কাজ শেষ হয়নি অর্ধেক। অথচ পুরো ৪৯৯ কোটি টাকা পরিশোধ করে দিয়েছে অগ্রণী ব্যাংক। এ বিষয়ে মিথ্যাচারও করেছে ব্যাংকটি। সম্প্রতি বাংলাদেশ ব্যাংকের একটি পরিদর্শন প্রতিবেদনে অগ্রণী ব্যাংকের আর্থিক দুর্নীতির তথ্য উঠে এসেছে।

সংশ্নিষ্ট সূত্রে প্রাপ্ত প্রতিবেদনে দেখা গেছে, এক যুগেও অগ্রণী ব্যাংক অনলাইন সেবা, অর্থাৎ কোর ব্যাংকিং সলিউশন বা সিবিএস কার্যকর করতে পারেনি। বাস্তবায়ন হয়েছে ৪৭ শতাংশের কম। অথচ রাষ্ট্রায়ত্ত এই ব্যাংক মিথ্যার আশ্রয় নিয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকে জানিয়েছে, তারা ২০১৭ সালের নভেম্বরের মধ্যেই শতভাগ সিবিএস বাস্তবায়ন করেছে। শুধু তাই নয়, শতভাগ বাস্তবায়ন দেখিয়ে উদারহস্তে সফটওয়্যার সরবরাহকারী স্থানীয় ভেন্ডার ফ্লোরা টেলিকমকে পরিশোধ করা হয়েছে ৪৯৯ কোটি টাকা, অর্থাৎ পুরো বিল। ফ্লোরার বিরুদ্ধে অগ্রণী ব্যাংক কর্মকর্তার স্বাক্ষর জাল করে ভুয়া অর্ডার কনফারমেশন পাঠানোসহ নানা জালিয়াতি ধরা পড়লেও সংস্থাটির বিরুদ্ধে আইনগত কোনো ব্যবস্থা নেয়নি ব্যাংকটি। উল্টো একই প্রতিষ্ঠানকে আরও ১০ বছরের জন্য কাজ দেওয়া হয়েছে। এই অপকর্মের সঙ্গে ব্যাংকের কর্মকর্তাদের যোগসাজশ রয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এ রকম অনিয়ম-দুর্নীতি ধরা পড়ার পর ফ্লোরা টেলিকম থেকে ক্ষতিপূরণ আদায় ও প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

ব্যাংকের নিজস্ব সব হিসাব সংরক্ষণ ও গ্রাহকদের যাবতীয় সেবা অনলাইনে কেন্দ্রীয়ভাবে দেওয়ার পদ্ধতি কোর ব্যাংকিং সলিউশন বা সিবিএস নামে পরিচিত। বাংলাদেশ ব্যাংকের সুনির্দিষ্ট নির্দেশনার আলোকে ব্যাংকগুলো সিবিএস বাস্তবায়ন করে থাকে। সিবিএস বাস্তবায়নে সফটওয়্যারের প্রয়োজন হয়।

জানা যায়, ফ্লোরা টেলিকম সিঙ্গাপুরভিত্তিক সফটওয়্যার সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান টেমোনাসের বাংলাদেশি ভেন্ডার। বাংলাদেশে ফ্লোরা ছাড়াও টেমোনাসের আরও ভেন্ডার রয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিদর্শনে দেখা গেছে, টেমোনাস টি-২৪ নামে মূল সফটওয়্যার সরবরাহকারী হলেও প্রতিষ্ঠানটিকে ব্যাংকের মাধ্যমে কোনো টাকা দেয়নি ফ্লোরা। ফলে বিদেশি এ প্রতিষ্ঠানকে কীভাবে কত টাকা

