এমন কত দিন গেছে, প্রতিপক্ষের বিশ্রামের দিনে অনুশীলন করেছে বাংলাদেশ। কন্ডিশনের সঙ্গে একটু মানিয়ে নেওয়া, ব্যাটসম্যানদের ছন্দে ফেরাতে কোচিং স্টাফকে সেসব দিনে কী কষ্টটাই না করতে হয়েছে। গত এক দশকে সেই টাইগারদের কত পরিবর্তন। তারা এখন হোটেলে বিশ্রাম করেন, প্রতিপক্ষ যায় মাঠে। অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে টানা দুটি টি২০ ম্যাচ জিতে নেওয়ায় গতকাল মাহমুদুল্লাহ রিয়াদদের বিশ্রাম দেওয়া হয়েছিল ক্লান্তি কাটাতে। টানা ম্যাচ খেলেও মিচেল স্টার্কদের যেতে হয়েছে মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে স্কিল ট্রেনিং করতে। সিরিজ নির্ধারণী ম্যাচের আগে কন্ডিশনের সঙ্গে আর একটু মানিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করতেই গতকালের অনুশীলন। একটি বাড়তি অনুশীলন সেশন অস্ট্রেলিয়াকে হয়তো খোলনলচে পাল্টে দেবে না। তবে একটু হলেও আগের চেয়ে ভালো খেলার প্রেরণা জোগাতে পারে। দেয়ালে পিঠ ঠেকে যাওয়া ম্যাথু ওয়েডদের এর বেশি কিছু করারও ছিল না। স্বাগতিকরা মাঠে না গিয়েও অনেক কিছু করেছে। হোটেলে জিম, সুইমিংয়ের পাশাপাশি ম্যাচ জয়ের ছক এঁকেছে। তাই আজই হয়ে যেতে পারে তিনে তিন জয়ের রেকর্ড।

সিরিজ নির্ধারণী ম্যাচে সবকিছুই বাংলাদেশের অনুকূলে। নিজেদের কন্ডিশন, জয়ের ছন্দের সঙ্গে সিরিজ জয়ের ক্ষুধা আছে টাইগার শিবিরে। বড় দলের বিপক্ষে এমন সুযোগ সবসময় পাওয়া যায় না। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই প্রতিপক্ষ প্রভাব বিস্তার করে খেলে। অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সাকিবদের আগের অভিজ্ঞতা অন্তত তা-ই। টি২০ বিশ্বকাপে এ দু'দলের যে চারটি ম্যাচ হয়েছে তার কোনোটিতেই সেভাবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা চোখে পড়েনি। অসিরাই একপেশে খেলে জিতে নিয়েছে ম্যাচ। সেই দলকে বাগে পাওয়া দারুণ ব্যাপার। মাহমুদুল্লাহরা তো মরিয়া হয়ে চেষ্টা করবেনই হোমের সব সুবিধা কাজে লাগিয়ে আজই সিরিজ নিশ্চিত করে ফেলতে। স্বাভাবিকভাবেই সফরকারীরাও মরিয়া হয়ে লড়বে সিরিজ বাঁচাতে। যদিও সেটি সহজ কোনো কাজ নয়। মিরপুরের পিচ মেহেদীরা আরও দুর্ভেদ্য করে তুলতে পারেন অ্যালেক্স ক্যারিদের জন্য। মুস্তাফিজের স্লোয়ার, শরিফুলের সুইং ডেলিভারি এই শ্রাবণের সন্ধ্যায় কালবৈশাখীর রূপ নিতে পারে মিরপুর। কারণ ছন্দে থাকা বাংলাদেশ সব সময়ই ভয়ংকর। অস্ট্রেলিয়ার এই দলের বেশিরভাগ খেলোয়াডের সেটা জানার কথা নয়। কারণ তারা তো কার্ডিফে খেলেননি। ২০১৭ সালে মিরপুরে সাকিবদের কাছে টেস্টও হারেননি।

