বহুমাত্রিক জ্ঞানসাধক

প্রকাশ: ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২১     আপডেট: ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২১

মফিদুল হক

সৈয়দ আবুল মকসুদ চলে গেলেন। আসলে একজন দীর্ঘ সাধকের জীবনাবসান হলো। সেই যৌবন থেকে শুরু করে মৃত্যুর পূর্বমুহূর্ত পর্যন্ত তিনি একইভাবে গবেষণা চালিয়ে গেছেন, সাধনা করেছেন জ্ঞানের। তিনি ছিলেন বহুমাত্রিক জ্ঞানচর্চার দিকপাল। সাধারণত গবেষণা হয় প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে; কিন্তু সৈয়দ আবুল মকসুদ গবেষণার ক্ষেত্রেও নিজেকে এক অনন্য প্রতিষ্ঠানে পরিণত করেছিলেন।

তিনি মওলানা ভাসানীকে নিয়ে গবেষণা করেছেন, সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ্‌কে নিয়ে গবেষণা করেছেন, মহাত্মা গান্ধীর কুমিল্লার পদযাত্রা নিয়েও গবেষণা করেছেন। আবার মুসলিম নারীশিক্ষা নিয়েও একেবারে অজানা তথ্য সংগ্রহ করে অমূল্য গবেষণা রেখে গেছেন। ইতিহাস-নির্ভর তথ্য সংগ্রহ আর গবেষণায় তার সমকক্ষ আর কেউ নেই। তার কাছ থেকে জাতি অনেক কিছুই পেয়েছে। তিনি কিন্তু জীবন থেমে যাওয়ার আগে পর্যন্ত এক মুহূর্তও থামেননি। তিনি গবেষণা, জ্ঞান চর্চা একইভাবে চালিয়ে যাচ্ছিলেন। ফলে তার পরিণত বয়সে চলে যাওয়াটাও একটা বিশাল অপূর্ণতা বোধের মধ্যে রেখে গেল আমাদের।

শুধু যে জ্ঞান চর্চা তা নয়; সমাজের, রাষ্ট্রের নানা অবস্থানে তিনি সক্রিয় ভূমিকা রেখেছেন। তিনি পরিবেশ রক্ষার আন্দোলনে যুক্ত হয়েছেন, সড়ক দুর্ঘটনার ভয়াবহতা বন্ধের আন্দোলনে অংশ নিয়ে গণপরিবহনে মাফিয়াতন্ত্রের বিরুদ্ধে সোচ্চার হয়েছেন, সাম্প্রদায়িকতার বিরুদ্ধে উচ্চকণ্ঠ হয়েছেন। তার বিচরণের ক্ষেত্রও ছিল বহুমাত্রিক।

আসলে আমাদের সবার প্রিয় মকসুদ ভাই ছিলেন মুক্তিযুদ্ধের চেতনার বাংলাদেশের সমার্থক একজন মানুষ। যিনি একদিকে শোষণমুক্ত, অসাম্প্রদায়িক সমাজ ও রাষ্ট্রের জন্য সংগ্রাম করেছেন, আবার ইতিহাস ও জ্ঞান চর্চার বিভিন্ন শাখায় নিজেকে নিয়োজিত রেখেছেন সক্রিয়ভাবে। সাংবাদিকতার ক্ষেত্রেও তিনি ছিলেন একজন ব্যতিক্রমী মানুষ। তিনি কলাম লিখতেন, দূর থেকে ঘটনা জেনে নয়, কাছে গিয়ে ঘটনা দেখে। একটা বিষয় সম্পর্কে লেখার আগে নিজে তার সম্পর্কে জানাটা সম্পূর্ণ করতেন। তার চলে যাওয়া আমাদের জন্য অপূরণীয় ক্ষতি, সীমাহীন বেদনার।

লেখক: ট্রাস্টি, মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর