রামুতে সাম্প্রদায়িক হামলার পরের বছর ২০১৩ সাল থেকে মানবাধিকার সংস্থা আইন ও সালিশ কেন্দ্র (আসক) মানবাধিকার লঙ্ঘনের পরিসংখ্যানে সংখ্যালঘুদের ওপর সহিংসতার ঘটনাগুলো আলাদাভাবে উল্লেখ করতে শুরু করে। মূলত সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত খবর দিয়ে এই প্রতিবেদন তৈরি করা হয়।

আসকের তথ্য অনুযায়ী, ২০১৩ সালের জানুয়ারি থেকে চলতি বছরের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ৮ বছর ৯ মাসে হিন্দুদের ওপর ৩ হাজার ৬৭৯টি হামলা হয়েছে। এর মধ্যে ১ হাজার ৫৫৯টি বাড়িঘর ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা রয়েছে। এই সময়ে হিন্দুদের ৪৪২টি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে হামলা, ভাঙচুর ও আগুন দেওয়া হয়েছে।

প্রতিমা, পূজামণ্ডপ, মন্দির ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে ১ হাজার ৬৭৮টি। এসব হামলায় আহত হয়েছেন ৮৬২ জন হিন্দু ধর্মাবলম্বী। নিহতের সংখ্যা ১১। বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক নির্মল কুমার চ্যাটার্জির মতে, আসকের দেওয়া তথ্যে গত ৯ বছরের নির্যাতনের সবটুকু চিত্র আসেনি। ২০১১ সালের পর থেকে দেশের হিন্দু সম্প্রদায়ের ওপর ৪ হাজারের বেশি হামলার ঘটনা ঘটেছে বলে জানালেন বাংলাদেশ হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিষ্টান ঐক্য পরিষদের সাধারণ সম্পাদক রানা দাশগুপ্ত।

তারা মনে করেন এবং এসব নির্যাতন-নিপীড়নের বিচার সম্পন্ন হয়নি বলেই সম্প্রতি কুমিল্লা থেকে শুরু হয়ে সারাদেশে সপ্তাহখানেকের মধ্যে হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের ওপর শতাধিক হামলা চালানো হয়, যার মধ্যে রয়েছে মন্দির, পূজামণ্ডপ এবং ১৮১টি বাড়িঘর ও দোকানপাট।

পূজা উদযাপন পরিষদের তথ্য মতে, গত ১৩ অক্টোবর কুমিল্লায় কোরআন শরিফ অবমাননার অভিযোগ তোলার পর থেকে ২০ অক্টোবর পর্যন্ত ৮ দিনে হিন্দুদের ওপর ৩৭৫টি হামলা হয়েছে। এসব হামলায় আহত হয়েছেন অর্ধশতাধিক এবং নিহত হয়েছেন অন্তত ৮ জন।