রহমত উল্লাহ শিপু। বয়স ছিল মাত্র ২০ বছর। একই এলাকার বড় ভাই পাশা রাফসান জানি অনন্তকে সালাম দিতেন না। বিষয়টি নিয়ে কয়েকবার ধমক দেন অনন্ত। কাজ না হওয়ায় ক্ষিপ্ত অনন্ত গত বছর ২৮ ফেব্রুয়ারি রাতে রাস্তার ধারে ডেকে নিয়ে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে পালিয়ে যান। শিপু মারা যান। এ ঘটনায় পরদিন অনন্তকে একমাত্র আসামি করে মামলা করেন শিপুর বাবা সবজি ব্যবসায়ী আবদুস সাত্তার। এজাহারেই ঘটনার এমন বর্ণনা দেওয়া হয়েছে। পুলিশও একই বর্ণনা দেয়।

ঘটনার দু'দিন পর পুলিশ অনন্তকে গ্রেপ্তার করে, হত্যাকাণ্ডে ব্যবহূত ছুরিও উদ্ধার হয়। সেই অনন্তকে আদালতে কাগজে-কলমে শিশু সাব্যস্ত করে জামিন নেওয়া হয়েছে। এখন প্রকাশ্যে ঘুরছেন। আর একমাত্র সন্তান হারিয়ে কাঁদছেন শিপুর মা-বাবা। সমকালের অনুসন্ধানে বেরিয়ে এসেছে, এই জামিনে ভয়াবহ জালিয়াতি হয়েছে। আসামি ২২ বছরের তরুণ হলেও তাকে ১৬ বছর দেখিয়ে অনুকম্পা নেওয়া হয়েছে। জামিন আবেদনে আদালতে জমা দেওয়া সব কাগজ ছিল জাল।

চলতি বছরের ১৩ জানুয়ারি ঢাকার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-৭-এর বিচারক মোছা. কামরুন্নাহারের আদালতে জামিন আবেদন করে আসামিপক্ষ। বিচারক সেই জাল কাগজের ওপরই খুনের মামলার প্রাপ্তবয়স্ক আসামিকে শিশু সাব্যস্ত করেন। পরে অন্য আবেদনে তাকে জামিন দেওয়া হয়। ২২ ফেব্রুয়ারি আসামি কারাগার থেকে বের হন। সম্প্রতি রেইনট্রি হোটেলে দুই তরুণীকে ধর্ষণের মামলায় পাঁচ আসামির সবাইকে খালাসের রায়ে বিচারক কামরুন্নাহারের এখতিয়ারবহির্ভূত পর্যবেক্ষণ বিতর্কের জন্ম দেয়। এরপর তার বিচারিক ক্ষমতা থেকেও সরিয়ে নেওয়া হয়।

অনুসন্ধানে দেখা যায়, শিপু হত্যা মামলার এজাহারে আসামি পাশা রাফজান জানি অনন্তের বয়স ২৩ বছর উল্লেখ করেছেন বাদী। পুলিশের কাছে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬১ ধারায় দেওয়া জবানবন্দিতে আসামি নিজের বয়স বলেছেন ২২ বছর। কিন্তু পরে আদালতে আবেদন করে জানান, তার বয়স ১৬ বছর। এর সপক্ষে অনন্তের জন্মনিবন্ধন সনদ, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ভর্তির টাকা জমা দেওয়ার রসিদ উপস্থাপন করা হয়।

আসামি অনন্তের পক্ষে আদালতে উপস্থাপন করা কাগজপত্র যাচাই করে দেখা যায়, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের জোন-৩-এর মহাখালী অফিস থেকে তার নামে জন্মসনদ ইস্যু করা হয়। তার মায়ের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ২০২০ সালের ২৪ অক্টোবর দেওয়া সনদে অনন্তের জন্ম ৯ আগস্ট ২০০৪ উল্লেখ করা হয়। আবেদনপত্রে ২০ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর মো. নাসিরের সুপারিশ রয়েছে।

