ইংল্যান্ড, ওয়েস্ট ইন্ডিজ, দক্ষিণ আফ্রিকা, অস্ট্রেলিয়া- এই দলগুলোর বিপক্ষে একটি ম্যাচও কি জেতা সম্ভব? প্রশ্নটা পছন্দ হলো না অটিস গিবসনের। উত্তরের শুরুটাই করলেন 'অদ্ভুত প্রশ্ন' বলে। পরের বাক্যে জোর দিয়ে বললেন, 'যে কোনো দলকে হারাতে পারি, এই বিশ্বাস নিয়ে এসেছি এখানে।' টি২০ বিশ্বকাপের সবচেয়ে খর্বশক্তির দল পাপুয়া নিউগিনির কোচের কাছে জানতে চাওয়া হলেও বলেন, টি২০ ক্রিকেটে নিজেদের দিনে যে কেউ জিততে পারে। যদিও এই কথা বলা কোচ বা অধিনায়করা নিজেদের দিনের সংজ্ঞা দেন না। প্রতিপক্ষের খারাপ দিনে ভালো খেলাকে নিজেদের দিন বলা হয় না। ভালো ক্রিকেট খেলে শক্তিশালী প্রতিপক্ষকে হারানো নিজেদের দিন। বাংলাদেশ এখন পর্যন্ত তেমন কোনো পারফরম্যান্স দেখাতে পারেনি যে, নিজেদের দিন বলে দাবি করা যায়। তবুও কোচের কথামতো আবুধাবিতে আজ নিজেদের দিন বানানো গেলে দারুণ হবে। বাংলাদেশের টি২০ ক্রিকেটের ইতিহাসে লেখা হবে ইংল্যান্ড-বধের রূপকথা। ইংল্যান্ডকে হারাতে চাওয়া বাড়াবাড়ি

রকমের প্রত্যাশা নয়। এমন তো নয় যে, ছোট দলের কাছে কোনো দিন ম্যাচ হারেনি তারা। টি২০ বিশ্বকাপের দ্বিতীয় আসরেই নেদারল্যান্ডসের কাছে হেরেছিল তারা। সেখানে বাংলাদেশ অনেক ভালো দল। অস্ট্রেলিয়া, নিউজিল্যান্ডের মতো বড় দলকে সিরিজ হারিয়ে এসেছে বিশ্বকাপ মঞ্চে। যদিও স্কটল্যান্ডের কাছে হার দিয়ে বাছাই পর্ব শুরু করে পরের দুই ম্যাচ জিতেছে অপেশাদার ক্রিকেট খেলুড়ে দেশ ওমান ও পাপুয়া নিউগিনির বিপক্ষে। প্রথম রাউন্ডের মতো সুপার টুয়েলভের শুরুও হার দিয়ে। প্রত্যাশার বেলুনটা ফুটো করে দিয়েছে শ্রীলঙ্কা। দ্বিতীয় রাউন্ডে গ্রুপের এই একটি দলের বিপক্ষে জয়ের বেশি সম্ভাবনা ছিল। ইংল্যান্ড, ওয়েস্ট ইন্ডিজ, অস্ট্রেলিয়া, দক্ষিণ আফ্রিকার মতো শক্তিশালী দলকে হারাতে পারলে সেটা বোনাস হতো। এই দলগুলো বিশ্ব ক্রিকেটের পাওয়ার হাউস হলেও অজেয় নয়। কন্ডিশন আর সামর্থ্যের বিচারে বাংলাদেশকে ইংল্যান্ডের থেকে এগিয়ে রাখা না গেলেও ২২ গজের খেলায় যে কেউ বাজিমাত করতে পারে। যদিও বর্তমান চ্যাম্পিয়ন ওয়েস্ট ইন্ডিজকে গুঁড়িয়ে দিয়ে বিশ্বকাপ মিশন শুরু করেছেন এউইন মরগানরা। এর পরও কথা থাকে, আবুধাবিতে মাহমুদউল্লাহরা আজ নিজেদের দিন বানাতে পারলে টি২০ সংস্করণে দু'দলের প্রথম মুখোমুখিতে বিশ্বকাপ জমে উঠবে। টাইগার ফাস্ট বোলিং কোচ অটিস গিবসনের বিশ্বাস, সেরাটা খেলতে পারলে ম্যাচ জিতবে বাংলাদেশ।

