খালেদা জিয়ার বিদেশে চিকিৎসায় নিষেধাজ্ঞা বাতিল চায় বিএনপি

প্রকাশ: ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২১

সমকাল প্রতিবেদক

বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার চিকিৎসার ক্ষেত্রে সরকারের বিধিনিষেধ প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছে দলটি। বিএনপি নেতারা বলছেন, তার প্রয়োজনীয় চিকিৎসা এখানে সম্ভব নয়। তাকে দেশের বাইরে নেওয়া দরকার হতে পারে। এ ব্যাপারে সরকারের নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করা হোক যাতে তিনি চিকিৎসার জন্য যখন যেখানে প্রয়োজন যেতে পারেন।

বিএনপির সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম জাতীয় স্থায়ী কমিটির এক বৈঠকে এ দাবি জানানো হয়। শনিবার ওই বৈঠক হয়। গতকাল সোমবার রাজধানীর গুলশানে দলের চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান বৈঠকের ওই সিদ্ধান্তের কথা জানান।

তিনি বলেন, খালেদা জিয়ার চিকিৎসায় নিষেধাজ্ঞা অমানবিক ও অযৌক্তিক। এ দেশে অসুস্থতার কারণে রাজনৈতিক নেতাদের বাইরে যাওয়ার বহু দৃষ্টান্ত আছে। এমনকি জেলে থাকা অবস্থায়ও বাইরে যাওয়ার দৃষ্টান্ত আছে। কিন্তু এ ব্যাপারে  খালেদা জিয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে। এটা প্রত্যাহার করা হোক।

বিএনপি নেত্রীর সাজা স্থগিতের মেয়াদও শেষ হয়ে আসছে। এ পরিপ্রেক্ষিতে বিএনপির চাওয়া কি জানতে চাইলে নজরুল ইসলাম খান বলেন, 'আমরা তার নিঃশর্ত মুক্তি দাবি করি। কারণ তাকে সাজাই দেওয়া হয়েছে অন্যায়ভাবে, বিনা অপরাধে। এখন তাকে মুক্তি দেওয়া হচ্ছে না, কারণ তিনি সরকারের আপনজন না, প্রতিপক্ষ। সরকার তার প্রতি যে আচরণ করছে সেটা প্রতিপক্ষের মতো না, শত্রুর মতো।'

তিনি বলেন, সবার জন্য সরকারের আচরণ সমান হওয়া উচিত। সেটা প্রমাণ করার জন্য হলেও অবিলম্বে খালেদা জিয়াকে নিঃশর্ত মুক্তি দেওয়া। বিএনপি চেয়ারপারসন এখন কেমন আছেন জানতে চাইলে নজরুল ইসলাম খান বলেন, 'এ ব্যাপারে তার চিকিৎসক টিম এবং তার আত্মীয়স্বজনের বক্তব্য বিভিন্ন সময় প্রকাশ পেয়েছে। এর বাইরে বলার কিছু নেই। কারণ আমরা তার সঙ্গে দেখাই করতে পারি না। যতটুকু জানি, তিনি ভীষণ অসুস্থ।'

নজরুল ইসলাম খান জানান, অ্যাটর্নি জেনারেল এএম আমিন উদ্দিনকে আওয়ামী লীগের তথ্য ও গবেষণা উপকমিটিতে নিয়োগ করায় বিস্ময় ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছে বিএনপির স্থায়ী কমিটি। বৈঠকে বলা হয়, একটি সাংবিধানিক পদের অধিকারীকে দলীয় পদে নিযুক্ত করা নিঃসন্দেহে রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ আইন কর্মকর্তার কার্যালয়কে নগ্ন দলীয়করণের অপচেষ্টা ও একটি অত্যন্ত খারাপ দৃষ্টান্ত। দেশের বিচার বিভাগের ভাবমূর্তি ও রাষ্ট্রের প্রধান আইন কর্মকর্তার পদের নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করার জন্য তার উচিত হয় দলীয় পদ কিংবা অ্যাটর্নি জেনারেলের পদ ছেড়ে দেওয়া।

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সভাপতিত্বে স্থায়ী কমিটির ভার্চুয়াল বৈঠকে সিঙ্গাপুরে চিকিৎসাধীন দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকার, মির্জা আব্বাস, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, ড. আবদুল মঈন খান, নজরুল ইসলাম খান, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, সেলিমা রহমান ও ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু যুক্ত ছিলেন।

বৈঠকে সম্প্রতি নড়াইলের আদালতে খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি, বরিশালে গত ১৮ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত সমাবেশে যোগদানে নেতাকর্মীদের বাধা প্রদান এবং সিলেট সিটি মেয়র আরিফুল হক চৌধুরীসহ তার সহকর্মীদের ওপর হামলার ঘটনার নিন্দা ও প্রতিবাদ জানানো হয়। একই সঙ্গে বগুড়ায় বিএনপিদলীয় সাংসদ জিএম সিরাজসহ নেতাকর্মীর ওপর সরকারি দলের হামলা এবং নোয়াখালীর বসুরহাটে ক্ষমতাসীন দলের দুই গ্রুপের সংঘর্ষে সাংবাদিক বুরহান উদ্দিন মোজাক্কিরের মৃত্যুর ঘটনায় তীব্র নিন্দা জানানো হয় বৈঠকে।