জন্মসনদে নিয়ম অনুযায়ী সংশ্নিষ্ট অফিসের দু'জন কর্মকর্তার সিল ও সই থাকার কথা। কিন্তু আদালতে উপস্থাপন করা জন্মসনদে দু'জনের সিল থাকলেও সই রয়েছে শুধু জোন-৩-এর সহকারী জন্ম-মৃত্যু নিবন্ধন কর্মকর্তা আবদুল লতিফের। সনদে ওই জোনের সহকারী স্বাস্থ্য কর্মকর্তা এস এম ওয়াসিমুল ইসলামের সিল থাকলেও সই নেই। এমন অসম্পূর্ণ সনদেই শিশু সাব্যস্ত হন অনন্ত।

সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মনজিল মোরসেদ সমকালকে বলেন, একজন শিশু আদালত থেকে বিশেষ সুবিধা পাবে- এটা স্বাভাবিক। হয়তো সে সুযোগটাই আসামিপক্ষ নিয়েছে। প্রাপ্তবয়স্ক আসামিকে শিশু হিসেবে উপস্থাপন করে জামিন করিয়েছে।

এই আইনজীবী বলেন, আসামিপক্ষ কারও জামিন করাতে বা বয়স নির্ধারণে ভুয়া কাগজ জমা দিলে সেটা অনৈতিক। কিন্তু সেই কাগজ যাচাইয়ের তো কিছু ধাপ থেকেই যায়। সে ক্ষেত্রে সংশ্নিষ্ট আদালতে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীর ভূমিকা কী ছিল, সেটা বড় বিষয়। নিশ্চয়ই আদালত সংশ্নিষ্ট আসামিকে হাজির করেই বয়স নির্ধারণ করেছেন। একটি হত্যা মামলা হিসেবে আদালতেরও সতর্কতার সঙ্গে বিষয়টি দেখার কথা। বয়স নির্ধারণের আবেদনের সঙ্গে দেওয়া নথিপত্র সংশ্নিষ্ট মামলার তদন্তকারী বা ভিন্ন কর্মকর্তার মাধ্যমে যাচাই করা হলে হয়তো এমনটা হতো না। ভুয়া কাগজে বয়স নির্ধারণ বা জামিন হলে সংশ্নিষ্ট সব পক্ষেরই দায় থাকে।

মামলার তদন্ত-সংশ্নিষ্ট কর্মকর্তারা সমকালকে জানিয়েছেন, আসামির উপস্থিতিতেই আদালত বয়স নির্ধারণ করেছেন। এরপর আসামি আদালতের নির্ধারিত দিনে হাজিরাও দিচ্ছেন।

অনুসন্ধানে মিলল পদে পদে জালিয়াতি: অনন্তের জন্মনিবন্ধনের আবেদনের সঙ্গে বয়স প্রমাণের জন্য তার প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষার সনদ দেওয়া হয়েছিল। ওই সনদ অনুযায়ী, আবেদনকারী মহাখালীর আইপিএইচ স্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে ২০১৬ সালে প্রাথমিক সমাপনী পাস করেছে। তার রোল নম্বর ৫৫৬ এবং জিপিএ ৩ দশমিক ৫০ পেয়েছে। সেই সনদ অনুযায়ী তার জন্ম ৯ আগস্ট ২০০৪। প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর থেকে পাওয়া অনন্তের সনদটি ২০১৬ সালের ১২ ডিসেম্বর ইস্যু হয়। এতে থানা শিক্ষা কর্মকর্তা এবং প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ড. মো. আবু হেনা মোস্তফা কামালের স্বাক্ষর রয়েছে।

মহাখালীর আইপিএইচ স্কুলে সনদটি দেখালে কর্তৃপক্ষ তাদের ভর্তি ও পরীক্ষার রেজিস্টার বই যাচাই করে জানিয়েছে, ওই বছরের পরীক্ষায় পাশা রাফসান জানি অনন্ত নামে তাদের কোনো শিক্ষার্থী ছিল না। প্রতিষ্ঠানটির স্কুল শাখার সহকারী প্রধান শিক্ষক জসিম উদ্দিন সমকালকে বলেন, '২০১৬ সালের পরীক্ষা তো দূরের কথা, ওই নামে কখনোই আমাদের কোনো শিক্ষার্থী ছিল না। তা ছাড়া ৫৫৬ রোলের সিরিয়ালও আমাদের স্কুলের নয়।'

