁছায়। অর্থাৎ ২৫ দিনে এক হাজার ২৮ জন মৃত্যুবরণ করেন। সংক্রমণের ১৯৯তম দিনে ২২ সেপ্টেম্বর মোট মৃতের সংখ্যা পাঁচ হাজার ৭ জনে পৌঁছায়। অর্থাৎ ২৮ দিনে ৯৭৯ জন মৃত্যুবরণ করেন। সংক্রমণের ২৪২তম দিনে ৪ নভেম্বর মৃতের সংখ্যা ছয় হাজার ৪ জনে পৌঁছায়। অর্থাৎ ৪৩ দিনে ৯৯৭ জন মৃত্যুবরণ করেন। সংক্রমণের ২৮০তম দিনে ১২ ডিসেম্বর মৃতের সংখ্যা সাত হাজার ২০ জনে পৌঁছায়। অর্থাৎ ৩৮ দিনে এক হাজার ১৬ জন মৃত্যুবরণ করেন। সংক্রমণের ৩২২তম দিনে গতকাল ২৩ জানুয়ারি মৃতের সংখ্যা আট হাজার ৩ জনে পৌঁছাল। সর্বশেষ ৪২ দিনে ৯৮৩ জনের মৃত্যু হলো। করোনায় প্রতিদিন গড়ে ২৫ জন করে মৃত্যুবরণ করেছেন। সর্বশেষ ৪২ দিনে প্রতিদিন গড়ে ২৩ জনের ওপরে মানুষ মৃত্যুবরণ করেছেন।

৫৬ শতাংশ মৃত্যুই ঢাকায় :তথ্য-উপাত্ত বিশ্নেষণ করে দেখা যায়, মোট মৃতের ৫৫ দশমিক ৬৩ শতাংশই ঢাকা বিভাগের বাসিন্দা। মোট আট হাজার ৩ জনের প্রাণহানির মধ্যে ঢাকা বিভাগে চার হাজার ৪৫২ জন। দ্বিতীয় স্থানে থাকা চট্টগ্রাম বিভাগে এক হাজার ৪৬৬ জন মৃত্যুবরণ করেছেন। মৃত্যুর হার ১৮ দশমিক ৩২ শতাংশ। তৃতীয় স্থানে থাকা খুলনা বিভাগে ৫৪৫ জন মারা গেছেন। মৃত্যুর হার ৬ দশমিক ৮১ শতাংশ। চতুর্থ স্থানে থাকা রাজশাহী বিভাগে মৃত্যু হয়েছে ৪৫৬ জনের। মৃত্যুর হার ৫ দশমিক ৭০ শতাংশ। পঞ্চম স্থানে থাকা রংপুর বিভাগে ৩৫৫ জনের মৃত্যু হয়েছে। মৃত্যুহার ৪ দশমিক ৪৪ শতাংশ। ষষ্ঠ স্থানে থাকা সিলেট বিভাগে ৩০১ জনের মৃত্যু হয়েছে। মৃত্যুহার ৩ দশমিক ৭৬ শতাংশ। সপ্তম স্থানে থাকা বরিশাল বিভাগে ২৪১ জন মৃত্যুবরণ করেছেন। মৃত্যুহার ৩ দশমিক শূন্য ১ শতাংশ এবং সবচেয়ে কম ১৮৭ জন মৃত্যুবরণ করেছেন ময়মনসিংহ বিভাগে। এই বিভাগে মৃত্যুহার ২ দশমিক ৩৪ শতাংশ।

মৃতদের ৭৬ শতাংশ পুরুষ :মৃতদের লিঙ্গভিত্তিক বিশ্নেষণে দেখা যায়, পুরুষ করোনায় বেশি মৃত্যুবরণ করেছেন। এ পর্যন্ত মৃতদের মধ্যে ছয় হাজার ৬৪ জন পুরুষ এবং নারীর সংখ্যা এক হাজার ৯৩৯ জন। পুরুষের মৃত্যুহার ৭৫ দশমিক ৭৭ শতাংশ এবং নারীদের মৃত্যুহার ২৪ দশমিক ২৩ শতাংশ।

বেশি মৃত্যু প্রবীণদের :বয়স বিশ্নেষণে দেখা যায়, মোট মৃতের ৫৫ শতাংশের বেশির বয়স ৬০ বছরের ওপরে। ৬০ বছরের ওপরের বয়সীরা মারা গেছেন মোট চার হাজার ৪১৪ জন। মৃত্যুহার ৫৫ দশমিক ১৫ শতাংশ। দ্বিতীয় স্থানে রয়েছেন ৫১ থেকে ৬০ বছর বয়সী দুই হাজার ১২ জন। মৃত্যুহার ২৫ দশমিক ১৪ শতাংশ। তৃতীয় স্থানে রয়েছেন ৪১ থেকে ৫০ বছর বয়সী ৯১৯ জন। মৃত্যুহার ১১ দশমিক ৪৮ শতাংশ। চতুর্থ স্থানে রয়েছেন ৩১ থেকে ৪০ বছর বয়সী ৩৯৮ জন। মৃত্যুহার ৪ দশমিক ৯৭ শতাংশ। পঞ্চম স্থানে রয়েছেন ২১ থেকে ৩০ বছর বয়সী ১৬৩ জন। মৃত্যুহার ২ দশমিক শূন্য ৪ শতাংশ। ষষ্ঠ স্থানে রয়েছেন ১১ থেকে ২০ বছর বয়সী ৬১ জন। মৃত্যুহার শূন্য দশমিক ৭৬ শতাংশ। সর্বশেষ স্থানে রয়েছে শূন্য থেকে ১০ বছর বয়সী ৩৬ জন। মৃত্যুহার শূন্য দশমিক ৪৫ শতাংশ।

গতকাল শনিবার গণমাধ্যমে পাঠানো স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় ২০০টি ল্যাবে ১১ হাজার ৭টি নমুনা সংগ্রহ করা হয়। আগের দিনেরসহ মোট নমুনা পরীক্ষা করা হয় ১১ হাজার ১১৫টি। এ পর্যন্ত মোট নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে ৩৫ লাখ ৪১ হাজার ৩৮৯ জনের। গত ২৪ ঘণ্টায় নমুনা পরীক্ষার বিপরীতে শনাক্তের হার ৩ দশমিক ৯২ শতাংশ। মোট শনাক্তের হার ১৫ শতাংশ। সুস্থতার হার ৮৯ দশমিক ৫৭ শতাংশ। মৃত্যুর হার ১ দশমিক ৫১ শতাংশ।