ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন ১৪ দলের শরিকরা জনজীবনের নানা সংকট নিরসনে 'সরকার ব্যর্থ হচ্ছে' বলে এমনিতেই ক্ষুব্ধ ছিল। সরকারের 'একতরফা সিদ্ধান্তে' জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি ও পরিবহনের ভাড়া বৃদ্ধিতে সাম্প্রতিক সময়ে তাদের অসন্তোষের মাত্রা আরও বেড়েছে। সম্প্রতি দেশজুড়ে সাম্প্রদায়িক সহিংসতার পাশাপাশি চলমান ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনে ব্যাপক সন্ত্রাস-সহিংসতা ও প্রাণহানির ঘটনা পছন্দ করছে না তারা। আওয়ামী লীগের 'একলা চলো' নীতির বরাবর সমালোচনাকারী শরিক দলগুলোর নেতারা এখন বলছেন, 'সরকারের ব্যর্থতার দায় নেবে না ১৪ দল।'

জোটগত কার্যক্রমে ১৪ দল শরিকরা একের পর এক নিষ্ফ্ক্রিয় হয়ে পড়ছে। কমপক্ষে চারটি শরিক জোটের কার্যক্রমে যুক্ত থাকার বিষয়ে আগ্রহ হারিয়ে ফেলেছে। এই চার শরিকের মধ্যে জোটে জোটের অন্যতম শরিক বাংলাদেশ জাসদ বেশ আগে থেকেই জোটের সভা ও বৈঠকগুলো বর্জন করে আসছিল। প্রকাশ্যে সরকার ও ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের তীব্র সমালোচক হিসেবে পরিচিত এই দলটি কোনোরকম ঘোষণা ছাড়াই জোটগত কার্যক্রমে নিষ্ফ্ক্রিয় হয়ে রয়েছে। এই তালিকায় নতুন করে যুক্ত হয়েছে অন্য তিন শরিক বাংলাদেশ ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি (ন্যাপ), গণতান্ত্রিক মজদুর পার্টি এবং কমিউনিস্ট কেন্দ্র- এর নাম।

ক্ষুব্ধ এসব শরিক দল নেতারা বলছেন, অসাম্প্রদায়িক গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার যে উদ্দেশ্য ও লক্ষ্য নিয়ে ১৪ দল গড়ে উঠেছিল সেটা পূরণ হয়নি। জনজীবনে সংকট বৃদ্ধির পরিপ্রেক্ষিতে ১৪ দলে থেকেও তেমন কোনো লাভ হচ্ছে না, উল্টো সরকারের ব্যর্থতার দায়ভার তাদের ওপরও বর্তাচ্ছে। তবে ভবিষ্যতে আওয়ামী লীগ যদি তার বর্তমান 'কৌশলগত রাজনৈতিক অবস্থান' পরিবর্তন করে ১৪ দলকে পুরোমাত্রায় সক্রিয় করার উদ্যোগ নেয়, তাহলে তারাও হয়তোবা জোটগত কার্যক্রমে পুরোপুরি সক্রিয় হবেন।

শরিক দলগুলোর বড় অংশের অভিযোগ, ২০১৮ সালের একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে একতরফা বিপুল বিজয়ের পর থেকে আওয়ামী লীগ ও এর নেতাদের মধ্যে 'অহমবোধ' বেড়েছে। দলটি এখন 'একলা চলো' নীতি নিয়ে শরিকদের উপেক্ষা করছে। জোটের ভেতরে দূরত্ব ও স্থবিরতা ১৪ দলের অসাম্প্রদায়িক গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রকাঠামো প্রতিষ্ঠার চূড়ান্ত লক্ষ্য তথা মুক্তিযুদ্ধের চেতনার রাজনীতিকেই ক্ষতিগ্রস্ত করছে।

জোটের মনোনয়নে নির্বাচিত সংসদ সদস্য ও মহাজোট সরকারের সাবেক মন্ত্রী রাশেদ খান মেননের ভাষায়, নীতিনির্ধারণে অংশ না নিয়েও তাদের সরকারের দায় বহন করতে হচ্ছে। তিনি বলেন, 'আমাদের জোট আছে। ১৪ দলে আছি। তবে কেবল দিবস পালনে, নীতিনির্ধারণের কোনো অংশ নয়। সরকারের দায় আমাদেরও বহন করতে হয়। আওয়ামী লীগের কাছে ১৪ দলের অথবা অসাম্প্রদায়িক-গণতান্ত্রিক ঐক্যের প্রাসঙ্গিকতা আছে কিনা- সেটাও জানি না।'