দিয়েছে, তার কোনো হিসাব নেই। মানি লন্ডারিং আইনে যা দণ্ডনীয় অপরাধ। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পরিদর্শক দল মন্তব্য করেছে, ফ্লোরা টেলিকম মানি লন্ডারিংয়ের মতো গুরুতর অপরাধে জড়িত। ব্যাংক ভিন্ন অন্য চ্যানেলের মাধ্যমে অর্থ পাঠানোর দায় অগ্রণী ব্যাংকও এড়াতে পারে না। মানি লন্ডারিং প্রতিরোধে কাজ করা বিএফআইইউ থেকে এ নিয়ে বিস্তারিত তদন্ত করার সুপারিশ করা হয়েছে।

সব শাখা ও কন্ট্রোল পয়েন্টে সিবিএস বাস্তবায়নের জন্য ২০০৮ সালের ডিসেম্বরে ফ্লোরা টেলিকমের সঙ্গে চুক্তি করে অগ্রণী ব্যাংক। চুক্তি অনুযায়ী ২০১০ সালের জানুয়ারির মধ্যে প্রাথমিকভাবে ১০০ জায়গায় ৫০০ ব্যবহারকারীর জন্য এ সুবিধা দেওয়ার কথা। এ তালিকায় প্রধান কার্যালয়, সাতটি সার্কেল অফিস, ৫২টি জোনাল অফিস ও ৪০টি করপোরেট শাখা ছিল। জোনাল ও সার্কেল অফিসের পরিবর্তে ২০১২ সালের নভেম্বর পর্যন্ত ৬০টি শাখায় এ সুবিধা বাস্তবায়ন করা হয়। দ্বিতীয় পর্যায়ে ২০১৩ সালের ৬ জানুয়ারির মধ্যে আরও ২৫০ জন ব্যবহারকারীসহ নতুন ৫০টি শাখায় বাস্তবায়নের কথা থাকলেও বাস্তবায়ন হয় ২৩টি শাখায়। পরে ২০১৫ সালের মধ্যে চার হাজার ব্যবহারকারীর জন্য বাকি ৮৪০টি শাখায় টি-২৪ সফটওয়্যার কার্যকর করার কথা। ২০১৭ সালের নভেম্বরে সিবিএস পুরো বাস্তবায়ন হয়েছে বলে বাংলাদেশ ব্যাংক ও অর্থ মন্ত্রণালয়কে জানায় অগ্রণী ব্যাংক। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রতিবেদন অনুযায়ী এ তথ্য পুরোপুরি মিথ্যা।

বাংলাদেশ ব্যাংক বলেছে, সিবিএস বাস্তবায়নে চুক্তির অধিকাংশ শর্ত বাস্তবায়ন না হওয়ায় ফ্লোরা থেকে অগ্রণী ব্যাংকের 'লিকুইডিটি ড্যামেজ' বা ক্ষতিপূরণ আদায় করার কথা। অগ্রণী ব্যাংক তা না করে উল্টো ২০১৮ সালে আরও ১০ বছর মেয়াদি ২৯২ কোটি ৩৫ লাখ টাকার চুক্তি করেছে। পরবর্তী ১০ বছরের লাইসেন্স ফির সম্পূর্ণ ৮৪ কোটি ৭৫ লাখ টাকা ২০১৯ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে ফ্লোরাকে পরিশোধ করা হয়। প্রথম ষাণ্মাসিকের ফি হিসাবে ওই বছরের মে মাসে দেওয়া হয় তিন কোটি ৮৩ লাখ টাকা। যদিও সিঙ্গাপুরভিত্তিক টেমোনাস ২০১৯ সালের ১০ ফেব্রুয়ারি ই-মেইলের মাধ্যমে অগ্রণী ব্যাংককে জানায়, বিদ্যমান টি-২৪ সফটওয়্যারের সেবা ২০২১ সালের মার্চের মধ্যে বিশ্বব্যাপী বন্ধ করে দেওয়া হবে। এই তথ্য জানানোর মাত্র ১৪ দিনের মাথায় ফ্লোরা টেলিকমকে ১০ বছরের লাইসেন্স নবায়ন ফি দেওয়া হয়। তিন মাসের মাথায় দেওয়া হয় প্রথম ষাণ্মাসিকের রক্ষণাবেক্ষণ ফি। বিদ্যমান ভার্সনের সেবা বন্ধের বিষয়টি জানার পরও ফ্লোরাকে ৮৮ কোটি ৫৮ লাখ টাকা পরিশোধকে অগ্রহণযোগ্য বলেছে বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিদর্শক দল।

বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিদর্শনে উঠে এসেছে ব্যাংকের ৯৯০টি শাখাসহ এক হাজার ১৩৭টি কন্ট্রোল পয়েন্টের মধ্যে মাত্র ৪৬ দশমিক ৯৬ শতাংশে সিবিএস বাস্তবায়ন হয়েছে। যদিও ২০১৭ সালের নভেম্বর থেকে কেন্দ্রীয় ব্যাংক, অর্থ মন্ত্রণালয় ও ব্যাংকের প্রতিবেদনে পুরো বাস্তবায়নের অসত্য তথ্য দেওয়া হয়েছে। আবার ১০০টি শাখায় সর্বোচ্চ ৭২ মাস এ সফটওয়্যার ব্যবহার হলেও সব কন্ট্রোল পয়েন্টের জন্য ১০ বছরের লাইসেন্স ফি পরিশোধ করা হয়েছে। আংশিক ব্যবহার করেও সব শাখার জন্য ১৪০ মাসের ফি দেওয়ার কারণ ব্যাখ্যা করার নির্দেশ দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

পরিদর্শন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আংশিক বাস্তবায়ন হওয়ায় অগ্রণী ব্যাংকে ব্যবহূত সিবিএস টেমোনাস টি-২৪ সফটওয়্যার ব্যবহার করে সরাসরি কোনো রিপোর্ট তৈরি করা যায় না। যে কোনো রিপোর্ট তৈরি করতে ব্যাংকটিকে নিজস্ব উন্নয়ন করা সফটওয়্যার এবং মাইক্রোসফট এক্সেল বা মাইক্রোসফট ওয়ার্ডশিটের ওপর নির্ভর করতে হয়। বর্তমানে ব্যাংকে ৩৪টি সফটওয়্যার ব্যবহার করে কার্যক্রম চালানো হচ্ছে, যার বেশিরভাগই বিভিন্ন রিপোর্ট প্রস্তুতের কাজে ব্যবহার হয়। এসব বিষয়ে ব্যাংকের সংশ্নিষ্ট কর্মকর্তারা পরিদর্শক দলকে জানিয়েছেন, টি-২৪ সফটওয়্যার কেনার সময় রিপোর্টিং মডিউল বাস্তবায়নের কোনো শর্ত ছিল না। পরে বিভিন্ন মডিউলের কন্ট্রোল পয়েন্ট বাস্তবায়ন করা হলেও কারিগরি সমস্যার কারণে রিপোর্টিং মডিউল বাস্তবায়ন করা সম্ভব হয়নি।

বাংলাদেশ ব্যাংক বলেছে, ফ্লোরা টেলিকম ২০১৯ সালের ডিসেম্বরে অগ্রণী ব্যাংক কর্মকর্তার স্বাক্ষর জাল করে টেমোনাসকে ভুয়া 'অর্ডার কনফারমেশন' লেটার পাঠায়। ব্যাংকের নিজস্ব তদন্তে যা ধরাও পড়ে। এ অপরাধের দায়ে ফ্লোরার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার কথা, তা না করে ২০২০ সালের ৪ মে সফটওয়্যার আপগ্রেডেশন ও বাস্তবায়নের জন্য ফ্লোরার কাছেই প্রস্তাব চাওয়া হয়। পরে ফ্লোরাকে এ কাজও দেওয়া হয়। ব্যাংক কর্মকর্তার স্বাক্ষর জাল ও ভুয়া অর্ডার কনফারমেশনের বিষয়ে এখন ফ্লোরার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