স্টিভেন স্মিথদের অনুপস্থিতিতে বেশিরভাগ তরুণ ব্যাটসম্যান নিয়ে খেলছে অস্ট্রেলিয়া। বোলাররা ভালো করলেও ব্যাটসম্যানরা তাই জয়ের পুঁজি দিতে পারছেন না। ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে টি২০ সিরিজেও ব্যাটিং ভালো যায়নি দলটির। মিচেল মার্শ ছাড়া কেউই ফোকাস রাখতে পারেননি গত দুই ম্যাচে। এর পরও কথা থাকে, অস্ট্রেলিয়া একটি পেশাদার ক্রিকেট দল। 'বাউন্স ব্যাক' করার নেশা কাজ করে তাদের ভেতরে। লড়াই করার সে মানসিকতা দ্বিতীয় টি২০ ম্যাচে একটু হলেও দেখিয়েছেন তারা। আজ আরও বেশি প্রতিদ্বন্দ্বিতার মুখে পড়তে হতে পারে টাইগারদের। বাংলাদেশের ব্যাটিংয়েও খুঁত রয়েছে। একক কোনো ব্যাটসম্যান হাফ সেঞ্চুরি ইনিংস খেলতে পারেননি এখন পর্যন্ত। শতরানের জুটি হয়নি একটিও। জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে দুর্দান্ত খেলা ওপেনিং জুটি ছন্দে নেই। নাঈম শেখের ভেতরে কিছুটা চেষ্টা দেখা গেলেও দুই ইনিংসেই উইকেট ছুড়ে এসেছেন সৌম্য। ব্যাটপ্যাচ থেকে বের হতে পারছেন না মাহমুদুল্লাহ। সেদিক থেকে সাকিবকে কিছুটা ছন্দে পাওয়া দলের জন্য স্বস্তির। গত দুই ম্যাচেই ব্যাটিং-বোলিং দুই বিভাগেই ছিলেন কার্যকর। মিডল অর্ডারে আফিফ হোসেন, নুরুল হাসানদের লড়াকু মানসিকতায় চ্যালেঞ্জ জিততে পেরেছে বাংলাদেশ। আজও যে ১২০ বা ১৩০ রান করে ম্যাচ জেতা যাবে, সে নিশ্চয়তা কেউ দেবে না। বরং কন্ডিশন বুঝে রান রোটেট করলেও ভালো করবেন নাঈমরা।

সিরিজ শুরুর আগের দিন মাহমুদুল্লাহ বলেছিলেন, দেশে ভালো খেলার সুনামটা ধরে রাখার চেষ্টা করবেন। অস্ট্রেলিয়াকে সিরিজ হারিয়ে বিশ্বকে বার্তা দিতে চান, ওয়ানডের পর টি২০ সংস্করণেও খেলতে শিখে গেছে বাংলাদেশ। ক্রিকেটের এই খুদে সংস্করণের জন্য একদল তরুণ ক্রিকেটারকেও আবিস্কার করা হয়ে গেছে। এখন শুধু তাদের ঘষেমেজে নেওয়ার পালা, যাতে করে দেশ-বিদেশে ভালো ফল মেলে টি২০-তেও। জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে সিরিজ দিয়ে টি২০ বিশ্বকাপের দল গোছানোর কাজ শুরু করেছেন কোচ রাসেল ডমিঙ্গো। এই সিরিজে শরিফুল, আফিফ, সোহানরা কোচকে নির্ভার থাকার বার্তা দিতে পেরেছেন। সিরিজ নির্ধারণী ম্যাচেও তারা ধারাবাহিকতা রাখলে তামিম, মুশফিক, লিটনের প্রত্যাবর্তনেও ভয়ের কিছু থাকবে না। তাই আজই হোক তিনে তিন। ক্রিকেটের পা ুলিপির টি২০ কর্নারে লেখা হোক টাইগারদের অসি-বধের নতুন ইতিহাস।



মন্তব্য করুন