১৩ দিনে টিকা নিলেন ২৩ লাখ মানুষ

এলো আরও ২০ লাখ ডোজ

প্রকাশ: ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২১

সমকাল প্রতিবেদক

করোনাভাইরাসের গণটিকাদান কর্মসূচির নতুন লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী প্রথম মাসে ৬০ লাখ মানুষকে টিকা দেওয়া হবে। সে হিসাবে আগামী ৭ মার্চের মধ্যে এ লক্ষ্যমাত্রা পূরণ করতে হবে। টিকাদান কর্মসূচির ১৩তম দিনে গতকাল সোমবার পর্যন্ত ২৩ লাখ আট হাজার ১৫৭ জন টিকা নিয়েছেন। তাদের মধ্যে পুরুষ ১৫ লাখ ১৮ হাজার ৭১৫ ও নারী সাত লাখ ৮৯ হাজার ৪৪২ জন। লক্ষ্যমাত্রা পূরণে আগামী ১৩ দিনের মধ্যে আরও ৩৬ লাখ ৯১ হাজার ৮৪৩ জনকে টিকার আওতায় আনতে হবে। এ হিসাবে প্রতিদিন গড়ে দুই লাখ ৮৩ হাজার ৯৮৮ জনকে টিকা দিতে হবে।

স্বাস্থ্য বিভাগ কর্তৃপক্ষ বলছে, টিকাদানে মানুষের যেভাবে স্বতঃস্ম্ফূর্ত সাড়া মিলেছে, তা অব্যাহত থাকলে ওই লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করা সম্ভব হবে। টিকা পেতে আগ্রহ প্রকাশ করে গতকাল বিকেল সাড়ে ৫টা পর্যন্ত ৩৪ লাখ ৪৪ হাজার ৯০৮ জন সুরক্ষা অ্যাপ ও ওয়েবসাইটে নিবন্ধিত হয়েছেন বলে নিশ্চিত করেছে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগ কর্তৃপক্ষ।

এদিকে, দ্বিতীয় দফায় ভারতের সেরাম ইনস্টিটিউট থেকে কেনা অক্সফোর্ডের টিকা কোভিশিল্ডের ২০ লাখ ডোজ গতকাল সোমবার রাতে দেশে পৌঁছেছে। বাকি ৩০ লাখ মার্চের প্রথম সপ্তাহের মধ্যে আসবে বলে জানিয়েছেন বেক্সিমকো ফার্মাসিউটিক্যালসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক নাজমুল হাসান পাপন এমপি।

দৈনিক এক লাখ ৭৭ হাজার টিকাদান :শুরুতে প্রতিদিন দুই লাখ মানুষকে টিকা দেওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করে স্বাস্থ্য বিভাগ। কিন্তু টিকাগ্রহীতাদের আগ্রহ কম থাকায় ওই লক্ষ্যমাত্রা কমিয়ে প্রতিদিন এক লাখ করা হয়। সাড়া না মেলায় বয়সসীমা ৫৫ থেকে কমিয়ে ৪০ বছর করা হয়। অর্থাৎ আগে নির্দিষ্ট ১৫ ক্যাটাগরির বাইরে ৫৫ বছরের ওপরের বয়সীরা টিকা নিতে পারতেন। পরে তা কমিয়ে ৪০ বছর বা তার ওপরের বয়সী করা হয়। এরপরই টিকাদান কর্মসূচিতে গতি বাড়ে।

টিকাদান কর্মসূচির তথ্য-উপাত্ত পর্যালোচনা করে দেখা যায়, শুরুতে গত ২৭ ও ২৮ জানুয়ারি দু'দিন ৫৬৭ জনকে পরীক্ষামূলক টিকা দেওয়া হয়েছিল। আনুষ্ঠানিকভাবে কর্মসূচির প্রথম দিন ৭ ফেব্রুয়ারি সারাদেশে টিকা নেন ৩১ হাজার ১৬০ জন। দ্বিতীয় দিন ৮ ফেব্রুয়ারি এ সংখ্যা ছিল ৪৬ হাজার ৫০৯ জন। তৃতীয় দিন ৯ ফেব্রুয়ারি তা দ্বিগুণের বেশি বেড়ে এক লাখ এক হাজার ৮২ জনে দাঁড়ায়। চতুর্থ দিন ১০ ফেব্রুয়ারি টিকা নেন এক লাখ ৫৮ হাজার ৪৫১ জন। পঞ্চম দিন ১১ ফেব্রুয়ারি দুই লাখ চার হাজার ৫৪০ জন টিকা নেন। শুক্রবার ১২ ফেব্রুয়ারি টিকাদান বন্ধ ছিল। পরবর্তী দু'দিনে টিকাদান কিছুটা কমে আসে। বিশেষ করে পঞ্চম দিন দুই লাখের বেশি টিকা গ্রহণের পর স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় থেকে কেন্দ্রে তাৎক্ষণিক নিবন্ধন কার্যক্রম বন্ধের ঘোষণা দেওয়া হয়।

