স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উদযাপনে আগামী ৩০ মার্চ রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে 'সুবর্ণজয়ন্তী মহাসমাবেশ'সহ মাসজুড়ে ১৯ দিনের কর্মসূচি ঘোষণা করেছে বিএনপি। কর্মসূচিতে দলটি প্রথমবারের মতো দুটি দিবস পালন করতে যাচ্ছে- ঐতিহাসিক ৭ মার্চ ও ২৫ মার্চ।

গতকাল বুধবার রাজধানীর গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এ কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়। বিএনপির 'স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উদযাপন জাতীয় কমিটি'র আহ্বায়ক ও দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন এ কর্মসূচি ঘোষণা করেন।

১৯৭১ সালের ৭ মার্চ সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে বিশাল জনসভায় ভাষণ দেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। এদিনই তিনি ঘোষণা করেন, 'এবারের সংগ্রাম মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম।' তার এই ভাষণ দেশে-বিদেশে এখনও ব্যাপক সমাদৃত। এ ভাষণকে ইউনেস্কো বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ প্রামাণ্য ঐতিহ্য হিসেবে স্বীকৃতিও দিয়েছে।

বিএনপি এর আগে কখনও ৭ মার্চে কোনো কর্মসূচি দেয়নি। বরং ক্ষমতায় থাকার সময় আওয়ামী লীগকে দিবসটিতে কর্মসূচি পালনে বাধা দিয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। গতকাল ঘোষিত কর্মসূচিতে বিএনপি আসছে ৭ মার্চ আলোচনা সভা করার ঘোষণা দিয়েছে। তবে কোনো প্রতিপাদ্য বিষয়ের কথা জানায়নি। একইভাবে ২৫ মার্চেও কর্মসূচি রাখত না দলটি। এ বছর 'কালরাত্রি' শীর্ষক আলোচনা সভা করবে।

এ বিষয়ে বিএনপির মুক্তিযুদ্ধের সুবর্ণজয়ন্তী উদযাপন কমিটির সদস্য সচিব আবদুস সালাম গতকাল রাতে সমকালকে বলেন, '৭ মার্চ একটি ঐতিহাসিক দিন, আমরা সেই ঐতিহাসিক দিন হিসেবেই পালন করব। মুক্তিযুদ্ধ কোনো দলীয় যুদ্ধ নয়, মুক্তিযুদ্ধে যার যার অবদান তা স্বীকার করা উচিত।'

তিনি বলেন, 'মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে কোনো রাজনীতি করা উচিত নয়। আমরা মনে করি, মুক্তিযুদ্ধ প্রশ্নে জাতীয় ঐক্যমত প্রয়োজন। এতে দেশ ও জাতির মঙ্গল হবে। আর মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে রাজনীতি করলে বিতর্ক ছড়াব- যা দেশের জন্য মঙ্গলজনক হবে না এবং মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসের জন্য মঙ্গলজনক নয়। সবার সত্যিকারের ইতিহাস জানা প্রয়োজন।'

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ঐতিহাসিক ৭ মার্চ ভাষণের দিনে বিএনপির প্রথম কর্মসূচি পালনকে কি পরিবর্তনের ইঙ্গিত বলা যায়? - এমন প্রশ্নের জবাবে আব্দুস সালাম বলেন, 'মুক্তিযুদ্ধে যার যা অবদান তা পাওয়া উচিত। দলীয় দৃষ্টিভঙ্গিতে কাউকে বঞ্চিত করা উচিত নয়।'

গতকাল সংবাদ সম্মেলনে খন্দকার মোশাররফ হোসেন জানান, বছরব্যাপী স্বাধীনতার ৫০ বছর উদযাপন করবেন তারা। একেকটি মাস শেষ হওয়ার আগে পরবর্তী মাসের কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।

বিএনপির এ জ্যেষ্ঠ নেতা বলেন, আমরা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাছে অনুষ্ঠানের নিরাপত্তার জন্য সহযোগিতা চাই। সরকারের কাছেও সহযোগিতা চাই, যাতে স্বাধীনতার ৫০ বছরপূর্তির কর্মসূচি নির্বিঘ্নে, সুন্দরভাবে পালন করতে পারি।

মার্চে বিএনপির ঘোষিত কর্মসূচি হচ্ছে- ১ মার্চ সুবর্ণজয়ন্তী কর্মসূচির উদ্বোধন, ২ মার্চ ছাত্রসমাজ কর্তৃক স্বাধীনতার পতাকা উত্তোলন শীর্ষক আলোচনা সভা, ৩ মার্চ ছাত্রসমাজ কর্তৃক স্বাধীনতার ইশতেহার পাঠ শীর্ষক আলোচনা সভা, ৭ মার্চ আলোচনা সভা, ৮ মার্চ বিশ্ব নারী দিবস পালন, ৯ মার্চ সেমিনার এবং ১০ মার্চ রচনা প্রতিযোগিতা।

এ ছাড়াও রয়েছে- ১৩ মার্চ বছরব্যাপী রক্তদান কর্মসূচির উদ্বোধন, ১৫ মার্চ চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা, ২০ মার্চ 'আইনের শাসন ও বিচার বিভাগের স্বাধীনতা' বিষয়ক সেমিনার, ২২ মার্চ 'স্বাধীনতার ঘোষণা, মুক্তিযুদ্ধ, জেড ফোর্স এবং বীরউত্তম জিয়াউর রহমান' শীর্ষক সেমিনার, ২৩ মার্চ জাতীয়তাবাদী ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য মেলা, ২৪ মার্চ 'নির্বাচিত বিএনপি সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করে স্বৈরাচারী এরশাদের জোরপূর্বক ক্ষমতা দখল' শীর্ষক সেমিনার, ২৫ মার্চ 'কাল রাত্রি' শীর্ষক আলোচনা সভা এবং ২৬ মার্চ স্বাধীনতা দিবসে দলীয় কার্যালয়ে জাতীয় ও দলীয় পতাকা উত্তোলন, সাভারে জাতীয় স্মৃতিসৌধে পুষ্পস্তবক অর্পণ, শেরেবাংলা নগরে প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের কবরে পুষ্পমাল্য অর্পণ, রক্তদান কর্মসূচি ও সারাদেশে র‌্যালি।

আরও কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে- ২৭ মার্চ চট্টগ্রাম কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র ও বগুড়ার বাগবাড়ি গমন এবং আলোচনা সভা। এ ছাড়া একই দিন সারাদেশের জেলা, মহানগর, উপজেলা, থানা ও পৌরসভা পর্যায়ে আলোচনা সভা। ২৮ মার্চ মুক্তিযোদ্ধা সংবর্ধনা, ৩০ মার্চ সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে সুবর্ণজয়ন্তী মহাসমাবেশ এবং ৩১ মার্চ মুক্তিযুদ্ধের বইমেলা ও চিত্রাঙ্কন প্রদর্শনীর উদ্বোধন।

খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন, এই স্বাধীনতা রক্তের বিনিময়ে অর্জিত স্বাধীনতা। এ দেশের জনগণের জন্য জনগণের স্বার্থে এই স্বাধীনতা। তাই স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী সবাই মিলে উদযাপন করতে চাই।

সংবাদ সম্মেলনে জাতীয় কমিটির সদস্য ও দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু, সেলিমা রহমান ও সদস্য সচিব আবদুস সালাম, বিএনপি চেয়ারপারসনের একান্ত সচিব এবিএম আবদুস সাত্তার, তথ্য-গবেষণা সম্পাদক রিয়াজ উদ্দিন নসু প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।



মন্তব্য করুন