বাংলাদেশ জাসদের সভাপতি শরীফ নুরুল আম্বিয়া সমকালকে বলেছেন, আওয়ামী লীগ ও সরকার এত বেশি 'করাপশনের' মধ্যে সম্পৃক্ত হয়ে পড়েছে যে, জনজীবনের সংকট নিরসনের প্রতি তাদের কোনো মনোযোগই নেই। উল্টো সরকারের ব্যর্থতায় এই সংকট দিন দিন বাড়ছেই। এ অবস্থায় ক্ষমতাসীন জোটের শরিক হওয়ায় তাদের ওপরও কিছুটা দায় বর্তাচ্ছে। কিন্তু এই দায় শরিকরা কেন নেবে?

সংকট বাড়ছে, বাড়ছে শরিকদের ক্ষোভও :সাম্প্রতিক সময়ে আকস্মিকভাবে জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি এবং এই প্রেক্ষাপটে পরিবহন ভাড়া বৃদ্ধির ঘটনাও ক্ষুব্ধ করেছে ১৪ দল শরিকদের। তারা বলছে, সরকার জোট শরিক তো বটেই, কারও সঙ্গে আলোচনা ছাড়াই একতরফাভাবে জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি করেছে। এর ওপর জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির অজুহাতে বাস-লঞ্চ-ট্রাকসহ পরিবহন ভাড়া যেভাবে বাড়ানো হয়েছে, সেটাও অমানবিক ও অত্যন্ত বেশি। আগে থেকেই দ্রব্যমূল্যের অসহনীয় বৃদ্ধিতে এমনিতেই জনজীবনে তীব্র সংকট চলছিল। এর ওপর জ্বালানি তেল ও পরিবহন ভাড়া বৃদ্ধি জনজীবনে 'মড়ার উপর খাড়ার ঘাঁ' হয়ে দাঁড়িয়েছে।

শরিক নেতারা অভিযোগ করেছেন, গণপরিবহনের মালিক ও শ্রমিকরা আকস্মিক ধর্মঘট ডেকে জনগণকে রীতিমতো 'জিম্মি' করে পরিবহন ভাড়া বাড়িয়ে নিয়েছে। এ অবস্থায় সরকার ও পরিবহন মালিকদের 'আঁতাত'- এই এটি ঘটেছে কিনা, তা নিয়েও জনমনে প্রশ্ন উঠেছে।

সাম্প্রতিক সময়ে হিন্দু সম্প্রদায়ের পূজামণ্ডপ ও মন্দির-বাড়িতে হামলা, লুটপাট, সন্ত্রাস এবং হতাহতের ঘটনার পরপরই সরকারের আরেক দফা কঠোর সমালোচনায় মেতেছে ১৪ দলের শরিকরা। সভা-সমাবেশ ও দলীয় কর্মসূচিগুলোতে শরিক নেতারা বলেছেন, সাম্প্রদায়িক সহিংসতা মোকাবিলায় সরকার সম্পূর্ণ ব্যর্থ। প্রশাসনের চরম নিষ্ফ্ক্রিয়তা, ক্ষেত্রবিশেষে সহযোগিতাই সাম্প্রদায়িক মৌলবাদী শক্তিগুলোকে উস্কানি দিয়েছে। এটা আগে থেকে হেফাজত-জামায়াত চক্রের সঙ্গে সরকারের 'নতজানু নীতি' ও আপসকামিতার প্রত্যক্ষ ফল।

এ ছাড়া চলমান ইউপি নির্বাচনকে ঘিরে ব্যাপক সহিংসতা ও হতাহতের ঘটনায়ও গভীর উদ্বেগে শরিকরা। তারা বলছে, স্থানীয় সরকারের নির্বাচনকে ঘিরে যেভাবে সহিংসতা ছড়িয়ে পড়ছে, বিশেষ করে সরকারি দলের প্রার্থী ও বিদ্রোহী প্রার্থীদের সমর্থকদের মধ্যে সংঘাতে প্রাণহানির ঘটনা ঘটছে- তা উদ্বেগজনক। অবিলম্বে দল-মত নিরপেক্ষভাবে প্রশাসনিক পদক্ষেপের মাধ্যমে এই সহিংসতা বন্ধ করে সুষ্ঠু, শান্তিপূর্ণ ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের পরিবেশ নিশ্চিত করার দাবিতেও সোচ্চার রয়েছে দলগুলো। অন্যদিকে, আওয়ামী লীগ জোটের 'একলা চলো' নীতির কারণে স্থানীয় সরকার নির্বাচনে জোট শরিকদের কোনো অংশীদারিত্বও নেই। এ অবস্থায় যেসব ইউপিতে আওয়ামী লীগের পাশাপাশি শরিক দলের শক্তিশালী চেয়ারম্যান প্রার্থী রয়েছেন, সেসব জায়গায় জোটের মনোনয়ন উন্মুক্ত রাখার দাবি জানিয়েও সাড়া মেলেনি- এমনটাও জানান কোনো কোনো শরিক দলের নেতা।