শিক্ষকের কথার সূত্র ধরে সমকাল আরও অনুসন্ধানে নামে। এতে বের হয়, প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষার সনদপত্রটিও জাল। কারণ, এতে ২০১৬ সালের ১২ ডিসেম্বর মহাপরিচালক ড. মো. আবু হেনা মোস্তফা কামালের সই থাকলেও তিনি ওই পদে দায়িত্ব নেন ২০১৬ সালের ১৫ ডিসেম্বর। প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের ওয়েবসাইটে থাকা মহাপরিচালকদের দায়িত্বকালের তালিকায় এ তথ্য রয়েছে।

সনদটি যে জাল, তা আরও নিশ্চিত হতে অনুসন্ধান চলে অনন্তের প্রাথমিক শিক্ষা সনদে থাকা '৫৫৬' রোল নম্বরটি নিয়ে। আইপিএইচ স্কুল কর্তৃপক্ষ যেহেতু জানিয়েছে ওই রোল নম্বরের সিরিয়াল তাদের স্কুলের নয়, তাহলে রোল নম্বরটি কোন স্কুলের? প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের ওয়েবসাইটে তথ্যানুযায়ী, প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষায় ওই রোল নম্বরের সিরিয়ালটি গুলশানের গোল্ডেন পয়েন্ট শিশু নিকেতন অ্যান্ড হাই স্কুলের। সেখানে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ২০১৬ সালে ওই রোল নম্বরধারী ছাত্রের নাম অনিক রিছিল। সে স্কুলটি থেকে পরীক্ষা দিয়েছিল এবং অকৃতকার্য হয়।

জন্মনিবন্ধন সনদের বিষয়ে জানতে যোগাযোগ করা হয় ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের জোন-৩ এর জন্ম-মৃত্যু নিবন্ধন অফিসের সহকারী স্বাস্থ্য কর্মকর্তা এসএম ওয়াসিমুল ইসলামের সঙ্গে। তিনি সমকালকে বলেন, 'কথিত ওই জন্মসনদে আমার সিল থাকলেও সই নেই। সিলটি হয়তো অফিসের কেউ দিয়েছিল। আমার স্বাক্ষর ছাড়া ওই সনদের কোনো কার্যকারিতা নেই, মূল্যও নেই।'

সনদে সই করা কর্মকর্তা আবদুল লতিফ এরই মধ্যে জোন-৩ থেকে উত্তর সিটি করপোরেশনেরই জোন-২ বদলি হয়েছেন। তিনি সমকালকে বলেন, অনন্তের আবেদনের সঙ্গে প্রাথমিক শিক্ষা সমপানী পরীক্ষার সনদ ছিল। কিন্তু নভেম্বর মাসে শত শত আবেদন জমা পড়ে। এই চাপে সেটি যাচাই করা সম্ভব হয়নি। তা ছাড়া আবেদনপত্রে স্থানীয় ওয়ার্ড কাউন্সিলরের ভিজিটিং কার্ড থাকায় সন্দেহও করা হয়নি।

তবে ২০ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর মো. নাসির সমকালকে বলেন, জনপ্রতিনিধি হিসেবে অনেকের কাছেই তার ভিজিটিং কার্ড থাকতে পারে। এই কার্ড দেখেই যাচাই ছাড়া জন্মনিবন্ধন সনদ দেওয়া ঠিক হয়নি। টাকা নিয়ে কেউ হয়তো যাচাই না করে জন্মসনদ দিয়েছে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে আবদুল লতিফ দাবি করেন, সবকিছুই নিয়ম মতো হয়েছে। সরকারি ফি ৫০ টাকার বেশি একটি টাকাও নেওয়া হয়নি।

