রাজধানীর ওয়ারীর একটি বাসা থেকে এক শিশুর গলাকাটা লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। বাসাটি শিশুর খালুর। বুধবার রাতে লাশটি উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গে পাঠানো হয়। বাসা থেকে ৯০ হাজার টাকা ও স্বর্ণালংকার লুট হয়েছে। পুলিশের ধারণা, স্বর্ণালংকার লুট করার জন্য কেউ বাসায় ঢুকেছে। পরে লুট করতে দেখে ফেলায় শিশুটিকে হত্যা করা হতে পারে। ওই সময় বাসায় আর কোনো সদস্য ছিলেন না। দু'জনকে আটক করলেও তদন্তের স্বার্থে তাদের নাম গোপন রেখেছে পুলিশ।

স্বজনরা জানান, কয়েক বছর আগে মো. হাসান (১২) নামে শিশুটির বাবা মজনু মিয়া স্ত্রী-সন্তান ফেলে চলে যান। সেই থেকে কোনো খোঁজ নেই তার। এর পর থেকে হাসান ওয়ারীর পদ্মনিধি লেনে খালা আয়েশা খাতুনের বাসায় থাকত। ওই বাসাতেই তাকে হত্যা করা হয়েছে। ঘটনার সময় তার খালা, খালু ও খালাতো ভাই-বোন বাসার বাইরে ছিলেন। হাসানের গ্রামের বাড়ি শরীয়তপুরে। গতকাল বৃহস্পতিবার ময়নাতদন্ত শেষে লাশ গ্রামের বাড়ি নেওয়া হয়।

নিহতের খালু জামাল ভূঁইয়া জানান, তার এক ছেলে, এক মেয়ে, স্ত্রী ও হাসানকে নিয়ে পদ্মনিধি লেনের একটি বাড়ির ছয়তলায় থাকেন। ছেলে কোচিং করতে গিয়েছিল বুধবার সন্ধ্যায়। হাসানের খালা আয়েশা ছোট মেয়েকে নিয়ে বাসার নিচে গিয়েছিলেন কেনাকাটা করতে। পরে বাসায় উঠে দেখেন, বাইরে থেকে দরজায় তালা লাগানো। প্রতিবেশীদের ডাক দেন তিনি। বলেন, হাসানকে বাসায় রেখে তিনি কেনাকাটা করতে গিয়েছিলেন। কিন্তু ঘরে দরজা লাগাল কে? হাসান কারও বাসায় গেছে কিনা তা তিনি জানতে চান প্রতিবেশীদের কাছে। না-সূচক জবাব পেয়ে প্রতিবেশীদের সহায়তায় তালা ভাঙেন। ভেতরে ঢুকেই একটি ঘরের মেঝেতে হাসানকে গলাকাটা অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেন। মেঝেতে রক্ত ছড়িয়ে-ছিটিয়ে রয়েছে। ভাগ্নেকে এ অবস্থায় দেখে আর্তনাদ করেন।

প্রতিবেশীরা জানান, হাসানের খালুকে প্রথমে ফোন দিয়ে বিষয়টি জানানো হয়। এরপর খবর দেওয়া হয় থানায়। ওয়ারী থানা পুলিশ এসে রাতেই লাশ উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গে পাঠায়। এ ছাড়া পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) ক্রাইম সিন ইউনিট ঘটনাস্থল থেকে বিভিন্ন আলামত সংগ্রহ করে। পুলিশ জানিয়েছে, গলার সামনের দিক থেকে গভীর করে কাটা হয়েছে। ঘটনাস্থলে রক্তাক্ত কোনো ধারালো অস্ত্র পাওয়া যায়নি। এতে ধারণা করা হচ্ছে, হত্যার পর অস্ত্র নিয়েই পালিয়েছে খুনি।

ঢাকা মহানগর পুলিশের ওয়ারী জোনের সিনিয়র সহকারী কমিশনার হান্নানুল ইসলাম জানান, বাসা থেকে টাকা ও স্বর্ণালংকার লুট হয়েছে। এতে ধারণা করা হচ্ছে, লুটকারীরা ওই বাসায় আগে থেকে যাতায়াত করত। লুট করার সময় দেখে ফেলায় শিশুটিকে হত্যা করা হতে পারে। এর পরও নানা বিষয় সামনে রেখে তদন্ত শুরু হয়েছে। গতকাল কয়েকজনকে থানায় নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে।





মন্তব্য করুন