করোনাভাইরাসের সংক্রমণ মোকাবিলায় দেশের সব মসজিদে জুমা ও অন্যান্য ওয়াক্তের নামাজ এবং অন্যান্য ধর্মীয় উপাসনালয়ে প্রার্থনার আগে-পরে কোনো সভা-সমাবেশ করা যাবে না। এর বাইরে আরও কিছু নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। বুধবার ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের বিজ্ঞপ্তিতে এ কথা জানানো হয়েছে।

এতে বলা হয়, করোনার সংক্রমণ আশঙ্কাজনকভাবে বৃদ্ধি পাওয়ায় গণজমায়েত নিরুৎসাহিত করতে এ অনুরোধ করা হয়েছে। এর আগে গত সোমবার মসজিদে নামাজ আদায়ের ক্ষেত্রে ১০টি শর্ত মানতে অনুরোধ করেছিল ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়।

উপসচিব সাখাওয়াৎ হোসেন স্বাক্ষরিত গতকালের বিজ্ঞপ্তিতে মসজিদে নামাজ আদায়ে তিনটি বিষয় নিশ্চিত করতে অনুরোধ করা হয়েছে।

নিয়ম অমান্য করলে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

নির্দেশনা অনুযায়ী, মসজিদে সামাজিক দূরত্ব ও স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণ করে তারাবিসহ অন্যান্য নামাজ আদায় করতে হবে এবং অন্যান্য ধর্মীয় উপাসনালয়ে একইভাবে নিয়ম মানতে হবে। ধর্ম মন্ত্রণালয় থেকে জারি করা সব নির্দেশনা সংশ্নিষ্ট সবাইকে মেনে চলতে হবে। এর আগে মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনায় বলা হয়, মসজিদের প্রবেশদ্বারে হ্যান্ড স্যানিটাইজার বা হাত ধোয়ার জন্য সাবানপানি রাখতে হবে। মুসল্লিকে অবশ্যই মাস্ক পরতে হবে। প্রত্যেককে নিজ নিজ বাসা থেকে অজু করে, সুন্নত নামাজ আদায় করে মসজিদে আসতে হবে। অজুর সময় কমপক্ষে ২০ সেকেন্ড সাবান দিয়ে হাত ধুতে হবে। জামাতের সময় মসজিদে কার্পেট বিছানো যাবে না। নামাজের আগে সম্পূর্ণ মসজিদ জীবাণুনাশক দিয়ে পরিস্কার করতে হবে। মুসল্লিরা প্রত্যেকে নিজ নিজ দায়িত্বে জায়নামাজ নিয়ে আসবেন। মসজিদে রাখা জায়নামাজ ও টুপি ব্যবহার করা যাবে না। কাতারে দাঁড়ানোর ক্ষেত্রে সামাজিক দূরত্ব ও স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণ করে দাঁড়াতে হবে এবং এক কাতার অন্তর অন্তর কাতার করতে হবে।

এ ছাড়া শিশু, বৃদ্ধ, যে কোনো ধরনের অসুস্থ ব্যক্তি এবং অসুস্থদের সেবায় নিয়োজিত ব্যক্তি জামাতে অংশ নেবেন না। জামাত শেষে কোলাকুলি এবং পরস্পর হাত মেলানো যাবে না। খতিব, ইমাম, মসজিদ পরিচালনা কমিটি ও স্থানীয় প্রশাসনকে বিষয়গুলো বাস্তবায়ন নিশ্চিত করার কথাও বলা হয় নির্দেশনায়।

মন্তব্য করুন