পরিদর্শনে উঠে এসেছে, বাংলাদেশে ফ্লোরার এ রকম জালিয়াতির বিষয়টি জানার পর সিঙ্গাপুরের কোম্পানি টেমোনাসের পক্ষ থেকে গত বছরের ২৬ জুন ই-মেইলের মাধ্যমে ফ্লোরা টেলিকমের সঙ্গে চুক্তি বাতিলের বিষয়টি অগ্রণী ব্যাংককে জানানো হয়। ৩০ জুনের মধ্যে টেমোনাসের চুক্তিবদ্ধ প্রতিষ্ঠান এফডিএসের মাধ্যমে সফটওয়্যার লাইসেন্স ও অন্যান্য মডিউলের কাজ সম্পাদনের অনুরোধ করা হয়। তখন টেমোনাসের চুক্তি বাতিলের বিষয়ে আদালতে যায় ফ্লোরা। পরে গত বছরের অক্টোবরে আদালতের বাইরে দু'পক্ষ সমঝোতা করে। তবে আদালত অগ্রণী ব্যাংক ও ফ্লোরার বিষয়ে কিছু পর্যবেক্ষণ দেন। বিশেষ করে বিদেশি প্রতিষ্ঠান টেমোনাসকে ব্যাংকিং চ্যানেলের বাইরে অর্থ দেওয়ার বিষয়ে দুদকের তদন্ত করা উচিত বলে পর্যবেক্ষণ দেওয়া হয়। বাংলাদেশ ব্যাংক বলেছে, জালিয়াতির মাধ্যমে টেমোনাসকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টার পর তাদের পেশাদারি মনোভাব সম্পর্কে বিরূপ ধারণা তৈরি হওয়া সত্ত্বেও সিবিএস আপগ্রেডেশনে তাদের প্রস্তাব বিবেচনা করা গ্রহণযোগ্য নয়।

বাংলাদেশ ব্যাংকের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা সমকালকে বলেন, টেমোনাস থেকে সরাসরি সফটওয়্যার সেবা নেওয়ার সুযোগ রয়েছে। আবার ফ্লোরা ছাড়াও বাংলাদেশে টেমোনাসের অন্য ভেন্ডার রয়েছে। নানা জালিয়াতির পরও বারবার ফ্লোরাকে কাজ দেওয়া নিয়ে ব্যাংকের ভেতরে-বাইরে প্রশ্ন উঠেছে। ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ এ দায় এড়াতে পারে না।

