খুব খারাপ ব্যাটিং না করলে টি২০ ম্যাচে অলআউট করা কঠিন। বাংলাদেশকে গতকাল অলআউটই হতে হলো। সরল সমীকরণে বাংলাদেশ ভালো ব্যাটিং করেনি। অভিষিক্ত শামীম পাটোয়ারীর মতো চার-ছক্কা মারতে গিয়ে সবাই আউট হয়েছেন, তাও নয়। জিম্বাবুয়ের নখদন্তহীন বোলিংয়ের বিপরীতে স্বাভাবিক ব্যাটিংও করতে পারেননি মাহমুদুল্লাহরা। যে কারণে দ্বিতীয় টি২০ ম্যাচে বাংলাদেশ হেরে গেল ২৩ রানে। জয়ের ছন্দে উড়তে থাকা টাইগারদের মাটিতে নামিয়ে ১-১ সমতায় সিরিজ জমিয়ে দিল জিম্বাবুয়ে। আগামীকাল হারারে স্পোর্টস ক্লাব মাঠের শেষ টি২০ ম্যাচটি হয়ে গেল সিরিজ নির্ধারণী।

টেস্ট ও ওয়ানডের ছন্দ ধরে রেখে বৃহস্পতিবার টি২০ সিরিজের উদ্বোধনী ম্যাচটিও জিতে নেয় বাংলাদেশ। সৌম্য সরকার ও নাঈম শেখ ওপেনিং জুটিতে ৮০ বলে ১০১ রান তুলে পরের ব্যাটসম্যানদের কাজটি সহজ করে দেন। ১৫৩ রানের টার্গেট সাত বল বাকি থাকতেই পূরণ করে ফেলেন মাহমুদুল্লাহরা। অথচ গতকাল এক বল বাকি রেখে অলআউট হলেন তারাই। সফরকারীদের বোলিং ও ফিল্ডিংয়ের দুর্বলতার সুযোগ কাজে লাগিয়ে ২০ ওভারে ৬ উইকেটে ১৬৬ রান করে জিম্বাবুয়ে। বাংলাদেশের ফিল্ডিং ছিল ভুলে ভরা। ক্যাচ পড়েছে তিনটি। সাকিবের বলে মাহমুদুল্লাহ সহজ ক্যাচ না ফেললে ওয়েসলি মাদেভেরের সাজঘরে ফেরার কথা ৪৪ রানে। টাইগার দলপতির হাতে জীবন পাওয়া স্বাগতিক এ ব্যাটসম্যান শরিফুলের শিকার

হন ৫৭ বলে ৭৩ রান করে। ৩০টি রান বেশি করায় জয়ের ভিত রচিত হয়েছিল তার হাতেই। ভুল বোঝাবুঝিতে ক্যাচ ফেলেন শরিফুল। বাঁহাতি এ পেসারের করা ইনিংসের শেষ ওভারে রায়ান বার্লের ক্যাচও ফসকে যায়। গ্রাউন্ড ফিল্ডিংয়েও ভুল কম হয়নি। নাঈম শেখের দুই পায়ের মাঝ দিয়ে বল গেছে বাউন্ডারিতে। এক রানের জায়গায় চার রান পেয়ে গেছেন মাদেভেরে। তিন সংস্করণ মিলিয়ে টানা পাঁচ ম্যাচে হেরে যাওয়া জিম্বাবুয়ে দল গতকাল করল পরিকল্পিত ব্যাটিং। ছোট ছোট জুটি গড়ে চ্যালেঞ্জিং স্কোর পেল তারা। ডট বল কম খেলে প্রথম থেকেই রান করায় ফোকাস ছিল স্বাগতিকরা। এতে প্রতিটি জুটিই বলের চেয়ে রান বেশি যোগ হয়েছে স্কোর বোর্ডে। দিয়ন মেয়ার্স ২১ বলে ২৬, রায়ান বার্ল ১৯ বলে ৩৪ রান করে টাইগার বোলারদের চাপে ফেলেন। শেষ দুই ওভার থেকে ২৬ রান তোলেন রায়ানরা। ভুল ছিল অধিনায়কেরও, বোলিং পরিবর্তনে মুনশিয়ানার পরিচয় দেননি। সাতজনকে দিয়ে ২০ ওভার শেষ করেন তিনি। তাসকিন, শরিফুল, সাইফউদ্দিন, সাকিব চার ওভার করে পেলেও বাকিদের ওপর ভরসা রাখতে পারেননি অধিনায়ক। শেখ মেহেদী হাসান এক ওভারে ১১ রান দেওয়ায় পর আর বোলিং পাননি।

