প্রথম ম্যাচে লিটন, পরের ম্যাচে সাকিব হলেন ত্রাতা। এবার কি তামিমকে দেখা যাবে দলের কাণ্ডারি হয়ে ম্যাচ জেতাতে? আসলে দলীয় খেলা ক্রিকেটে কোনো একজন ম্যাচ জেতাতে পারেন না, কমবেশি দলগত পারফরম্যান্সের প্রয়োজন হয়। এক-দু'জন ভালো করলে বাকিদের 'সাপোর্টিভ রোল' নিয়েই জিততে হয়। সবচেয়ে ভালো হয় সমন্বিত বা দলীয় পারফরম্যান্স করা গেলে। টিম ম্যানেজমেন্টও ক্রিকেটারদের কাছ থেকে সমন্বিত পারফরম্যান্স আশা করেন। আজ সিরিজের শেষ ওয়ানডেতেও হয়তো সেটাই চাইবেন কোচ রাসেল ডমিঙ্গো। অবশ্য একক বা দলগত পারফরম্যান্স যেটাই হোক না কেন, শেষ পর্যন্ত জয়টাই মুখ্য। ভালো ক্রিকেট খেলে জিম্বাবুয়েকে হোয়াইটওয়াশ করা গেলেই হলো। গতকাল দলীয় প্রতিনিধি হয়ে সাইফউদ্দিন জানালেন, স্বাগতিকদের হোয়াইটওয়াশ করার মধ্য দিয়েই সিরিজ শেষ করতে চান তারা।

জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে চলমান এই সিরিজে টানা দুই ম্যাচ জিতে ২০ পয়ন্টে তুলে নিয়েছে বাংলাদেশ। আজ জিতলে পূর্ণ ৩০ পয়েন্ট যোগ হবে সুপার লিগ টেবিলে। ১২ ম্যাচ থেকে ৮০ পয়েন্ট হবে টাইগারদের। তামিমদের কাছে যেটা বেশি গুরুত্বপূর্ণ। বাকি চার সিরিজ থেকে সমপরিমাণ পয়েন্ট নিতে পারলে শীর্ষ সাত দলে থেকে ২০২৩ সালের ওয়ানডে বিশ্বকাপে সরাসরি কোয়ালিফাই করতে পারবেন তারা। ওয়েস্ট ইন্ডিজ, নিউজিল্যান্ড, শ্রীলঙ্কার পর বাংলাদেশ চতুর্থ সিরিজটি খেলছে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে। বাকি চার সিরিজের প্রতিপক্ষ ইংল্যান্ড, দক্ষিণ আফ্রিকা, আয়ারল্যান্ড ও আফগানিস্তান। সুপার লিগের ম্যাচ খেলতে হবে না ভারত, পাকিস্তান ও নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে। পেন্ডামিকের কারণে ১৩ দলের সুপার লিগে আটটি করে ম্যাচ খেলতে হচ্ছে প্রতিটি দলকে। পয়েন্ট টেবিল দ্বিতীয় স্থানে থাকা বাংলাদেশের ৭০ পয়েন্টকে ৮০-তে উন্নীত করতে হলে আজ জিততেই হবে। গত দুই ম্যাচের ধারাবাহিকতায় সেটা সম্ভব মনে করছেন সাইফউদ্দিন, '২০২৩ বিশ্বকাপের জন্য আমাদের কাছে প্রতিটি সিরিজই গুরুত্বপূর্ণ। তামিম ভাই কিছুটা চোট নিয়ে খেলছে। কারণ সুপার লিগের পয়েন্টের একটা বিষয় আছে। সে কারণে সবাই সিরিয়াসলি খেলছে। জিম্বাবুয়েকে হালকাভাবে নেওয়ার কিছু নেই। ওরা ঘরের মাঠে খেলছে আমাদের ফোকাসটা বেশি থাকতে হবে। অনেক সময় হয়তো রেজাল্ট বের করতে কষ্ট হয়ে যাচ্ছে। আমরা শতভাগ দিয়ে চেষ্টা করছি। আর একটি ম্যাচ বাকি আছে, হালকাভাবে নেওয়ার কিছু নেই। হোয়াইটওয়াশ করা আমাদের লক্ষ্য থাকবে। আমরা প্রসেস ঠিক রাখতে পারলে ইনশাআল্লাহ সিরিজ ৩-০ হবে।'

বাংলাদেশ আট বছর পর জিম্বাবুয়েতে সিরিজ খেললেও এবার প্রথম থেকেই ফোকাস ছিল। একমাত্র টেস্ট ম্যাচে ভালো করায় ছন্দ পেয়ে গেছে দল। যদিও জিম্বাবুয়ের এ দলটি পারফরম্যান্সের দিক দিয়ে খুবই দুর্বল। তাদের বোলিং পুরোপুরি পেসনির্ভর। সেখানেও ব্লেসিং মুজারাবানি ছাড়া বাকিরা সাদামাটা বোলার। যে এক-দু'জন স্পিনার খেলাচ্ছে তাদের কেউই নিয়মিত বোলার না। এই বোলারদের বলেও খেলতে নাভিশ্বাস উঠছে তামিমদের। প্রথম ম্যাচে শূন্য, পরের ম্যাচে ২০ রান করেছেন অধিনায়ক। মিঠুন, মোসাদ্দেক উইকেটে থিতুই হতে পারেননি। মাহমুদুল্লাহরা কাজে লাগাতে পারেননি অভিজ্ঞতা। গত দুই ম্যাচেই দ্রুত তিন-চারজন ব্যাটসম্যানকে হারিয়ে চাপে পড়ে যেতে হয়েছে। বোলিংয়ের মতো জিম্বাবুয়ে ব্যাটিং লাইনআপও নড়বড়ে। এমন সাদামাটা একটি দলের বিপক্ষে দ্বিতীয় ম্যাচ জিততে ঘাম ছুটে গেছে টাইগারদের। তাই শেষ ম্যাচটি শুধু পয়েন্ট পাওয়ারই নয়, সমন্বিত পারফরম্যান্স করে নিজেদের গুছিয়ে নেওয়ারও। সুযোগটা তামিমরা কতটা কাজে লাগাতে পারেন দেখার বিষয়।

অধিনায়ক হওয়ায় হাঁটুর চোট নিয়ে খেলা তামিম শেষ ম্যাচটিও খেলবে বলে জানান টিম লিডার আহমেদ সাজ্জাদুল আলম ববি। চোট সমস্যা না করলে টি২০ সিরিজের প্রস্তুতির জন্য হলেও মুস্তাফিজকে খেলানোর চেষ্টা করা হতে পারে। যদিও তাসকিন ও শরিফুল ভালো বোলিং করছেন। সাইফউদ্দিন খেলছেন অলরাউন্ডার কোটায়। সেদিক থেকে বোলিংয়ে পরিবর্তনের সুযোগ কম। বরং টানা দুই ম্যাচে রান না পাওয়ায় ঝুঁকির মুখে মিঠুন। যে বা যারাই খেলেন তৃতীয় ওয়ানডেটি জিতে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে টানা জয়ের রেকর্ড ধরে রাখতে চাইবে বাংলাদেশ। ২০১৩ সালের পর এই দলটির বিপক্ষে টানা ১৮টি ওয়ানডে জিতেছেন তামিমরা। হারারেতে বাংলাদেশ আজ শেষ ওয়ানডে জিতে নিলে টানা পাঁচ সিরিজে হোয়াইটওয়াশ হবে জিম্বাবুয়ে।

মন্তব্য করুন