তৈরি পোশাকসহ সব ধরনের শিল্পকারখানা দ্রুত খুলে দিতে সরকারের প্রতি আবারও অনুরোধ করেছেন দেশের ব্যবসায়ী নেতারা। তারা বলেছেন, বিশ্ববাজারে তৈরি পোশাকের এখন ব্যাপক চাহিদা। এ সময়ে কারখানা বন্ধ থাকলে এ খাতের বড় ক্ষতি হয়ে যাবে। অন্যদিকে অভ্যন্তরীণ বাজারের পরিস্থিতি তুলে ধরে তারা বলেন, সরবরাহ চেইন ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় উৎপাদন থেকে ভোক্তা পর্যন্ত প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে জড়িত সব পক্ষই ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। পণ্যসামগ্রী সঠিকভাবে সরবরাহ ও বাজারজাত না করা গেলে পণ্যের দর বাড়বে। এতে স্বল্প আয়ের সাধারণ মানুষের ভোগান্তি বাড়বে।

গতকাল বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ সচিব আনোয়ারুল ইসলাম এবং জনপ্রশাসন সচিব কে এম আলী আজমের সঙ্গে বৈঠকে ব্যবসায়ী নেতারা এ অনুরোধ জানান। বৈঠক সূত্র জানায়, বিশ্ববাজার পরিস্থিতি এবং জীবন-জীবিকার স্বার্থে কারখানা খুলে দিতে ব্যবসায়ী নেতাদের অনুরোধ সরকারের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে তুলে ধরার আশ্বাস দেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব।

বর্তমানে ১৪ দিনের লকডাউনে সরকার খাদ্য, ওষুধ ও করোনা সুরক্ষাসামগ্রী এবং চামড়া কারখানা বাদে সব ধরনের শিল্পকারখানা বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। আগামী ৫ আগস্ট এ দফার লকডাউন শেষ হবে। ঈদের ছুটির আগে তৈরি পোশাক রপ্তানিকারকরা লকডাউনের সময়ে কারখানা খোলা রাখার সিদ্ধান্ত চেয়ে অনুরোধ করেছিলেন। কিন্তু সংক্রমণ পরিস্থিতি বিবেচনায় সরকার তাদের অনুরোধ রাখেনি। বিজিএমইএ আশা করেছিল, লকডাউনের মধ্যে আগামী ১ আগস্ট থেকে তাদের কারখানা খোলার অনুমতি দেবে। কিন্তু এখন পর্যন্ত এমন সিদ্ধান্ত হয়নি।

গতকালের বৈঠকে এফবিসিসিআই সভাপতি মো. জসিম উদ্দিন এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের সভাপতি আবদুস সালাম মুর্শেদী এমপি, বিকেএমইএর সভাপতি সেলিম ওসমান এমপি, বিজিএমইএর সভাপতি ফারুক হাসান, ডিসিসিআইর সভাপতি রিজওয়ান রহমান, এফবিসিসিআইর সাবেক সহসভাপতি ও বিজিএমইএর সাবেক সভাপতি মো. সিদ্দিকুর রহমান, বিকেএমইএর প্রথম সহসভাপতি মোহাম্মদ হাতেম, বিটিএমএর ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ফজলুল হক, বিজিএমইএর সহসভাপতি শহীদুল্লাহ আজিম, খন্দকার রফিকুল ইসলামসহ অন্যান্য ব্যবসায়ী নেতা উপস্থিত ছিলেন।

বৈঠক শেষে এফবিসিসিআইর সভাপতি বলেন, কারখানা খুলে দেওয়া না হলে রপ্তানি পণ্যের রপ্তানি আদেশ বাতিল হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্য। কারখানা খুলে দেওয়ার পাশাপাশি রপ্তানিমুখী শিল্পে নিয়োজিত সব শ্রমিক-কর্মচারীকে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে টিকা প্রদান কর্মসূচির আওতায় নিয়ে আসার আহ্বান জানান তিনি।

বিজিএমইএর সভাপতি ফারুক হাসান সমকালকে বলেন, শিল্পকারখানা খুলে দেওয়ার অনুরোধ জানিয়েছেন তারা। অন্তত যেসব শ্রমিক গ্রামে যাননি, তাদের নিয়ে কারখানা চালু করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, শিল্পকারখানা খুলে দিলে তারা শ্রমিকদের টিকার ব্যবস্থা করতে পারবেন। এরই মধ্যে টিকা দেওয়া শুরু হয়েছে। অন্যদিকে এখন অনেক শ্রমিক গ্রামে রয়েছেন। সেখানে করোনার সংক্রমণ অনেক বেশি। শ্রমিকদের কেউ যদি আক্রান্ত হয়, তাহলে পর্যাপ্ত ওষুধ বা হাসপাতালের ব্যবস্থা নেই।

বিজিএমইএর সভাপতি বলেন, ৫ আগস্ট পর্যন্ত যদি লকডাউন থাকে, তাহলে সাধারণ মানুষের সঙ্গে শ্রমিকরাও ফিরবেন শহরে। এতে মহাসড়কে যানবাহনের চাপ এবং করোনা সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়বে। এ ছাড়া ১৪ দিনের বেশি সময় ধরে কারখানা বন্ধ থাকলে মজুরি পরিশোধ নিয়েও সংকট তৈরি হবে। এসব বিবেচনায় কলকারখানা দ্রুত খুলে দিতে সরকারের প্রতি অনুরোধ জানিয়েছেন তারা। সচিবরা আশ্বাস দিয়েছেন, সরকারের শীর্ষ পর্যায়ে কথা বলে তারা জানাবেন।

বৈঠক শেষে বিজিএমইএর সহসভাপতি শহীদুল্লাহ আজিম সাংবাদিকদের বলেন, ইউরোপীয় ইউনিয়ন এবং যুক্তরাষ্ট্রের মতো প্রধান বাজারগুলোর করোনা পরিস্থিতি প্রায় স্বাভাবিক। এসব দেশে দোকানপাট খুলে দেওয়া হয়েছে। ব্যাপক চাহিদা তৈরি হওয়ায় সময়মতো পণ্য পৌঁছাতে পোশাক খাতের উদ্যোক্তারা ক্রেতাদের প্রচণ্ড চাপে আছেন। বৈঠকে এ বিষয়গুলো তুলে ধরেছেন তারা। সব পরিস্থিতি বিবেচনা করে লকডাউনের মধ্যেই কারখানা দ্রুত খুলে দেওয়ার অনুরোধ জানানো হয়েছে তাদের পক্ষ থেকে।

বৈঠকে ব্যবসায়ী নেতারা জানান, টানা লকডাউনের কারণে সরবরাহ ব্যবস্থা দারুণভাবে বিঘ্নিত হচ্ছে। রপ্তানি খাতের উৎপাদন বন্ধ থাকার কারণে সময়মতো ক্রেতার হাতে পণ্য পৌঁছানো সম্ভব হচ্ছে না। এতে রপ্তানি আদেশ বাতিল হওয়ার আশঙ্কা আছে। অন্যদিকে দেশের বাজারের পরিস্থিতি তুলে ধরে ব্যবসায়ী নেতারা বলেন, সরবরাহ চেইন ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় উৎপাদন থেকে ভোক্তা পর্যন্ত প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে জড়িত সব পক্ষই ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। আগামীতে পণ্যসামগ্রী সঠিকভাবে সরবরাহ ও বাজারজাত না হলে পণ্যের মূল্য বৃদ্ধি পাবে। এতে স্বল্প আয়ের ভোক্তাদের ভোগান্তি বাড়বে।







মন্তব্য করুন