আদালতে দেওয়া স্কুলে ভর্তির কাগজও জাল: অনন্তের বয়স কম তা প্রমাণে আদালতে জমা দেওয়া হয়েছিল বনানীর ২ নম্বর রোডের ২ নম্বর বাড়িতে অবস্থিত সাউথ পয়েন্ট স্কুল অ্যান্ড কলেজে কেজি-১-এ তার ভর্তি রসিদ। ওই রসিদ অনুযায়ী, ২০০৯-১০ শিক্ষাবর্ষে অনন্ত ওই স্কুলে ভর্তি হয়। ভ্যাটসহ সেখানে জমা দেওয়া হয় ৮৫ হাজার ৩৮৩ টাকা। রসিদে ভ্যাট রেজিস্ট্রেশন নম্বরও রয়েছে। রসিদে ছাত্রের (অনন্ত) নামের পরই জন্ম তারিখ লেখা হয় ২০০৪ সাল।


সাউথ পয়েন্ট স্কুলের বনানী শাখার অধ্যক্ষ মো. মতিউর রহমান সমকালকে জানান, ভর্তির টাকা জমা দেওয়া ওই রসিদের টাকার সঙ্গে তাদের জমা নেওয়া টাকার মিল নেই। এর ভ্যাট নিবন্ধনের নম্বরটিও তাদের নয়।

তিনি বলেন, 'কথিত রসিদে ২০০৯-১০ শিক্ষাবর্ষে ভর্তির টাকা জমা দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। কিন্তু আমরা বনানীতে স্কুলটির কার্যক্রম শুরু করি ২০১১ সালে। সুতরাং ভর্তির রসিদটি জাল।'

জাল কাগজেই জামিন: শিপু হত্যা মামলায় আসামিপক্ষের আইনজীবী মুনজুর আলম মঞ্জু। তিনিই আসামি অনন্তের জামিন আবেদন করেন নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে। জাল কাগজে বয়স কমিয়ে জামিন আবেদনে বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি সমকালকে বলেন, বয়স কমানোর আবেদনটি আমি করিনি। অন্য একজন আইনজীবী করেছিলেন। আমি আদালতের নির্ধারণ করা 'শিশুর' জামিন আবেদন করেছিলাম। আদালত সেই আবেদন মঞ্জুর করেন।

মামলার নথি ঘেঁটে দেখা যায়, নুরে আলম উজ্জ্বল নামে এক আইনজীবী আদালতে বয়স কমানোর আবেদনটি করেছিলেন। তিনি দাবি করেন, বয়স নির্ধারণে জন্মসনদই বড় প্রমাণ।

এ বিষয়ে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীদের ভূমিকা জানতে যোগাযোগ করা হয় সংশ্নিষ্ট আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে নিয়োজিত আইনজীবী আফরোজা ফারহানা আহমেদ অরেঞ্জের সঙ্গে। তার ভাষ্য, সংশ্নিষ্ট আদালতে কোনো মামলার চার্জশিট হলে বা বিচার শুরু হলে তিনি নিয়ম অনুযায়ী সেই মামলাগুলো দেখভাল করেন। অন্য আদালত থেকে আসা বয়স নির্ধারণের বিষয়টি সংশ্নিষ্ট থানার জেনারেল রেজিস্ট্রার (জিআর) শাখা দেখে থাকে।

পরে এ বিষয়ে বনানী থানার জেনারেল রেজিস্ট্রার অফিসার (জিআরও) মো. আলমগীরের কাছে জানতে চাইলে তিনি মামলাটি তদন্তাধীন থাকায় কথা বলতে অপারগতা প্রকাশ করেন।

অনন্তের বয়স আসলে কত: শিপু হত্যা মামলার আসামি পাশা রাফসান জানি অনন্তের বয়স পরিবার বলছে ১৬ বছর। আদালতও ১৬ বছর নির্ধারণ করে তাকে জামিন দিয়েছেন। কিন্তু অনুসন্ধানে বের হয়ে এসেছে, শিপু হত্যাকাণ্ডের দিন আসামি অনন্তর বয়স ছিল ২১ বছর ৪ মাস ১৯ দিন। এ সংক্রান্ত নথি রয়েছে সমকালের হাতে।

অনন্তের বাসা মহাখালীর হাজারীবাড়ি এলাকায়। তার পরিবার এলাকায় প্রভাবশালী হওয়ায় কেউ মুখও খুলছেন না। তবে নাম প্রকাশ না করার শর্তে কয়েকজন জানান, অনন্ত কখনও আইপিএইচ স্কুলে না পড়লেও সাউথ পয়েন্ট স্কুলে অস্টম শ্রেণি পর্যন্ত পড়ালেখা করেছে।

