হল খোলার দাবি

আন্দোলন থেকে সরছেন না জাবি ইবি শিক্ষার্থীরা

প্রকাশ: ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২১

সমকাল ডেস্ক

হল খোলার দাবিতে দেশের বিভিন্ন পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে উত্তাপ ছড়াতে শুরু করলেও শিক্ষামন্ত্রীর ঘোষণার পর তা অনেকটা শীতল হয়ে গেছে। তবে জাহাঙ্গীরনগর ও ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা তাদের অবস্থানে অনড় রয়েছেন।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে সোমবার উত্তাপ থাকলেও গতকাল একাডেমিক কাউন্সিলের সিদ্ধান্তের পর আন্দোলনকারীদের তেমন কোনো প্রতিক্রিয়া দেখা যায়নি। এ ছাড়া রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়, শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে আন্দোলন শুরু হলেও থেমে গেছে। সরব হয়ে ওঠা চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়েও বিরাজ করছে শিথিলতা।

বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক জানান, সোমবারের ঘটনার পর গতকাল একাডেমিক কাউন্সিলের জরুরি সভায় সরকারি সিদ্ধান্ত মেনে নিয়ে ১৭ মের আগে হল খুলছে না বলে জানায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। এ ঘোষণার পর আন্দোলনকারীদের মুখপাত্র জুনাইদ হুসেইন খান বলেন, 'আমাদের ৭২ ঘণ্টার আলটিমেটাম চলছে। এর মধ্যে আমরা কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলার চেষ্টা করছি। আলটিমেটাম শেষে পরবর্তী কর্মসূচি ঘোষণা দেব।'

জাবি প্রতিনিধি জানান, টানা তিন দিন ধরে হল খোলার দাবিতে চলা আন্দোলনের গতকালের কর্মসূচি স্থগিত করলেও আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার কথা জানিয়েছেন শিক্ষার্থীরা। হলও ছাড়ছেন না বলে তারা জানিয়ে দিয়েছেন। এদিকে, চারটি আবাসিক হলে তালা দিয়ে সিলগালা করেছে হল প্রশাসন। ভারপ্রাপ্ত প্রক্টর আ স ম ফিরোজ উল হাসান জানিয়েছেন, নিরাপত্তার স্বার্থে উপাচার্যের বাসভবনের সামনে প্রায় অর্ধশত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

গতকাল মঙ্গলবার বিকেল পৌনে ৫টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবহন চত্বরে সংবাদ সম্মেলন করেন আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা। এ সময় আন্দোলনকারী শিক্ষার্থী সিরাজুল হক বলেন, 'আমরা আন্দোলন স্থগিত করিনি। শুধু আজ (গতকাল) দুপুরের বিক্ষোভ মিছিল স্থগিত করেছি। এ ছাড়া কোনো কর্মসূচি প্রত্যাহার করা হয়নি।'

তিনি বলেন, শিক্ষার্থীদের ওপর হামলাকারীদের চিহ্নিত করে গ্রেপ্তার করা, হল খোলা ও প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা দেওয়া এবং হামলায় আহতদের চিকিৎসা ব্যয় ও ক্ষতিপূরণ বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে দিতে হবে। এসব দাবি আদায়ে আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেন তিনি।

তিনি আরও বলেন, 'শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা ও ভোগান্তির বিষয়টি বিবেচনা করে আমরা হলে থাকব। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন যদি ক্যাম্পাসে আমাদের বিকল্প জায়গা দেয়, সেখানেও আমরা থাকতে রাজি।'

ছাত্রলীগের হল ছাড়ার সিদ্ধান্তের বিষয়ে আন্দোলনকারী শিক্ষার্থী সামিয়া হাসান সাংবাদিকদের বলেন, 'এটা তাদের দলীয় বিষয়। তারা হল ছাড়তে পারে। তবে আমরা সাধারণ শিক্ষার্থীরা নিরাপত্তার জন্য হলে উঠেছি। হলেই থাকব।'

বিকেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ রফিক-জব্বার হল, শহীদ সালাম বরকত হল ও বঙ্গমাতা বেগম ফজিলাতুন্নেছা মুজিব হল ও বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর হল সিলগালা করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন সংশ্নিষ্ট হলের প্রভোস্টরা। কেন্দ্র থেকে নির্দেশনার পর হল ছাড়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগ। সেই সঙ্গে সাধারণ শিক্ষার্থীদেরও হল ছাড়তে আহ্বান জানিয়েছে তারা।

গেরুয়া গ্রামবাসীর হামলার ঘটনায় আহত শিক্ষার্থীদের প্রতি সহমর্মিতা প্রকাশ করে মোমবাতি প্রজ্বালন কর্মসূচি পালন করেছেন আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা। গতকাল রাত সাড়ে ৮টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ মিনারে এ কর্মসূচি পালিত হয়।

গত শুক্রবার বিশ্ববিদ্যালয়-সংলগ্ন গেরুয়া বাজারে ক্রিকেট খেলাকে কেন্দ্র করে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে স্থানীয় বাসিন্দাদের সংঘর্ষ হয়। এরপর শনিবার হল খুলে দেওয়াসহ তিন দফা দাবিতে উপাচার্যের বাসভবনের সামনে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ করেন শিক্ষার্থীরা। একপর্যায়ে বিভিন্ন হলের তালা ভেঙে ভেতরে ঢুকে পড়েন তারা।

ইবি প্রতিনিধি জানিয়েছেন, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্ত প্রত্যাখ্যান করে আগামী ১ মার্চ আবাসিক হল খুলে দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) শিক্ষার্থীরা। গতকাল সকালে ক্যাম্পাসের ডায়না চত্বরে সংবাদ সম্মেলন করে তারা এ দাবি জানান। এতে বাংলা বিভাগের মাস্টার্সের শিক্ষার্থী জি কে সাদিক লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন। সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, আগামী ১ মার্চের মধ্যে হল ও ক্যাম্পাস খুলে দেওয়ার ব্যবস্থা না করলে, শিক্ষার্থীরা নিজেরাই হলে ঢোকার ব্যবস্থা করে নিতে বাধ্য হবেন।

পরে হল খুলে দিতে ও পরীক্ষা চালুর দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল করেন তারা। মিছিল শেষে প্রশাসন ভবনের সামনে দুই ঘণ্টা অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন। এ সময় শিক্ষার্থীদের মধ্য থেকে তিন সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল উপাচার্য ড. শেখ আব্দুস সালামের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে তাদের দাবি তুলে ধরেন।

এ সময় শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে উপাচার্য বলেন, 'আমি তোমাদের দাবির সঙ্গে একমত। তবে আমরা শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে কিছু করতে পারব না।'

খুবি প্রতিনিধি জানান, খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যাকলগ, মাস্টার্সসহ সব ধরনের পরীক্ষা আগামী ২৪ মে পর্যন্ত স্থগিত করা হয়েছে। তবে অনলাইনে ক্লাস যথারীতি চালু থাকবে। গতকাল বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রারের দপ্তর থেকে জারি করা বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। এতে আরও বলা হয়, শিক্ষামন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী আগামী ১৭ মে থেকে হল খুলে দেওয়া হবে।