করোনা সংক্রমণে গত ২৪ ঘণ্টায় এক হাজার ২৮৫ জন রোগী পাওয়া গেছে। প্রায় আট সপ্তাহে এটিই সর্বনিম্ন সংখ্যা। গত ১৪ মার্চ এক হাজার ১৫৯ জন রোগী পাওয়া গিয়েছিল। গত শুক্রবারও রোগী ছিল এক হাজার ৬৮২ জন। দেশে এখন করোনা আক্রান্তের মোট সংখ্যা ৭ লাখ ৭২ হাজার ১২৭ জন। মূলত অন্যদিনের তুলনায় পরীক্ষা কিছু কম হওয়ায় কমেছে শনাক্তের সংখ্যা। তবে কিছুটা কমে এসেছে শনাক্তের হারও।

এদিকে গত দু'দিনের তুলনায় বেড়েছে মৃত্যু। গত ২৪ ঘণ্টায় মৃত্যু হয়েছে আরও ৪৫ জনের। এর আগে শুক্রবার ৩৭ জন ও বৃহস্পতিবার ৪১ জন মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েছিল। সংক্রমণের ৪২৭তম দিনে এসে মোট ১১ হাজার ৮৭৮ জন করোনার বিষে মারা গেল।

দেশের ৪২০টি ল্যাবে গতকাল নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে ১৪ হাজার ৭০৩টি। নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে ১৪ হাজার ৩২৪টি। এর আগে শুক্রবার ১৭ হাজারের কিছু বেশি পরীক্ষা করা হয়েছিল। করোনা সংক্রমণের পুরো সময়ে মোট পরীক্ষা হয়েছে ৫৬ লাখ ১৩ হাজার ৯৭৯টি। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের বিজ্ঞপ্তি থেকে এ তথ্য জানা গেছে।

সর্বশেষ গত ২৪ ঘণ্টায় পরীক্ষার তুলনায় করোনা রোগী শনাক্ত হয়েছে ৮ দশমিক ৭৪ শতাংশ। গত শুক্রবার ৯ দশমিক ৮৯ শতাংশ হারে শনাক্ত হয়েছিল। সব মিলিয়ে পরীক্ষার বিপরীতে ১৩ দশমিক ৭৫ শতাংশ রোগী শনাক্ত করা হয়েছে। দেশে বর্তমানে শনাক্ত বিবেচনায় সুস্থতার হার ৯১ দশমিক ৫৪ এবং মৃত্যুর হার এক দশমিক ৫৪ শতাংশ। গত ২৪ ঘণ্টায় সুস্থ হয়ে উঠেছে ২ হাজার ৪৯২ জন। সর্বমোট ৭ লাখ ৬ হাজার ৮৩৩ জন সুস্থতার তালিকায় এসেছে।

গত ২৪ ঘণ্টায় মৃতদের মধ্যে ২৬ জন পুরুষ ও ১৯ জন নারী। এ পর্যন্ত মৃতদের ৭২ দশমিক ৫৩ শতাংশ পুরুষ এবং ২৭ দশমিক ৪৭ শতাংশ নারী। গত ২৪ ঘণ্টায় মৃতদের মধ্যে ঢাকা বিভাগের ২১ জন, চট্টগ্রামের ১৩ এবং খুলনার তিনজন। এ ছাড়া বরিশাল, সিলেট ও রংপুরে দু'জন করে এবং রাজশাহী ও ময়মনসিংহে এক জন করে মারা গেছেন। তাদের মধ্যে সরকারি হাসপাতালে ৩৫ জন এবং বেসরকারি হাসপাতালে মারা গেছেন ১০ জন। মৃতদের বয়স বিশ্নেষণে দেখা যায়, ৬০ বছরে ঊর্ধ্বে রয়েছেন ২২ জন, ৫১ থেকে ৬০ বছরের মধ্যে ১২ জন, ৪১ থেকে ৫০ বছরের মধ্যে সাতজন, ৩১ থেকে ৪০ বছরের মধ্যে এবং ১০ বছরের নিচে দু'জন করে রয়েছেন।

গত ২৪ ঘণ্টায় আইসোলেশনে এসেছে ৩৬২ জন ও আইসোলেশন থেকে ছাড় পেয়েছে ২৯২ জন। এ পর্যন্ত আইসোলেশনে এসেছে এক লাখ ২৫ হাজার ৮৬৮ জন এবং ছাড় পেয়েছে এক লাখ ছয় হাজার ৮৯৫ জন। বর্তমানে আইসোলেশনে আছে ১৮ হাজার ৯৭৩ জন। এ সময়ে নতুন করে কোয়ারেন্টাইনে এসেছে এক হাজার ৩৯১ জন এবং ছাড় পেয়েছে এক হাজার ২৭২ জন। এখন পর্যন্ত মোট সাত লাখ ২২ হাজার ৫০৩ জন কোয়ারেন্টাইনের আওতায় এসেছে এবং ছাড় পেয়েছে ছয় লাখ ৭৪ হাজার ১৭ জন। এখন কোয়ারেন্টাইনে আছে ৪৮ হাজার ৪৮৬ জন।

ওয়ার্ল্ডওমিটারের তথ্য অনুযায়ী, করোনায় আক্রান্তের সংখ্যায় বিশ্বে বাংলাদেশের অবস্থান এখন ৩৩তম। মৃত্যুর সংখ্যায় ৩৭তম।

মন্তব্য করুন