কুমিল্লায় বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটিরশিল্প করপোরেশন (বিসিক) শিল্পনগরীতে একটি ওষুধ কারখানায় ভয়াবহ বিস্ম্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। গতকাল বুধবার সকাল ১০টার দিকে নগরীর রানীর বাজার এলাকায় অবস্থিত বিসিকের বেঙ্গল ড্রাগস অ্যান্ড কেমিক্যাল ওয়ার্কস (ফার্মাসিউটিক্যালস্‌) নামের ওই কারখানায় বিস্ম্ফোরণে সাতজন আহত হয়েছেন। তারা হলেন- কারখানার প্যাকেজিং সুপারভাইজার আল আমিন, শ্রমিক সন্ধ্যা রানী, শারমিন আক্তার, জুলেখা বেগম, ফাহমিদা, ফাতেমা বেগম ও ও পরিচ্ছন্নকর্মী শামীমা আক্তার।

বিসিক ও স্থানীয় সূত্র জানায়, বিসিকের উত্তর দিকের সি ব্লকের ২৪ নম্বর প্লটে ওই ওষুধ কারখানা। তিনতলা ভবনটির দ্বিতীয় তলায় প্যাকেজিং, প্যাকেটজাত ও লেবেল লাগানো হয়। গতকাল সকাল ১০টার দিকে হঠাৎ বিস্ম্ফোরণে দ্বিতীয় তলার দেয়াল উড়ে ৫০ মিটার দূরে গিয়ে পড়ে। দ্বিতীয় তলায় তিনটি এসি লাগানো ছিল। সেগুলোও বিস্ম্ফোরিত হয়েছে। দুর্ঘটনার পর থেকে কারখানাটির কার্যক্রম বন্ধ রাখা হয়েছে।

কোম্পানির প্লান্ট ম্যানেজার সুমন দত্ত বলেন, বিস্ম্ফোরণের সময় পুরো ভবন কেঁপে ওঠে। ভেঙে পড়ে ভবনের কাচ ও দেয়ালের একটি অংশ। তবে কী কারণে বিস্ম্ফোরণ হয়েছে তা এখনও নিশ্চিত হতে পারিনি। এসি, কেমিক্যালের কোনো বিক্রিয়া অথবা গ্যাস সিলিন্ডার থেকেও এ ঘটনা ঘটতে পারে।

কুমিল্লা ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের সহকারী পরিচালক জসীম উদ্দিন বলেন, আমরা আহতদের উদ্ধার করে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠিয়েছি। তারা মূলত বিস্ম্ফোরণে ভেঙে পড়া দেয়ালের ইট ও কাচের আঘাতে আহত হয়েছেন। কারখানার মালিকপক্ষের দাবি, এসির বিস্ম্ফোরণ হয়েছে সেখানে। তবে ভবনের ক্ষতির পরিমাণ দেখে মনে হচ্ছে, কেমিক্যালের কোনো বিক্রিয়া থেকে এই বিস্ম্ফোরণ হতে পারে। আমরা সম্ভাব্য সব কারণই খতিয়ে দেখছি।

বিসিক, কুমিল্লার ডিজিএম জাহাঙ্গীর আলম বলেন, বিস্ম্ফোরণের সঠিক কারণ এখনও জানতে পারিনি। ধারণা করছি, এসির বিস্ম্ফোরণে এই দুর্ঘটনা ঘটেছে। তদন্তের আগে নিশ্চিত করে কিছু বলা যাচ্ছে না।

কুমিল্লা কোতোয়ালি থানার ওসি আনোয়ারুল হক বলেন, দুর্ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা ঘটনাস্থলে গিয়ে উদ্ধারকাজ শুরু করেন। আমরাও বিষয়টি তদন্ত করে দেখছি।

কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইউনিটের প্রধান ডা. মির্জা তাইয়েবুল ইসলাম বলেন, আহতদের কারও শরীর পুড়ে যায়নি। তিনজনকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। গুরুতর আহত তিনজনকে সাধারণ ওয়ার্ডে ভর্তি হতে বলেছি। সেখানে তাদের চিকিৎসা চলছে।

দুপুরে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ কামরুল হাসান। এ সময় সাংবাদিকদের তিনি বলেন, আহতদের চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। এ ঘটনায় অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ও বিসিকের ডিজিএমকে নিয়ে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি করা হয়েছে। কী কারণে এই ঘটনা ঘটেছে, তা তদন্ত করে কমিটিকে আগামী সাত দিনের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে।

মন্তব্য করুন