দেশে করোনাভাইরাসের দ্বিতীয় ডোজের টিকাদান কার্যক্রম শুরু হয়েছে। প্রথম ডোজের টিকা নেওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে ৮১ হাজার ৩২৩ জন গতকাল বৃহস্পতিবার দ্বিতীয় ডোজ নিয়েছেন। একইসঙ্গে প্রথম ডোজের টিকাদানও অব্যাহত রয়েছে। গতকাল প্রথম ডোজের টিকা নিয়েছেন ১৪ হাজার ৮০৪ জন। সব মিলিয়ে গতকাল পর্যন্ত প্রথম ডোজ নিয়েছেন ৫৫ লাখ ৮৩ হাজার ৫০৭ জন। গত ৭ ফেব্রুয়ারি টিকাদানের প্রথম দিনে সারাদেশে প্রথম ডোজ নিয়েছিলেন ৩১ হাজার ১৬০ জন।

দ্বিতীয় ডোজের টিকাদান কার্যক্রমের প্রথম দিনে গতকাল প্রধান বিচারপতিসহ মন্ত্রী-এমপিরা টিকা নিয়েছেন। টিকা গ্রহণের পর মন্ত্রীরা করোনাভাইরাসের সংক্রমণ রোধে সবাইকে টিকা নেওয়ার পাশাপাশি স্বাস্থ্যবিধি ও এ-সংক্রান্ত সরকারের দিকনির্দেশনা যথাযথভাবে মেনে চলার আহ্বান জানান। রাজধানীর শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে সস্ত্রীক টিকা নেন প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন। এ ছাড়া সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের ৫ জন এবং হাইকোর্ট বিভাগের ৫০ জন বিচারপতি সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে টিকার দ্বিতীয় ডোজ নিয়েছেন বলে সাংবাদিকদের জানান সুপ্রিম কোর্টের মুখপাত্র ব্যারিস্টার মোহাম্মদ সাইফুর রহমান। তিনি আরও জানান, সুপ্রিম কোর্টের উভয় বিভাগের অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতিরাও টিকার দ্বিতীয় ডোজ নিয়েছেন।

মন্ত্রীদের মধ্যে গতকাল বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী গোলাম দস্তগীর গাজী সকাল সাড়ে ১০টায় জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউটে সস্ত্রীক দ্বিতীয় ডোজ গ্রহণ করেন। দুপুরে মহাখালীর শেখ রাসেল গ্যাস্ট্রোলিভার ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালে টিকা নেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রী মো. শাহাব উদ্দিন। নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরী বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের কনভেনশন সেন্টারে টিকা নেন। একই স্থানে টিকা নিয়েছেন তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক।

শিল্প প্রতিমন্ত্রী কামাল আহমদ মজুমদার সকাল ১০টায় ঢাকা ডেন্টাল কলেজ হাসপাতালে টিকার দ্বিতীয় ডোজ গ্রহণ করেন। সচিবালয়ের ক্লিনিকে টিকা নেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী মো. মাহবুব আলী। জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউটে টিকা নেন পানিসম্পদ উপমন্ত্রী এ কে এম এনামুল হক শামীম। চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে দ্বিতীয় ডোজের প্রথম দিন শিক্ষা উপমন্ত্রী ব্যারিস্টার মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেলসহ ৯৪৬ জন টিকা নেন।

এদিকে দেশব্যাপী করোনার দ্বিতীয় ডোজের টিকাদান কর্মসূচি গতকাল সকাল ৯টায় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএসএমএমইউ) উপাচার্য অধ্যাপক ডা. মো. শারফুদ্দিন আহমেদের টিকা নেওয়ার মাধ্যমে শুরু হয়। সেখানে অন্যদের মধ্যে দ্বিতীয় ডোজের টিকা নেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার কে এম নূরুল হুদা, প্রধানমন্ত্রীর অর্থ উপদেষ্টা ড. মসিউর রহমান, প্রধানমন্ত্রীর সমাজকল্যাণ ও স্বাস্থ্যবিষয়ক সাবেক উপদেষ্টা অধ্যাপক ডা. সৈয়দ মোদাচ্ছের আলী, বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি ডা. মোস্তফা জালাল মহিউদ্দিন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক মো. আখতারুজ্জামান, দুদক চেয়ারম্যান মঈনউদ্দীন আবদুল্লাহ, পিএসসি সদস্য ফয়েজ আহম্মদ, বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ড. আতিউর রহমান, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন উপাচার্য অধ্যাপক এ কে আজাদ চৌধুরী, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য মুহাম্মদ সামাদ, বিচারপতি জাহাঙ্গীর হোসেন, বিচারপতি শাহিনুর ইসলাম প্রমুখ।

টিকা নেওয়ার পর সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে বিএসএমএমইউ উপাচার্য অধ্যাপক ডা. মো. শারফুদ্দিন আহমেদ বলেন, একমাত্র কার্যকরভাবে ভ্যাকসিনেশনের মাধ্যমেই করোনার বর্তমান প্রাদুর্ভাব থামানো সম্ভব। করোনাভাইরাস প্রতিরোধে অবশ্যই টিকা নিতে হবে। দ্বিতীয় ডোজ নেওয়ার ১৪ দিন পর থেকে শরীরে এন্টিবডি তৈরি হয়। এতে আক্রান্তের হার ও মৃত্যুর হার উভয়ই কমবে। তিনি বলেন, সারাবিশ্বে করোনার টিকাদান কার্যক্রম সম্পন্ন করতে ২০২৪ সাল পর্যন্ত সময় লাগবে। এ সময় পর্যন্ত অবশ্যই মাস্ক পরাসহ সব ধরনের স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে হবে।

গত ২৭ জানুয়ারি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশে করোনা টিকাদান কার্যক্রম উদ্বোধন করেন। ওই দিনই রাজধানীর কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে পাঁচজনকে টিকা দেওয়া হয়।

মন্তব্য করুন