প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশবাসীর উদ্দেশে বলেছেন, জীবন সবার আগে। বেঁচে থাকলে আত্মীয়স্বজনের সঙ্গে দেখা হবে। তাই জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ঈদ উপলক্ষে সবাই ছোটাছুটি না করে যে যেখানে আছেন, সেভাবেই ঈদটা উদযাপন করুন।

গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সে দেশে নতুন চারটি মেরিন একাডেমির পাশাপাশি নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন বিভিন্ন সংস্থার অবকাঠামো ও শতাধিক জলযানের উদ্বোধন অনুষ্ঠানে যুক্ত হয়ে এসব কথা বলেন তিনি। খবর বাসস, ইউএনবি ও বিডিনিউজের।

এ সময় রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনের বিরোধিতাকারীরা অতীতে সুন্দরবনের ভেতর দিয়ে পণ্যবাহী জাহাজ চলাচলের প্রতিবাদ কেন করেননি, সেই প্রশ্নও তুলেছেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি নৌপথে দুর্ঘটনা এড়াতে দায়ী ব্যক্তিদের জবাবদিহির আওতায় আনা ও যথাযথ ক্ষতিপূরণের স্বার্থে সব ধরনের নৌযানকে নিবন্ধনের আওতায় আনার ওপর জোর দিয়েছেন।

এদিন উদ্বোধন করা অবকাঠামো ও জলযানের মধ্যে রয়েছে- বিআইডব্লিউটিএর ২০টি কাটার সাকশন ড্রেজার, ৮৩টি ড্রেজার সহায়ক জলযান, প্রশিক্ষণ জাহাজ 'টিএস ইলিয়াস আহমেদ চৌধুরী (দাদাভাই)', বিশেষ পরিদর্শন জাহাজ 'পরিদর্শী', নবনির্মিত নারায়ণগঞ্জ ড্রেজার বেজ, বিআইডব্লিউটিসির দুটি উপকূলীয় যাত্রীবাহী জাহাজ 'এমভি তাজউদ্দীন আহমদ' এবং 'এমভি আইভি রহমান', পায়রা বন্দর কর্তৃপক্ষের 'পায়রা আবাসন' পুনর্বাসন কেন্দ্র এলাকায় ভূমি অধিগ্রহণের ফলে ক্ষতিগ্রস্তদের মাঝে ৫০০ পাকা বাড়ি বিতরণ এবং পাবনা, বরিশাল, রংপুর ও সিলেট মেরিন একাডেমি।

প্রধানমন্ত্রী এ সময় নৌযানে কাউকে অতিরিক্ত যাত্রী হয়ে না ওঠার এবং নৌযানের নিরাপত্তা বজায় রাখতে যাত্রী, মালিক এবং নৌযান কর্তৃপক্ষসহ সকলকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান। তাড়াহুড়োয় দুর্ঘটনার শিকার হয়ে নিজের এবং পরিবারের জীবন বিপন্ন না করারও আহ্বান জানান তিনি।

সরকারপ্রধান বলেন, 'ভ্রমণের ফলে করোনাভাইরাসের বিস্তার আরও বাড়তে পারে। সুতরাং, স্বাস্থ্য সুরক্ষা প্রটোকলগুলো বজায় রাখতে এবং অত্যন্ত জরুরি না হলে ভ্রমণ থেকে বিরত থাকতে আপনাদের সকলের কাছে আমার অনুরোধ রইল।' তিনি বলেন, করোনাটা যাতে সমগ্র দেশে ছড়িয়ে না পড়তে পারে, সে জন্য স্বাস্থ্য সুরক্ষাবিধি মেনে চলুন। জরুরি প্রয়োজন ছাড়া কাউকে এক স্থান থেকে অন্য স্থানে যাতায়াত না করারও আহ্বান জানান তিনি।

অনিবন্ধিত এবং ফিটনেসবিহীন নৌযান যেন চলাচল করতে না পারে, সে ব্যাপারে সতর্ক দৃষ্টি রাখার জন্য নৌ পরিবহন মন্ত্রণালয়কে নির্দেশ দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, উপযুক্ত প্রশিক্ষণ দিয়ে জলযানগুলো পরিচালনা করা হলে দুর্ঘটনা হ্রাস পাবে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, কভিড-১৯ মানুষকে সত্যই খুব কষ্ট দিচ্ছে। তবে তার সরকার একে প্রতিরোধ এবং ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসনে যথাযথ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। ইতোমধ্যে অতিদরিদ্র ৩৬ লাখ ৫০ হাজার মানুষের জন্য নগদ আড়াই হাজার টাকা করে আর্থিক সুবিধা সরকার প্রদান করেছে। দুর্যোগ ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় থেকেও খাদ্য সহায়তা দেওয়া হচ্ছে।

শেখ হাসিনা বলেন, অনেকেই সুন্দরবন নিয়ে অনেক চিন্তাভাবনা করেন, অনেক কথা বলেন। আমরা যখন রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্র করতে গেলাম তার বিরুদ্ধে আন্দোলন-সংগ্রাম করে যাচ্ছেন। কিন্তু তাদের কাছে আমার প্রশ্ন- ঘাসিয়া খালটা যখন বন্ধ হয়ে গেল আর সুন্দরবনের ভেতর থেকে যেখানে জীববৈচিত্র্য পরিপূর্ণ জায়গা, সেখান থেকে যখন জাহাজ আসে তখন আমাদের এই আন্দোলনকারীরা চুপ ছিলেন কেন? তারা তখন এই কথাটা কেন বলেননি যে সুন্দরবনের ভেতর থেকে পণ্য পরিবহন করলে ওই জায়গাগুলোতে জীববৈচিত্র্যও নষ্ট হবে, সুন্দরবনও নষ্ট হতে পারে।

ঘাসিয়া খালের চ্যানেলের নাব্য আওয়ামী লীগের সরকারই ফিরিয়ে এনেছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, শাল্লা নদীর তীরে এখন আর পণ্যবাহী জাহাজ আসে না। সেখানে আমাদের সুন্দরবন এবং সুন্দরবনের যে জীববৈচিত্র্য, সেগুলো বৃদ্ধি পাচ্ছে এবং সেটা সংরক্ষিত হচ্ছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, মোংলা বন্দরটা স্থাপনের সময়ও সুন্দরবনের যাতে কোনো ক্ষতি না হয়, সেদিকে লক্ষ্য রাখা হয়েছিল। বিদ্যুৎকেন্দ্রও করা হচ্ছে সেদিকে লক্ষ্য রেখেই। তিনি বলেন, ১৯৯৮ সালে আওয়ামী লীগ সরকারের আমলেই সুন্দরবনকে 'ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ' হিসেবে ঘোষণা করা হয়। যেই অংশটা হেরিটেজ, সেখান থেকেও প্রায় ২০০ কিলোমিটার দূরে 'সুপারক্রিটিক্যাল' রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্র করা হচ্ছে।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরী। সংশ্নিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সচিব মেজবাহ উদ্দিন চৌধুরী স্বাগত বক্তৃতা করেন। মুখ্য সচিব ড. আহমদ কায়কাউস গণভবন থেকে অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন।

মন্তব্য করুন