বোলিং-ফিল্ডিংয়ের ছন্দপতনের প্রভাব ব্যাটিংয়ে গিয়েও পড়ে। ব্যাটসম্যানরা ভুল শট খেলায় শুরু থেকেই উইকেট হারাতে থাকে দল। তাদের ড্রেসিংরুমে ফেরার মিছিল লেগে যাওয়ায় ৬৮ রানে ৬ উইকেট হারায় বাংলাদেশ। আফিফ হোসেন ও শামীম পাটোয়ারী ২৩ বলে ৪১ রানে জুটি গড়ায় ম্যাচটি হাতের মুঠোয় চলে এসেছিল। পাটোয়ারী ১৩ বলে ৩টি চার ও ২ ছক্কায় ২৯ রান করায় বল ও রানের ব্যবধান কমে আসে। আফিফ ও সাইফউদ্দিন টিকে গেলে ফল নিজেদের পক্ষে আনাও সম্ভব হতো। জিম্বাবুয়ের বোলিং বিবেচনায় ১৬৬ রানে তো বড় কোনো স্কোর নয়। গুছিয়ে ব্যাটিং করতে পারলে টপঅর্ডারের হাতেই ম্যাচ শেষ হতে পারত। স্বাগতিক একাদশে জোরে বোলার বলতে একা মুজারাবানি। তিনি না হয় দুই উইকেট নিলেন, কিন্তু লুক জংওয়ে ও টেন্ডাই চাতারার পাঁচ উইকেট পাওয়া বলতে গেলে ব্যাটসম্যানদের উপহার। স্পিনের দেশের ব্যাটসম্যানরা যে ওয়েলিংটন মাসাকাদজার মতো বাঁহাতি স্পিনারকে তিন উইকেট দিলেন, সেটাও কি মেনে নেওয়ার মতো? মোটের ওপর জিম্বাবুয়ের ভালো খেলার চেয়েও বাংলাদেশ বাজে খেলে হেরেছে ম্যাচ। অথচ এ ম্যাচটি দ্বিগুণ প্রেরণা নিয়ে খেলার কথা মাহমুদুল্লাহদের। লেগস্পিনার আমিনুল ইসলাম বিপ্লবের বাবার মৃত্যু পুরো দলকেই তো স্পর্শ করেছে। জাতীয় দল সতীর্থের পিতৃবিয়োগে ম্যাচের আগে এক মিনিট নীরবতাও পালন তো সে কথাই বলে। অথচ বিপ্লবকে সান্ত্বনা দেওয়ার জয়টিই যে পাওয়া হলো না। ম্যাচ শেষে অধিনায়ক মাহমুদুল্লাহ ব্যাটিং ব্যর্থতার কথা স্বীকারও করলেন, 'এ ধরনের স্কোর চেজ করতে হলে ব্যাটিংয়ের শুরুটা খুব ভালো হওয়া দরকার। আজ আমরা সেটা করতে পারিনি। উইকেট পড়ে যাওয়া বড় শট খেলতেই হতো। ৫০-৬০ রানের একটি জুটির দরকার ছিল, সেটা আমরা করতে পারিনি। আমাদের পরিকল্পনাগুলো আজ কাজে দেয়নি। তবে ওদের কৃতিত্ব দিতেই হবে, ওরা ভালো ক্রিকেট খেলে জিতেছে। পরের ম্যাচটি সিরিজ নির্ধারণী। আমাদের পরিকল্পনা এখন ওই ম্যাচ ঘিরেই।'

মন্তব্য করুন