এরপর টিকাগ্রহীতা কিছুটা কমে ষষ্ঠ দিন ১৩ ফেব্রুয়ারি এক লাখ ৯৪ হাজার ৩৭১ জন টিকা নেন। সপ্তম দিন ১৪ ফেব্রুয়ারি এক লাখ ৬৯ হাজার ৩৫৩ জন। তবে অষ্টম দিন ১৫ ফেব্রুয়ারি টিকাগ্রহীতা আবারও বৃদ্ধি পেয়ে দুই লাখ ২৬ হাজার ৬৭৮ জনে পৌঁছায়। নবম দিন ১৬ ফেব্রুয়ারি টিকাগ্রহীতার সংখ্যা আরও বেড়ে দুই লাখ ২৬ হাজার ৯০২ জনে পৌঁছায়। ১৭ ফেব্রুয়ারি বুধবারও টিকা নেন দুই লাখ ২৬ হাজার ৭৫৫ জন।

১৮ ফেব্রুয়ারি টিকা নেন দুই লাখ ৬১ হাজার ৯৪৫ জন। এটিই এখন পর্যন্ত এক দিনে টিকাগ্রহীতার সর্বোচ্চ সংখ্যা। ১৯ ফেব্রুয়ারি শুক্রবার টিকাদান কার্যক্রম বন্ধ ছিল। ২০ ফেব্রুয়ারি টিকাগ্রহীতা আগের তুলনায় কিছুটা কমে আসে। ওই দিন টিকা নেন দুই লাখ ৩৪ হাজার ৫৬৪ জন। ২১ ফেব্রুয়ারি রোববার সরকারি ছুটির দিনে টিকাদান কার্যক্রম বন্ধ ছিল। গতকাল সোমবার টিকা নিয়েছেন আরও দুই লাখ ২৫ হাজার ২৮০ জন। সব মিলিয়ে টিকাদান কার্যক্রমের ১৩ দিনে টিকা নিয়েছেন ২৩ লাখ আট হাজার ১৫৭ জন। অর্থাৎ প্রতিদিন গড়ে এক লাখ ৭৭ হাজার ৫৫১ জন করে টিকা নিয়েছেন।

আরও টিকা আসছে :ভারতের সেরাম ইনস্টিটিউট উৎপাদিত অক্সফোর্ডের টিকা কোভিশিল্ডের আরও ২০ লাখ ডোজ গতকাল সোমবার রাতে দেশে পৌঁছেছে। ওই টিকা বেক্সিমকো ফার্মার ওয়্যারহাউসে রাখা হয়েছে। এর আগে গতকাল বিসিবিতে এক সংবাদ সম্মেলনে নাজমুল হাসান পাপন বলেন, আজ (সোমবার) রাতে অক্সফোর্ডের টিকার ২০ লাখ ডোজ আসছে। আগামী মাসে বাকি ৩০ লাখ ডোজ টিকাও চলে আসবে।

নাজমুল হাসান আরও বলেন, টিকা আসার পর তা বেক্সিমকো ফার্মার ওয়্যারহাউসে রাখা হবে। এরপর স্যাম্পল টেস্টের জন্য ওই টিকা ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তরের ল্যাবে পাঠানো হবে। সেখানে উত্তীর্ণ হওয়ার পর সরকারের চাহিদা অনুযায়ী টিকা কেন্দ্রে কেন্দ্রে পাঠানো হবে।

চুক্তি অনুযায়ী, ভারতের সেরাম ইনস্টিটিউটে উৎপাদিত অক্সফোর্ডের টিকার তিন কোটি ডোজ কিনবে সরকার। প্রতি মাসে ৫০ লাখ ডোজ করে টিকা আসার কথা রয়েছে। প্রথম ধাপে গত ২৫ জানুয়ারি ৫০ লাখ টিকা দেশে আসে। এর আগে ২১ জানুয়ারি ভারত সরকার উপহার হিসেবে অক্সফোর্ডের টিকার ২০ লাখ ডোজ বাংলাদেশে পাঠায়। এরপর গত ২৭ ও ২৮ জানুয়ারি দু'দিন পরীক্ষামূলক টিকাদান কর্মসূচি চলে। গত ৭ ফেব্রুয়ারি থেকে গণটিকাদান কর্মসূচি শুরু হয়। সরকারি ছুটির দিন শুক্রবার ছাড়া অন্যান্য দিন টিকাদান কর্মসূচি চলছে।

টিকাদান কর্মসূচির লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের আশাবাদ ব্যক্ত করে জাতীয় টিকাদান কর্মসূচির কোর কমিটির সদস্য ও আইইডিসিআরের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ডা. এ এস এম আলমগীর সমকালকে বলেন, সারাদেশে টিকাকেন্দ্রগুলোতে প্রতিদিন সাড়ে তিন লাখ ডোজ করে টিকা দেওয়ার সক্ষমতা রয়েছে। এ হিসাবে আগামী ১৩ দিনের মধ্যে লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী মানুষকে টিকার আওতায় আনা সম্ভব হবে। ওই সময়ে সম্ভব না হলে প্রথম ধাপের সময় আরও বাড়ানো হবে। সুতরাং দুশ্চিন্তার কারণ নেই।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. এ বি এম খুরশীদ আলম বলেন, সেরাম ইনস্টিটিউট থেকে অক্সফোর্ডের টিকার পাশাপাশি কোভ্যাক্স থেকে এক কোটি ২৭ লাখ ডোজ টিকা পাওয়া যাবে। ওই টিকার প্রথম চালানের একটি বড় অংশ মার্চের প্রথম সপ্তাহে আসার কথা রয়েছে। সুতরাং টিকা নিয়ে কোনো সংকট হবে না।