অন্যের স্ত্রীকে প্রলুব্ধ করে বিয়ে করার অভিযোগে ক্রিকেটার নাসির হোসেন এবং স্বামীর জীবদ্দশায় পুনরায় বিয়ে করার অভিযোগে তার নববিবাহিত স্ত্রী তামিমা সুলতানা তাম্মির বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। মামলার বাদী তাম্মির স্বামী পরিচয় দেওয়া মো. রাকিব হাসান। রাকিবের সঙ্গে বিয়ের বিষয়টি সত্য হলেও চার বছর আগেই আইনগতভাবে বিচ্ছেদ হয়েছে বলে দাবি করেছেন তাম্মি ও নাসির। মামলার পর সংবাদ সম্মেলন করে পাল্টা ব্যবস্থার ইঙ্গিত দিয়ে নাসির বলেন, আমার স্ত্রীর বিরুদ্ধে কেউ বাজে কথা বললে আইনি ব্যবস্থা নেব। অভিযোগ তদন্ত করে ৩০ মার্চের মধ্যে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনকে (পিবিআই) প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।

তিন বছর ধরে জাতীয় দলের বাইরে থাকা নাসির হঠাৎই গত সপ্তাহে আলোচনায় চলে আসেন। ১৪ ফেব্রুয়ারি রাজধানীর এক রেস্তোরাঁয় তামিমা সুলতানাকে বিয়ে করেন তিনি। এরপর ১৭ ও ২০ ফেব্রুয়ারি ঘটা করে গায়ে হলুদ এবং বিবাহোত্তর সংবর্ধনারও আয়োজন করেন। গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নাসির-তামিমার বিয়ের খবর ও ছবি প্রকাশ হওয়ার পর নিজেকে তামিমার স্বামী পরিচয় দিয়ে দৃশ্যপটে আসেন রাকিব হাসান। ২০১১ সালের ২৬ ফেব্রুয়ারি তামিমার সঙ্গে তার বিয়ে হয়েছে এবং তাদের ঘরে আট বছরের একটি মেয়ে আছে উল্লেখ করে উত্তরা পশ্চিম থানায় জিডি করেন তিনি। একই সময়ে ক্রিকেটার নাসিরের সঙ্গে তার একটি ফোনালাপের অডিও সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। যেখানে 'আগের বিয়ে ও সন্তানের বিষয়টি জেনেশুনেই তামিমাকে বিয়ে করেছেন' বলতে শোনা যায় নাসিরকে। ঘটনা পরম্পরায় বুধবার ঢাকা মহানগর হাকিম মোহাম্মদ জসিমের আদালতে মামলা করেন রাকিব। মামলার অভিযোগে আগের বিয়ে গোপন থাকাবস্থায় অন্যত্র বিয়ে, অন্যের স্ত্রীকে প্রলুব্ধ করে নিয়ে যাওয়া এবং মানহানির অপরাধের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। মামলায় আরও বলা হয়, তাম্মি ও নাসিরের এমন অনৈতিক ও অবৈধ সম্পর্কের কারণে রাকিব ও তার শিশুকন্যা মানসিকভাবে বিপর্যস্ত। আদালত বাদীর জবানবন্দি নেওয়ার পর অভিযোগের বিষয় তদন্ত করে পিবিআইকে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেন।

চার বছর আগেই ডিভোর্স হয়েছে, দাবি তাম্মির :গতকাল দুপুরে মামলার পর সন্ধ্যায় বনানীর একটি হোটেলে সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করেন নাসির-তাম্মি। বিয়ে নিয়ে আলোড়ন ওঠার পর এই প্রথম নিজেদের অবস্থান ব্যক্ত করেন তারা। একজন আইনজীবীকে পাশে নিয়ে তাম্মি বলেন, সাবেক স্বামী রাকিব হাসান বলেছেন, তালাক না দিয়ে বিয়ে করেছি। শরিয়ত ও আইন মোতাবেক ২০১৬ সালের ২৩ ডিসেম্বর ডিভোর্সের আবেদন করি। এরপর ২০১৭ সালের ২২ এপ্রিল সেই তালাকটি কার্যকর হয়। বিয়ে-বিচ্ছেদের কাগজপত্র দেখার পরই তাম্মিকে বিয়ে করেছেন বলে জানান নাসির। তিনি বলেন, বিয়ে করেছি আইনগতভাবে ও ইসলামী শরিয়ত মোতাবেক। এমন হলে আমরা ওপেন বিয়ে করতাম না, লুকিয়ে করতাম।

সংবাদ সম্মেলনে নাসির স্পষ্ট ভাষায় বলেন, 'এত দিন সে শুধু তামিমা ছিল, এখন ও হচ্ছে তামিমা হোসেন।'









মন্তব্য করুন