হেফাজতে ইসলামের সদ্যবিলুপ্ত কেন্দ্রীয় কমিটির আইনবিষয়ক সম্পাদক ও সুনামগঞ্জ-৩ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য শাহীনুর পাশা চৌধুরীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। বৃহস্পতিবার রাতে সিলেট নগরীর বনকলাপাড়ায় এ অভিযান চালানো হয়। তাকে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় তাণ্ডবের মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। এ ছাড়া সুনামগঞ্জ ও সিলেটের নাশকতার ঘটনাতেও তার সংশ্নিষ্টতা ছিল।

সিআইডির অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জিসানুল হক জানান, হেফাজতের সাম্প্রতিক ধ্বংসাত্মক কার্যকলাপে সংশ্নিষ্টতা পাওয়ায় শাহীনুর পাশাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাকে গতকালই ব্রাহ্মণবাড়িয়ার মামলায় আদালতে হাজির করা হয়েছে।

সিআইডি সূত্র জানায়, ঢাকা থেকে সিআইডির একটি দল সিলেটের বনকলাপাড়ার আব্বাসী জামে মসজিদে যায়। সেখান থেকে রাত পৌনে ১টার দিকে শাহীনুর পাশাকে গ্রেপ্তার করা হয়। রাতেই তাকে নিয়ে আসা হয়। হেফাজতের নাশকতায় জড়িত ব্যক্তিদের সঙ্গে তার ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ ছিল। তাদের আইনি সহায়তাসহ বিভিন্নভাবে সহযোগিতা করেছেন তিনি।

সিলেটের বিমানবন্দর থানার ওসি খান মোহাম্মদ ময়নুল জাকির জানান, সিলেট থেকে এই প্রথম কোনো হেফাজত নেতাকে গ্রেপ্তার করা হলো।

আওয়ামী লীগ সরকারের সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবদুস সামাদ আজাদের মৃত্যুর পর তার আসনে উপনির্বাচনে চারদলীয় জোটের প্রার্থী হন জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় সহসভাপতি অ্যাডভোকেট শাহীনুর পাশা।

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বাংলাদেশ সফরের বিরোধিতার নামে গত ২৬ মার্চ স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীর দিনে বায়তুল মোকাররম মসজিদ এলাকায় তাণ্ডব চালায় হেফাজতের নেতাকর্মীরা। সেদিন চট্টগ্রামেও পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষ ও হতাহতের ঘটনা ঘটে। এরপর বিক্ষোভ ও হরতাল কর্মসূচিতে ব্রাহ্মণবাড়িয়াসহ বিভিন্ন স্থানে নাশকতার ঘটনা ঘটে। এসব ঘটনায় হেফাজতের কেন্দ্রীয় নেতাদের ইন্ধন ছিল বলে অভিযোগ রয়েছে।

শাহীনুরের বিরুদ্ধে অনিয়ম-দুর্নীতির অনেক অভিযোগ :সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি জানান, সুনামগঞ্জ-৩ আসনে ১৫ মাস এমপি ছিলেন শাহীনুর পাশা। মেয়াদ শেষ হওয়ার পরপরই তার বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহার ও অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগ ওঠে। প্রতারণার অভিযোগে মামলাও হয়। জারি হয় গ্রেপ্তারি পরোয়ানা। পরে অবশ্য তিনি জামিন পান।

আবাসন ব্যবসার কথা বলে যুক্তরাজ্য প্রবাসী এক ব্যবসায়ীর ৩২ লাখ ২০ হাজার টাকা আত্মসাতের অভিযোগে ২০১৮ সালে ১৩ ডিসেম্বর তার বিরুদ্ধে মামলা হয়। সিলেটের অতিরিক্ত মুখ্য বিচারিক হাকিম আদালত এই মামলায় পরোয়ানাও জারি করেন। মামলার বাদী ঢাকার বনানীর বাসিন্দা মোহাম্মদ আলী তালুকদার যুক্তরাজ্যপ্রবাসী। তার অভিযোগ, শাহীনুর পাশার সঙ্গে যুক্তরাজ্যে তার পরিচয় হয়। সিলেট-সুনামগঞ্জ সড়কের পাশে তার 'মাতৃভূমি হাউজিং ডেভেলপমেন্ট লিমিটেডে'র নামে একটি আবাসন প্রকল্প আছে জানিয়ে বিনিয়োগের প্রস্তাব দেন। মোহাম্মদ আলী ২০১২ সালের ৪ নভেম্বর থেকে কয়েক দফায় ৩২ লাখ ২০ হাজার টাকা দেন। কিন্তু শাহীনুর তাকে না জানিয়ে প্রকল্পটি বিক্রি করেন। এরপর থেকে বারবার যোগাযোগ করলেও শাহীনুর টাকা দেননি। পরে তিনি চেক দিলেও তা ডিজঅনার হয়।

এমপির মেয়াদ শেষ হওয়ার পর তার বিরুদ্ধে বিদ্যুদায়নের নামে টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ ওঠে। দক্ষিণ সুনামগঞ্জ উপজেলার শান্তিগঞ্জ বাজারে সংবাদ সম্মেলনে এই অভিযোগ করেন যুক্তরাজ্য প্রবাসী আবদুল আউয়াল। ওই সময়ে শাহীনুর দাবি করেছিলেন, তিনি ষড়যন্ত্রের শিকার।

মন্তব্য করুন