আন্তর্জাতিক টি২০ ক্রিকেট খেলা হচ্ছে দেড় যুগেরও বেশি সময় ধরে। বিশ্বকাপ, এশিয়া কাপ এবং দ্বিপক্ষীয় সিরিজ মিলে ইংল্যান্ড ছাড়া টেস্ট খেলুড়ে সব দলের বিপক্ষেই টি২০ খেলেছে বাংলাদেশ। উন্নাসিক ইংল্যান্ড অ্যান্ড ওয়েলস ক্রিকেট বোর্ড (ইসিবি) সে সুযোগও রাখেনি। বিশ্বকাপের আগে তিন ম্যাচ টি২০ সিরিজ খেলার স্লট ছিল। আইপিএলের কারণে সে সিরিজটিও পিছিয়ে গেছে ২০২৩ সালে। যারা এতদিন এড়িয়ে গেছে, সেই ইংল্যান্ডের বিপক্ষে টাইগারদের টি২০ অভিষেক হচ্ছে বিশ্বকাপ মঞ্চে। ভাগ্যই বাংলাদেশকে নিয়ে এসেছে ইংল্যান্ডের গ্রুপে। তাই যদি না হবে, বাছাই পর্বে স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে কেন ম্যাচ হারবেন মাহমুদউল্লাহরা। টানা তিন ম্যাচ জিতে গেলে তো গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হয়ে ভারতের গ্রুপে খেলত বাংলাদেশ। বড় মঞ্চে যখন দেখা হচ্ছে তখন বড় চমক হলে মন্দ হয় না। বিশ্বকাপ জমাতেও এ মুহূর্তে বাংলাদেশের একটি জয় খুব প্রয়োজন। আরাধ্য সে জয় আজ ধরা দিলে টুর্নামেন্টের বাংলাদেশের বাকি পথ মসৃণ হয়।

শ্রীলঙ্কার কাছে হারলেও ভালো ক্রিকেট খেলেছে বাংলাদেশ। ছোটখাটো কিছু ভুলের খেসারত দিতে হয়েছে পরাজয় বরণ করে। ডানহাতি-বাঁহাতির সনাতনী চিন্তাভাবনা থেকে বের হতে পারেননি অধিনায়ক। কোচ রাসেল ডমিঙ্গোও ডান-বামে পড়ে আছেন। টিম ম্যানেজমেন্টের এ দুই সদস্যের সমন্বিত চিন্তার ফল ভালো হয়নি। লিটন কুমার দাসের মেজাজ হারানোও কাল হয়েছে। কোনো সন্দেহ নেই, সনাতনী এই চিন্তাভাবনা থেকে বের হওয়ার পাশাপাশি মাথা ঠান্ডা রেখে ক্রিকেটারদের খেলতে হবে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে। গুরুত্বপূর্ণ এ ম্যাচের একাদশেও পরিবর্তন করা হতে পারে। বোলিং কোচ অটিস গিবসন জানান, উইকেট দেখার পর সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে, একজন স্পিনার কম নিয়ে পেসার বাড়ানো হবে কিনা। আবুধাবির কন্ডিশন পেস বোলারদের অনুকূল হওয়ার কোনো কারণ নেই। বোলিং লাইনআপে ভালো পেসার থাকলে যে কোনো কন্ডিশনে খেলাতে পারে। রোববার শারজাহ স্টেডিয়ামে শ্রীলঙ্কা যেমন চার সিমার রেখেছিল একাদশে। লঙ্কান ফাস্ট বোলাররা ভালোও করেছেন। বাংলাদেশ একাদশ সাজিয়েছিল নিজেদের শক্তির জায়গা স্পিন দিয়ে। যদিও ১৭১ রানের পুঁজি দেওয়ার পরও ম্যাচ বাঁচাতে পারেননি স্পিনাররা।

ইংল্যান্ড বিশ্বকাপ শুরু করেছে দুবাই আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে। বোলিং পরিসংখ্যান দেখাচ্ছে পেস ও স্পিন দুই ধরনের বোলাররাই ভালো করেছেন। সমন্বিত আক্রমণ করা গেলে প্রতিপক্ষকে যে কম রানে বেঁধে ফেলা যায় মঈন আলি ও আদিল রশিদরা সেটা প্রমাণ করেছেন। ইংলিশদের বড় সুবিধা লেগ ও অফ দুই স্পিনারই খেলাতে পারছে। ক্রিস ওকস, তায়মাল মিলস (বাঁহাতি ফাস্ট বোলার), ক্রিস জর্ডানকে (ডানহাতি ফাস্ট মিডিয়াম) নিয়ে তাদের পেস বোলিং লাইনআপ অনেক শক্তিশালী। ব্যাটিং লাইনআপ বড় ইনিংস খেলে অভ্যস্ত। অটিস গিবসনের মতে, 'ইংল্যান্ডের বোলাররা সবসময় উইকেট নেওয়ার দিকে ফোকাস রাখে। ব্যাটাররা মনোযোগ দেয় রান করায়। তারা বোলারদের চাপে রাখার চেষ্টা করে। আমার এই বার্তা ভীতি ছড়ানোর জন্য নয়। এটা বোঝার জন্য ভালো বলেও মেরে খেলে। এটাই তাদের মেন্টালিটি। তবে তারাও উইকেট নেওয়ার সুযোগ দেবে। আমাদের স্কিল ও পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা গেলে ম্যাচ জিততে পারব।' সুতরাং বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে খেলার স্বপ্ন বাঁচিয়ে রাখতে আজ সেরা ক্রিকেট খেলে জিততে হবে বাংলাদেশকে।

মন্তব্য করুন