করোনার প্রতিষেধক টিকা নিয়ে সৃষ্ট সংকট কাটিয়ে উঠতে শুরু করেছে বাংলাদেশ। যুক্তরাষ্ট্র থেকে দুই দফায় মডার্নার ৪৫ লাখ, চীন থেকে তিন দফায় সিনোফার্মের ৩১ লাখ টিকা এসেছে। আজ শনিবার জাপান থেকে কোভ্যাক্সের আওতায় আরও ২ লাখ ৪৫ হাজার ২০০ ডোজ অ্যাস্ট্রাজেনেকার টিকা আসছে। চলতি জুলাই ও আগস্টের মধ্যে আরও কয়েকটি লটে বড় অঙ্কের টিকা পাওয়ার কথা রয়েছে। তবে ভারতের সেরাম ইনস্টিটিউটের তৈরি অক্সফোর্ডের টিকা কোভিশিল্ড পাওয়ার বিষয়ে এখনও অনিশ্চয়তা কাটেনি। ঢাকায় নিযুক্ত সে দেশের হাইকমিশনার বিক্রম দোরাইস্বামী গতকালও বলেছেন, কবে নাগাদ বাংলাদেশকে টিকা দেওয়া যাবে সে বিষয়ে সুনির্দিষ্ট কোনো তারিখ নেই। এরপরও বিভিন্ন উৎস থেকে টিকা পাওয়ার পর ইতোমধ্যে দেশব্যাপী আবারও গণটিকাদান কার্যক্রম শুরু হয়েছে। একইসঙ্গে টিকাপ্রাপ্তির বয়সসীমাও ধাপে ধাপে কমিয়ে আনা হচ্ছে। ঈদের ছুটির আগে টিকা নিবন্ধনের বয়সসীমা ৩০ বছরে নামিয়ে আনা হয়। গতকাল শুক্রবার টিকা নিবন্ধনের বয়সসীমা ১৮ বছরে কমিয়ে আনার সরকারি সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. আবুল বাশার মোহাম্মদ খুরশীদ আলম। তবে কবে নাগাদ এটি করা হবে সে সম্পর্কে সুনির্দিষ্ট করে কিছু জানানো হয়নি।

মুগদা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা কার্যক্রম পরিদর্শনে গিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে মহাপরিচালক বলেন, টিকা গ্রহণের জন্য নিবন্ধনের সর্বনিম্ন বয়স ১৮ বছর করে দেওয়া হবে। স্বাস্থ্যমন্ত্রী এ বিষয়ে আজ (শুক্রবার) সকালে দিকনির্দেশনা দিয়েছেন। এখন বিষয়টি কমিটিতে আলোচনা করা হবে। এরপর স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে আলোচনা করে দ্রুততম সময়ের মধ্যেই নূ্যনতম বয়সসীমা ১৮ বছর করার বিষয়ে কাজ শুরু করা হবে। একইসঙ্গে গ্রাম পর্যায়ে প্রান্তিক জনগোষ্ঠীকে কীভাবে আরও সহজ প্রক্রিয়ায় টিকা দেওয়া যায় তা নিয়েও সরকার চিন্তাভাবনা করছে বলে জানান তিনি।

এর আগে কভিড-১৯ সংক্রান্ত জাতীয় কারিগরি পরামর্শক কমিটি টিকা প্রদানের বয়সসীমা ১৮ বছর করার সুপারিশ করে। এরপর স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক টিকা প্রদানের বয়সসীমা ১৮ বছর করার পরিকল্পনার কথা জানান। চলতি বছরের ২৬ জানুয়ারি দেশে টিকার জন্য নিবন্ধন শুরু হয়। শুরুতে ৫৫ বছর বা তার বেশি বয়সীদের নিবন্ধনের সুযোগ দেওয়া হয়। পরে তিন ধাপে বয়সসীমা কমিয়ে ৩০ বছর করা হয়। এখন ৩০ বছর বা তার বেশি বয়সী নাগরিকরা সুরক্ষা প্ল্যাটফর্মের ওয়েবসাইটে গিয়ে টিকার জন্য নিবন্ধন করতে পারছেন। তবে করোনা মহামারি মোকাবিলায় সম্মুখসারির পেশাজীবী, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী, প্রবাসীকর্মীসহ অগ্রাধিকারের তালিকায় থাকা ব্যক্তিরা নির্ধারিত বয়সসীমার বাইরেও নিবন্ধনের মাধ্যমে টিকা গ্রহণের সুযোগ পাচ্ছেন।

ঈদের ছুটির পর গতকাল শুক্রবার থেকে নতুন করে লকডাউন শুরুর বিষয়ে ডা. খুরশীদ আলম বলেন, ঈদের আগে দুই সপ্তাহের কঠোর বিধিনিষেধে তেমন প্রভাব দেখা যায়নি। তবে সীমান্তবর্তী জেলাগুলোয় সংক্রমণ কমে এসেছে। আজ (শুক্রবার) থেকে যে কঠোর বিধিনিষেধ শুরু হয়েছে, তার প্রভাব বুঝতে কয়েকদিন অপেক্ষা করতে হবে। চিকিৎসা ব্যবস্থাপনা সম্পর্কে আশ্বস্ত করে তিনি বলেন, সরকারের ব্যবস্থাপনা যথেষ্ট ভালো রয়েছে। সংক্রমণ বৃদ্ধি পাওয়ার পর অক্সিজেনের চাহিদা বেড়ে প্রতিদিন ২০০ টনে পৌঁছেছে। অথচ স্বাভাবিক সময়ে অক্সিজেনের চাহিদা ছিল ৭০ থেকে ৯০ টনের মতো। তবে দেশে এখনও অক্সিজেনের মজুদ আছে। একইসঙ্গে ভারত থেকেও অক্সিজেন আমদানি করা হচ্ছে। কভিড-১৯ রোগীর চাপ সামলাতে ঢাকার বাইরে বিভিন্ন জেলায় ফিল্ড হাসপাতাল করার পরামর্শও এসেছে বলে জানান ডা. খুরশীদ আলম।

পরে মহাপরিচালক কুর্মিটোলা ও শেখ রাসেল জাতীয় গ্যাস্ট্রোলিভার ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালের চিকিৎসা কার্যক্রমও পরিদর্শন করেন।





মন্তব্য করুন