জোর আলোচনা ছিল- প্রিয় ক্লাব বার্সেলোনা ছাড়ছেন লিওনেল মেসি। সেসব উড়িয়ে দিয়ে ইউরোপের বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের খবরে বলা হয়, তিনি কোথাও যাচ্ছেন না, অর্ধেক বেতন কমিয়ে বার্সেলোনাতেই থাকছেন। তবে গতকাল বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ সময় রাত ১২টার দিকে কাতালান ক্লাবটি যে ঘোষণা দিল তা যেন ফুটবলপ্রেমীদের কাছে রীতিমতো বিস্ম্ফোরণ! এদিন বিবৃতি দিয়ে বার্সেলোনা জানিয়েছে, মেসির সঙ্গে তাদের সম্পর্কের ইতি ঘটছে। অর্থাৎ মেসি তাদের সঙ্গে থাকছেন না। এখন সারাবিশ্বে ছড়িয়ে থাকা মেসিভক্তদের প্রশ্ন- তাহলে তার গন্তব্য কোথায়? তবে তা জানতে আরও কিছু দিন অপেক্ষা করতে হবে তাদের। আগামী বছর নতুন জার্সিতে দেখা যাবে ফুটবলের এই মহাতারকাকে।

বার্সেলোনার জার্সি পরে মেসি আর ম্যাচ খেলবেন না- এ ঘোষণায় মুহূর্তে পাল্টে গেল দৃশ্যপট। বার্সার সঙ্গে পাঁচ বছরের চুক্তি নবায়ন করতে বেতন অর্ধেক কমিয়ে নিচ্ছেন মেসি- এমন খবর ক'দিন আগেই নিশ্চিত করেছিল ইউরোপের অনেক সংবাদমাধ্যম। কিন্তু বার্সেলোনার আর্থিক অবস্থার কারণে চুক্তির আনুষ্ঠানিকতা শেষ হচ্ছিল না। বৃহস্পতিবার চুক্তির আনুষ্ঠানিকতা সারতে দু'পক্ষ বসেওছিল। কিন্তু শেষ মুহূর্তে এসে কাঙ্ক্ষিত সেই চুক্তি হয়নি। আর্থিক জটিলতাই শেষ পর্যন্ত ইতি টেনে দিল মেসি আর বার্সার সম্পর্কের।

বার্সেলোনার ওয়েবসাইটে দেওয়া এক বিবৃতিতে বলা হয়, লিওনেল মেসির সঙ্গে বার্সেলোনার নতুন চুক্তি সম্ভব হচ্ছে না। লা লিগার নতুন আর্থিক নিয়মের কারণেই এমনটা হয়েছে। অত্যন্ত দুঃখের সঙ্গে বার্সেলোনা জানাচ্ছে যে, মেসি তাদের ক্লাবের সঙ্গে আর থাকছেন না।

গত জুনে কাতালান ক্লাবটির সঙ্গে চুক্তির মেয়াদ শেষ হয় মেসির। তখন থেকেই শুরু হয় গুঞ্জন। আর্জেন্টাইন তারকা ফ্রি এজেন্ট হয়ে গেলেও তার ন্যু ক্যাম্পে থেকে যাওয়ার খবরই পাওয়া যাচ্ছিল স্প্যানিশ সংবাদমাধ্যমে। অন্য কোনো ক্লাবে যোগ না দিয়ে কাতালানদের সঙ্গে থেকে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন মেসিও। কিন্তু বাদ সাধল লা লিগার নতুন 'ফাইন্যান্সিয়াল ফেয়ার প্লে' নিয়ম। ফলে ১৮ বছর পর বার্সা ছাড়তে হলো ক্লাবের সবচেয়ে আইকনিক এই খেলোয়াড়কে।

মাত্র ১৩ বছর বয়সে ন্যু ক্যাম্পে নাম লিখিয়ে ফুটবলের এই খুদে জাদুকর হয়ে ওঠেন সবার সেরা, ক্লাবের মধ্যমণি। সেই প্রিয় ন্যু ক্যাম্প মেসি কখনও ছেড়ে যাবেন- এমনটা অনেকের কাছেই ছিল কল্পনার বাইরে। কিন্তু গত বছরের আগস্টে সেই অভাবনীয়কেই সামনে আনেন আর্জেন্টাইন তারকা। জানিয়ে দেন, বার্সায় আর নয়। এরপর বার্সার সঙ্গে তার চুক্তির একটি ধারা কার্যকর করে ফ্রি ট্রান্সফারে ক্লাব ছাড়তে চেয়েছিলেন এলএম-১০। কিন্তু ওই ধারা কার্যকরের সময় পেরিয়ে যাওয়ার কারণ দেখিয়ে ক্লাবের পক্ষ থেকে বলা হয়, যদি মেসি চলে যেতে চান, তবে তাকে রিলিজ ক্লজের পুরো অর্থ দিয়েই যেতে হবে। এ নিয়ে টানাপোড়েনের পর অনিচ্ছায় থেকে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন ছয়বারের বর্ষসেরা এই ফুটবলার।

২০০৪ সালে বার্সার মূল দলে সুযোগ পান মেসি। ক্লাবটির হয়ে চারটি চ্যাম্পিয়ন্স লিগ ও ১০টি লা লিগাসহ জিতেছেন রেকর্ড ৩৫টি শিরোপা। ক্লাবের ইতিহাসের সর্বোচ্চ গোলদাতা তো বটেই, স্পেনের শীর্ষ লিগেরও রেকর্ড গোলদাতাও তিনি। লা লিগার দ্বিতীয় সর্বাধিক শিরোপা জয়ী ক্লাবটির ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি ম্যাচ খেলার রেকর্ডেরও মালিক ৩৪ বছর বয়সী এই তারকা। প্রিয় জার্সিতে এমন আরও অনেক রেকর্ড ও অসামান্য সব কীর্তি গড়েছেন মেসি। সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে ৭৭৮ ম্যাচে গোল করেছেন ৬৭২টি। সূত্র :মার্কা।









মন্তব্য করুন