দেশেই একদিন যুদ্ধবিমান তৈরি করতে পারব : প্রধানমন্ত্রী

প্রকাশ: ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২১

বাসস

দেশেই একদিন যুদ্ধবিমান তৈরি করতে পারব : প্রধানমন্ত্রী

মঙ্গলবার বিমানবাহিনীর ১১ ও ২১ স্কোয়াড্রনকে জাতীয় পতাকা প্রদান অনুষ্ঠানে বক্তৃতা করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা - পিএমও

দেশ গঠনে সবাইকে দেশপ্রেমিক হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেছেন, সম্মিলিত প্রচেষ্টায় বাংলাদেশকে ২০৪১ সালের আগে উন্নত ও সমৃদ্ধ দেশ হিসেবে গড়ে তুলব, ইনশাল্লাহ। সরকারপ্রধান বলেন, আমার একটি আকাঙ্ক্ষা আছে, এই বাংলাদেশেই একদিন যুদ্ধবিমান তৈরি করতে পারব। কাজেই এর ওপর গবেষণা করা এবং আমাদের আকাশসীমা সংরক্ষিত রাখার কাজটা নিজেরাও যাতে করতে পারি, সেভাবে প্রস্তুতি নিচ্ছি।

বর্তমানে জাতির পিতার জন্মশতবার্ষিকী উদযাপন কার্যক্রম চলছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, এ বছর আমরা স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উদযাপন করব। সুবর্ণজয়ন্তী উদযাপনের প্রাক্কালে আমরা প্রতিজ্ঞাবদ্ধ হই- নিজেদের দেশপ্রেমিক ও নির্ভীক হিসেবে গড়ে তুলব। প্রধানমন্ত্রী মঙ্গলবার সকালে বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর ১১ স্কোয়াড্রন এবং ২১ স্কোয়াড্রনকে জাতীয় পতাকা প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির ভাষণে এসব কথা বলেন। তিনি গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে যশোরের বীরশ্রেষ্ঠ মতিউর রহমান বিমানবাহিনী ঘাঁটির সঙ্গে ভার্চুয়ালি যুক্ত হন।

শেখ হাসিনা বলেন, বিশ্বায়নের এ যুগে যে কোনো দেশের জন্য একটি পেশাদার বিমানবাহিনী অপরিহার্য। তিনি একটি আধুনিক ও চৌকস বিমানবাহিনী গড়ে তোলায় তার সরকারের দৃঢ় অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করে বলেন, এজন্য 'ফোর্সেস গোল-২০৩০' পর্যায়ক্রমে বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, জাতির পিতার সুদূরপ্রসারী কর্মপরিকল্পনা ও দূরদৃষ্টিকে সামনে রেখেই তার সরকার 'ফোর্সেস গোল-২০৩০' প্রণয়ন করে।

তিনি আরও বলেন, করোনাভাইরাস সারাবিশ্বের অর্থনীতির গতিকে স্থবির করে দিলেও তার সরকার সীমিত সামর্থ্য নিয়েই এই অর্থনীতিকে গতিশীল রাখার চেষ্টা করে যাচ্ছে এবং বিভিন্ন প্রণোদনা দিয়ে অর্থনীতির চাকা সচল রেখেছে। এ সময় করোনার টিকা নেওয়া হলেও মাস্ক ব্যবহার করাসহ স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে দেশবাসীর প্রতি আহ্বান পুনর্ব্যক্ত করেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রীর পক্ষে বিমানবাহিনী প্রধান মাসিহুজ্জামান সেরনিয়াবাত ন্যাশনাল স্ট্যান্ডার্ড দেওয়ার লক্ষ্যে ইউনিট কমান্ডারদের হাতে জাতীয় পতাকা হস্তান্তর করেন। প্রধানমন্ত্রী মনোজ্ঞ কুচকাওয়াজ প্রত্যক্ষ করেন। এ সময় তাকে রাষ্ট্রীয় সালাম জানানো হয়। বিমানবাহিনী প্রধান অনুষ্ঠানে ধন্যবাদ জানান।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণে উৎকর্ষ আনতে বিমানবাহিনী একাডেমির জন্য এই ঘাঁটিতে নির্মাণ করা হয়েছে আন্তর্জাতিক মানের 'বঙ্গবন্ধু কমপেল্গক্স'। মহাকাশ গবেষণা, দেশের বিমানবাহিনী এবং বেসামরিক বিমানকে দ্রুত এগিয়ে নেওয়ার লক্ষ্যে আমরা প্রতিষ্ঠা করেছি 'বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান অ্যাভিয়েশন অ্যান্ড অ্যারোস্পেস বিশ্ববিদ্যালয়'। তিনি বলেন, এসব কার্যক্রম বিমানবাহিনীর সক্ষমতাকে বহুলাংশে বৃদ্ধি করেছে।

প্রধানমন্ত্রী ন্যাশনাল স্ট্যান্ডার্ড পাওয়া ইউনিট দুটির সদস্যদের উদ্দেশে বলেন, পতাকা হলো জাতির স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব, সম্মান ও মর্যাদার প্রতীক। তাই পতাকার মান রক্ষা করা সামরিক বাহিনীর সব সদস্যের পবিত্র দায়িত্ব। তিনি বলেন, ১১ স্কোয়াড্রনকে বৈমানিকদের মৌলিক উড্ডয়ন প্রশিক্ষণ দেওয়ায় এবং ২১ স্কোয়াড্রনকে দেশের আকাশসীমা প্রতিরক্ষায় অনন্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের প্রতীক 'জাতীয় পতাকা' দেওয়া হলো। এ সময় প্রধানমন্ত্রী ১১ স্কোয়াড্রন এবং ২১ স্কোয়াড্রনের সব সদস্যকে অভিনন্দন জানান। বিমানবাহিনীর জনসেবামূলক কর্মকাণ্ডেরও প্রশংসা করেন তিনি।