সাউথ পয়েন্ট স্কুলের বনানী শাখার দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা জানান, অনন্ত ২০০৭ সালে সাউথ পয়েন্ট স্কুলের গুলশান শাখায় চতুর্থ শ্রেণিতে ভর্তি হয়েছিল। এরপর ওই শাখাটি বন্ধ হয়ে বারিধারা ও বনানীতে স্থানান্তর হয়। তখন ওই ছাত্র বনানী শাখাতে চলে আসে।

ওই স্কুলে চতুর্থ শ্রেণিতে ভর্তি ফরমের একটি কপি সমকালের হাতে এসেছে। তাতে অনন্তের জন্ম তারিখ উল্লেখ রয়েছে, ১৯৯৮ সালের ৯ আগস্ট। সে অনুযায়ী হত্যাকাণ্ডের সময়ে ২০২০ সালের ফেব্রুয়ারিতে তার বয়স ছিল ২১ বছর ৪ মাস ১৯ দিন। ভর্তি ফরমে অনন্তের স্বাক্ষর ছাড়াও অভিভাবক হিসেবে তার মা শাহিন সুলতানার স্বাক্ষর রয়েছে।

সাউথ পয়েন্ট স্কুল অ্যান্ড কলেজের বনানী শাখার অধ্যক্ষ মো. মতিউর রহমানও সমকালকে বলেন, তাদের কাছে থাকা ভর্তি ফরমের নথি অনুযায়ী ওই শিক্ষার্থীর জন্ম তারিখ ১৯৯৮ সালের ৯ আগস্ট।

মামলার তদন্ত সংস্থা ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) গুলশান বিভাগের উপ-কমিশনার মশিউর রহমান সমকালকে বলেন, আসামিকে গ্রেপ্তারের পর জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছিল। কোনোভাবেই সে শিশু নয়। কিন্তু শিশু হিসেবে বয়স নির্ধারণ করে খুনের মামলার আসামি এভাবে জামিন পাওয়ায় তারা বিস্মিত হয়েছেন। ডিবির এই কর্মকর্তা বলেন, অনন্তসহ কয়েক আসামির বিরুদ্ধে ইউনির্ভাসেল মেডিকেল কলেজের ছাত্রীদের উত্ত্যক্ত করা ও তাতে বাধা দেওয়ায় মারধরের মামলাও রয়েছে। ২০১৮ সালের তেজগাঁও থানায় ওই মামলাতে অনন্তের বয়স ২২ বছর উল্লেখ রয়েছে। মামলাটি বিচারাধীন থাকলেও তখন বয়স নিয়ে তার পরিবারের কেউ আপত্তি তোলেনি।

সার্বিক বিষয়ে বক্তব্য নিতে গত ২২ নভেম্বর মহাখালীর হাজারীবাড়ি এলাকার অনন্তর বাসায় যায় এ প্রতিবেদক। অপরিচিত কারও সঙ্গে কথা বলবেন না জানিয়ে গেট খোলেননি কেউ। পরে নম্বর সংগ্রহ করে ২৪ নভেম্বর ফোন করা হলে অনন্তের মা শাহিন সুলতানা বলেন, বিষয়গুলো নিয়ে তিনি কারও সঙ্গে কথা বলতে চান না।

নিহত রহমত উল্লাহ শিপুর বাবা ও মামলার বাদী আব্দুস সাত্তার সমকালকে বলেন, তার ছেলে তার সঙ্গে রাস্তার পাশে সবজি বিক্রি করত। কিন্তু এলাকায় প্রভাবশালী পরিবারের সন্তান অনন্তকে সালাম না দেওয়ায় তাকে নির্মমভাবে হত্যা করে। পুলিশ আসামিকে গ্রেপ্তার করলেও সে জামিনে বের হয়ে এলাকাতে ঘুরছে। দরিদ্র হওয়ায় তিনি মুখও খুলতে পারছেন না।

মন্তব্য করুন