বাংলাদেশ ব্যাংক বলেছে, ২০০৮ থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত বার্ষিক রক্ষণাবেক্ষণ ফি ছিল ৯৯ কোটি ৭০ লাখ টাকা। পরবর্তী ১০ বছরে তা প্রায় ১০৪ শতাংশ বাড়িয়ে ২০৩ কোটি ১০ লাখ টাকা করা হলেও এ বিষয়ে পরিচালনা পর্ষদে উত্থাপিত স্মারকে কোনো যৌক্তিকতা উল্লেখ করা হয়নি। অতি উচ্চ ফি দিয়ে সেবা কেনা, সিবিএসের আংশিক বাস্তবায়ন করে পুরো বাস্তবায়ন দেখানোর দায় ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ এড়াতে পারে না। আবার ২০০৮ থেকে ২০১৮ সাল মেয়াদে আংশিক বাস্তবায়ন করেও পুরো অর্থ দেওয়ার দায় ব্যাংক এড়াতে পারে না। চুক্তি অনুযায়ী নির্ধারিত সময়ে সিবিএস বাস্তবায়নে ব্যর্থ হওয়ায় ব্যাংকের আর্থিক ক্ষতি নিরূপণ করে ফ্লোরা টেলিকম থেকে লিকুইডিটি ড্যামেজ আদায়ের জন্য প্রয়োজনীয় আইনগত পদক্ষেপ নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে নিরবচ্ছিন্ন ব্যাংকিং সেবা নিশ্চিত করতে সব কন্ট্রোল পয়েন্টে সিবিএস বাস্তবায়নের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে অগ্রণী ব্যাংকের চেয়ারম্যান ড. জায়েদ বখত সমকালকে বলেন, ব্যাংকের তথ্যপ্রযুক্তি বিভাগ থেকে সঠিক তথ্য না দেওয়ায় এমনটি হয়েছে। তারা যখন বলেছে সব শাখায় অনলাইন হয়ে গেছে, আমরাও বলেছি সব শাখায় অনলাইন হয়ে গেছে। তবে কারিগরি অনেক কম্পোনেন্ট বাকি থাকায় সেটিকে শতভাগ বলা যায় না। সব কম্পোনেন্ট বাস্তবায়নের পর কেবল শতভাগ বলতে হয়। অপর এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, চুক্তি অনুযায়ী যথাসময়ে ফ্লোরা সিবিএস বাস্তবায়ন না করায় ব্যাংকের পক্ষ থেকে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া যেত। তবে এ ক্ষেত্রেও আইটি বিভাগ থেকে যথাযথ তথ্য না পাওয়ায় সেটি সম্ভব হয়নি। জালিয়াতি করার পরও আবার ফ্লোরার সঙ্গে চুক্তির যৌক্তিকতা নিয়ে জানতে চাইলে চেয়ারম্যান জানান, এক প্রতিষ্ঠান থেকে সেবা নেওয়া হচ্ছে। একই সময়ে আরেক প্রতিষ্ঠানে গেলে হয়তো ফ্লোরার দেওয়া সার্ভার ডাউন হতে পারত, যে কারণে একই প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে চুক্তি করা হয়েছে। তিনি জানান, বাংলাদেশ ব্যাংকের সঙ্গে এসব পর্যবেক্ষণের বিষয়ে ব্যাংকের কথা হয়েছে। তারা যেসব পরামর্শ দিয়েছে, তা পরিপালন করা হবে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিবেদনে বেশিরভাগ ক্ষেত্রে এ অনিয়মের জন্য দায়ী করা হয়েছে অগ্রণী ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষকে। সার্বিক বিষয়ে অগ্রণী ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ শামস-উল ইসলাম সমকালকে বলেন, সাধারণভাবে অনলাইন ব্যাংকিং বলতে যেটা বোঝায়, তা বাস্তবায়ন হয়েছে। অগ্রণীর গ্রাহকরা যে কোনো শাখা থেকে টাকা জমা দিতে ও তুলতে পারেন। তবে অনেক কারিগরি বিষয় আছে, যেটা বাস্তবায়ন হয়নি। তাও বাস্তবায়ন হবে। এক প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, 'আমরা অনেক পুরাতন ব্যাংক, এক কোটির বেশি অ্যাকাউন্ট। নতুন একটি ব্যাংক যেভাবে অনলাইন বাস্তবায়ন করতে পারবে, আমরা পারব না।' তিনি বলেন, কেন্দ্রীয় ব্যাংক যেসব বিষয় নির্দেশনা দিয়েছে, তা বাস্তবায়ন প্রক্রিয়ার মধ্যে আছে। সত্যিকার অর্থে ফ্লোরা অপরাধ করলে ব্যাংকের পক্ষ থেকে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তিনি জানান, কর্মকর্তার স্বাক্ষর জালের বিষয়টি ঠিক। তবে এ কারণে ব্যাংকের লাভ বা ক্ষতির কিছু হয়নি। যদিও ফ্লোরার কাছে ব্যাখ্যা চাওয়া হয়েছে। দেখা যাক, তারা কী জবাব দেয়।

ফ্লোরা টেলিকমের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা রফিকুল ইসলাম ডিউককে টেলিফোন করেও কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি।



মন্তব্য করুন