বিচার চায় আওয়ামী লীগের দু'পক্ষই

বসুরহাটে ১৪৪ ধারা জারি

প্রকাশ: ২২ ফেব্রুয়ারি ২০২১

নোয়াখালী ও কোম্পানীগঞ্জ প্রতিনিধি

বিচার চায় আওয়ামী লীগের দু'পক্ষই

সাংবাদিক মোজাক্কির হত্যার বিচার দাবিতে রোববার নোয়াখালী প্রেস ক্লাবের মানববন্ধন- সমকাল

নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জে আওয়ামী লীগের দু'পক্ষের সংঘর্ষের সময় গুলিবিদ্ধ হয়ে সাংবাদিক বুরহান উদ্দিন মোজাক্কির নিহতের প্রতিবাদে বিক্ষোভ হয়েছে। গতকাল রোববার সকালে বসুরহাট বাজারে পৌর মেয়র আবদুল কাদের মির্জার অনুসারীরা বিক্ষোভ মিছিল বের করেন। অন্যদিকে উপজেলার চাপরাশিরহাট বাজারে সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান বাদলের নেতৃত্বেও বিক্ষোভ মিছিল হয়। উভয়পক্ষই সাংবাদিক মোজাক্কির হত্যার বিচার দাবি করেছে।

এদিকে বিদ্যমান উত্তেজনাকর পরিস্থিতিতে কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার বসুরহাট পৌর এলাকায় ১৪৪ ধারা জারি করা হয়েছে। আজ সোমবার সকাল ৬টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত এ আদেশ কার্যকর থাকবে। গতকাল রোববার রাতে সমকালকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা পরিষদের নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জিয়াউল হক মীর।

গত শুক্রবার কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার চাপরাশিরহাট বাজারে আওয়ামী লীগের দু'পক্ষে ব্যাপক সংঘর্ষ ও গোলাগুলি হয়। এ ঘটনার সংবাদ সংগ্রহ করতে গিয়ে গুলিবিদ্ধ হন মোজাক্কির। শনিবার রাতে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান তিনি। মোজাক্কিরের মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে পৌর মেয়র আবদুল কাদের মির্জার নেতৃত্বে শনিবার রাতেই বসুরহাট বাজারে বিক্ষোভ মিছিল হয়। পরে তারা বঙ্গবন্ধু চত্বরে সমাবেশ করেন।

সাংবাদিক মোজাক্কির নিহত হওয়ার প্রতিবাদে নোয়াখালীতে মানববন্ধন ও সমাবেশ করেছেন জেলায় কর্মরত সাংবাদিকরা। গতকাল দুপুর ১২টায় নোয়াখালী প্রেস ক্লাবের সামনের সড়কে ঘণ্টাব্যাপী এ কর্মসূচি পালিত হয়। সমাবেশে সাংবাদিক নেতৃবৃন্দ, আইনজীবী, মানবাধিকার কর্মী, উন্নয়নকর্মীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার প্রতিনিধিরা বক্তব্য দেন। তারা মোজাক্কিরের খুনিদের গ্রেপ্তারে প্রশাসনকে ২৪ ঘণ্টার আলটিমেটাম দেন। প্রকৃত অপরাধীদের খুঁজে বের করতে প্রশাসন ব্যর্থ হলে কঠোর আন্দোলনের হুমকি দেন তারা। চাটখিল প্রেস ক্লাবসহ বিভিন্ন স্থানেও বিক্ষোভ হয়েছে।

এদিকে, দু'পক্ষের সংঘর্ষের ঘটনায় মামলা হয়েছে। শনিবার রাতে উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান বাদল ৬৪৪ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেন। মামলায় কাদের মির্জাকে আসামি করা হয়নি। তার অনুসারী আওয়ামী লীগ নেতা ও চরফকিরা ইউপি চেয়ারম্যান জামাল উদ্দিন লিটনকে প্রধান আসামি করা হয়েছে। কোম্পানীগঞ্জ থানার ওসি মীর জাহিদুল হক রনি এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

এ ছাড়া মেয়র আবদুল কাদের মির্জা গ্রুপের গোলাম ছারওয়ার বাদী হয়ে ৫১ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতপরিচয় ৫০-৬০ জনকে আসামি করে শুক্রবার রাতে কোম্পানীগঞ্জ থানায় মামলা করেছেন। মামলা দুটির বিষয় গোপন ছিল। গতকাল তা প্রকাশ করা হয়।