দেশে গত চার দিনে করোনা শনাক্ত রোগীর সংখ্যা আগের কয়েক দিনের তুলনায় কমেছে। কমেছে মৃত্যুও। এ সময়ে করোনা শনাক্ত হয়েছে মোট ২৯ হাজার ২৩৪ জনের। করোনায় মৃত্যু হয়েছে ৭২৬ জনের। ঈদের ছুটিতে লাখ লাখ মানুষ ঢাকা ছেড়ে যাওয়ায় এবং নমুনা পরীক্ষা কম হওয়ায় শনাক্ত রোগী কমেছে বলে জানিয়েছেন সংশ্নিষ্টরা। তবে নমুনা পরীক্ষা কম হলেও বেড়েছে শনাক্তের হার। এই সময়ে নমুনা পরীক্ষা হয়েছে ৯৬ হাজার ৪৬৮ জনের। এর বিপরীতে শনাক্তের হার ৩০ দশমিক ৩০ শতাংশ। মৃত্যুর হার এক দশমিক ৬৪ শতাংশ। গত চার দিনে করোনায় আক্রান্ত থেকে সুস্থ হয়ে উঠেছেন আরও ৩৭ হাজার ২৭৩ জন। সুস্থতার হার ৮৫ দশমিক ৩৫ শতাংশ। এ সময়ে প্রতিদিন গড়ে সাত হাজার ৩০৯ জনের করোনা শনাক্ত এবং ১৮২ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্য দিয়ে দেশে করোনা আক্রান্ত মোট শনাক্তের সংখ্যা ১১ লাখ ৪৬ হাজার ৫৬৪ জনে পৌঁছাল। একই সঙ্গে মৃত্যুর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৮ হাজার ৮৫১ জনে। সুস্থ হয়েছেন ৯ লাখ ৭৮ হাজার ৬১৬ জন।

ঈদের আগের দিন মঙ্গলবার ১১ হাজার ৫৫৯ জনের শরীরে করোনার সংক্রমণ শনাক্ত হয়। ওইদিন আক্রান্তের সংখ্যা পৌঁছায় ১১ লাখ ২৮ হাজার ৮৮৯ জনে। একই সঙ্গে এদিন ২০০ জনের মৃত্যুর মধ্য দিয়ে মোট মৃতের সংখ্যা ১৮ হাজার ৩২৫ জনে পৌঁছায়। ওইদিন আরও প্রায় ১০ হাজার জন সুস্থ হয়ে ওঠেন। মোট সুস্থতার সংখ্যা ৯ লাখ ৫১ হাজার ৩৪০ জনে দাঁড়ায়। ওইদিন নমুনা পরীক্ষা করা হয় ৩৯ হাজার ৫১০ জনের। নমুনা পরীক্ষার বিপরীতে শনাক্তের হার ২৯ দশমিক ৩১ শতাংশ।

বুধবার ঈদের দিন নমুনা পরীক্ষা কম হওয়ায় আগের দিনের চেয়ে শনাক্তের সংখ্যা কমে যায় প্রায় চার হাজার। শনাক্তের হারও অতিক্রম করে ৩০-এর কোঠা। বুধবার আরও সাত হাজার ৬১৪ জনের শরীরে করোনা শনাক্ত হয়। ওইদিন মোট আক্রান্তের সংখ্যা ১১ লাখ ৩৬ হাজার ৫০৩ জনে পৌঁছায়। চব্বিশ ঘণ্টায় ১৭৩ জনের মৃত্যুর মধ্য দিয়ে মোট মৃতের সংখ্যা দাঁড়ায় ১৮ হাজার ৪৯৮ জনে। এ সময়ে আরও ৯ হাজার ৭০৪ জন আক্রান্ত থেকে সুস্থতার তালিকায় আসায় মোট সুস্থতার সংখ্যা ৯ লাখ ৬১ হাজার ৪৪ জনে পৌঁছায়। ওইদিন নমুনা পরীক্ষা করা হয় ২৪ হাজার ৯৭৯ জনের। শনাক্তের হার ৩০ দশমিক ৪৮ শতাংশ।

বৃহস্পতিবার আরও তিন হাজার ৬৯৭ জনের শরীরে করোনা সংক্রমণ ধরা পড়ার মধ্য দিয়ে মোট আক্রান্তের সংখ্যা পৌঁছায় ১১ লাখ ৪০ হাজার ২০০ জনে। ওইদিন ১৮৭ জনের মৃত্যু হয় করোনা সংক্রমিত হয়ে। মোট মৃতের সংখ্যা দাঁড়ায় ১৮ হাজার ৬৮৫ জন। ওইদিন আরও ৮ হাজার ৫৬৬ জন সুস্থ হয়ে ওঠেন। মোট সুস্থতার সংখ্যা ৯ লাখ ৬৯ হাজার ৬১০ জনে পৌঁছায়। ওইদিন মোট নমুনা পরীক্ষা করা হয় মাত্র ১১ হাজার ৪৮৬টি। শনাক্তের হার ৩২ দশমিক ১৯ শতাংশ।

গতকাল শুক্রবার আরও ছয় হাজার ৩৬৪ জনের শরীরে করোনা সংক্রমণ শনাক্তের মধ্য দিয়ে মোট আক্রান্তের সংখ্যা পৌঁছায় ১১ লাখ ৪৬ হাজার ৫৬৪ জনে। একই দিনে করোনায় ভুগে মারা যান ১৬৬ জন। মোট মৃতের সংখ্যা ১৮ হাজার ৮৫১ জনে পৌঁছায়। ওইদিন আরও ৯ হাজার ৬ জন সুস্থ হয়ে ওঠেন। মোট সুস্থতার সংখ্যা দাঁড়ায় ৯ লাখ ৭৮ হাজার ৬১৬ জনে। ওইদিন নমুনা পরীক্ষা করা হয় ২০ হাজার ৪৯৩ জনের। শনাক্তের হার ৩১ দশমিক ০৫ শতাংশ। গত ২৪ ঘণ্টায় যারা মারা গেছেন, তাদের মধ্যে ৯৫ জন পুরুষ এবং ৭১ জন নারী। এদের মধ্যে সরকারি হাসপাতালে ১২৩ জন, বেসরকারি হাসপাতালে ৩৯ জন এবং বাসায় মারা গেছেন চারজন।

মৃতদের বিভাগওয়ারি তালিকা অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় সবচেয়ে বেশি ৬০ জন মারা গেছেন ঢাকা বিভাগে। দ্বিতীয় স্থানে থাকা খুলনা ও চট্টগ্রাম বিভাগে মারা গেছেন ৩৩ জন করে। অন্য বিভাগগুলোর মধ্যে রংপুরে ১২, বরিশালে ১০, সিলেটে ৮, রাজশাহীতে ৭ ও ময়মনসিংহে মারা গেছেন তিনজন।

গত চার দিনের সংক্রমণ পরিস্থিতি বিশ্নেষণে দেখা যায়, বৃহস্পতিবার মাত্র ১১ হাজার ৪৮৬টি নমুনা পরীক্ষা করা হয়। ওইদিন গত ৩২ দিনের মধ্যে সর্বনিম্ন তিন হাজার ৬৯৭ জন করোনা রোগী শনাক্ত হন। এর আগে গত ২০ জুন তিন হাজার ৬৪১ জনের শরীরে করোনা শনাক্ত হয়। নমুনা পরীক্ষা কম হওয়ায় বৃহস্পতিবার নমুনা পরীক্ষার বিপরীতে শনাক্তের হার ৩২ শতাংশ ছাড়িয়ে যায়।





মন্তব্য করুন