একের পর এক নিষ্ফ্ক্রিয় শরিক দল, গতি নেই জোট কার্যক্রমে :দীর্ঘদিন পর গত ১১ নভেম্বর ১৪ দলের সমন্বয়ক-মুখপাত্র এবং আওয়ামী লীগ লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য আমির হোসেন আমু এমপির বাসায় জোটের আনুষ্ঠানিক বৈঠক ডাকা হয়েছিল। করোনা সংকটে ভার্চুয়াল কার্যক্রম শেষে প্রথমবারের মতো নেতাদের শারীরিক উপস্থিতিতে অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে ছিল না গুরুত্বপূর্ণ চার শরিক বাংলাদেশ জাসদ, ন্যাপ, গণতান্ত্রিক মজদুর পার্টি ও কমিউনিস্ট কেন্দ্র।

অবশ্য ওই বৈঠকে শরিক নেতাদের দাবির মুখে ১৪ দলকে সক্রিয় করার পাশাপাশি বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে রাজপথে ১৪ দলের কর্মসূচি দেওয়ার সিদ্ধান্তও নেওয়া হয়। শিগগিরই সব মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের পেশাজীবী সকল গণসংগঠন এবং ছাত্র-যুব নারী সংগঠনের নেতাদের সঙ্গে মতবিনিময় বৈঠক করে নতুন কর্মসূচি দেবে ১৪ দল- এমনটাই জানিয়েছেন জোটের সমন্বয়ক-মুখপাত্র আমির হোসেন আমু।

বাংলাদেশ জাসদ অবশ্য বেশ আগে থেকেই ১৪ দলের কার্যক্রমে অংশগ্রহণ থেকে বিরত ছিল। সর্বশেষ করোনার মধ্যে গত বছরের মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে ১৪ দল আয়োজিত ভার্চুয়াল আলোচনা সভার পর আর কোনো সভা কিংবা বৈঠকে যোগ দেয়নি তারা। শেষোক্ত তিন দল সম্প্রতি জোটকে এক রকম 'বর্জন' শুরু করেছে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, করোনাকালে জোটের সাবেক মুখপাত্র ও আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য মোহাম্মদ নাসিমের মৃত্যুর পর গত বছরের ৮ জুলাই ১৪ দলের সমন্বয়ক-মুখপাত্র হিসেবে আমির হোসেন আমুর দায়িত্ব নেওয়ার পর এটি ছিল ১৪ দলের প্রথম আনুষ্ঠানিক কোনো সরাসরি বৈঠক। এর আগে করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের কারণে ভার্চুয়ালি আলোচনা সভা ও বৈঠকের মাধ্যমে জোটের কার্যক্রম সীমিত ছিল। তবে ১৪ দলের কার্যক্রম কার্যত 'স্থবির' হয়ে থাকায় শরিকদের মধ্যে এ নিয়ে ক্ষোভ চলে আসছিল। শরিক দলগুলোর নেতারা পূর্ণাঙ্গ ও সরাসরি বৈঠকের মাধ্যমে ১৪ দলকে সক্রিয় করার দাবিও জানিয়ে আসছিলেন। কিন্তু ওই সরাসরি বৈঠকে চার শরিকের অনুপস্থিতি আওয়ামী লীগকেও অনেকটাই হতাশ করেছে।

ক্ষুব্ধ শরিকদের মধ্যে শরীফ নূরুল আম্বিয়ার নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশ জাসদ প্রথম থেকেই সরকার ও আওয়ামী লীগের নানা কর্মকাণ্ডের সমালোচনায় সোচ্চার ছিল। বিশেষ করে ২০১৮ সালের ৩০ ডিসেম্বরের একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে শুরু থেকেই সরকারের অনেকটা প্রকাশ্য বিরুদ্ধাচরণ করে আসছে তারা। বর্তমান সরকার ১৪ দলের নয়, শুধু 'আওয়ামী লীগ সরকার' আখ্যা দিয়ে নানা ক্ষেত্রে সরকারের কাজের সমালোচনা ও ব্যর্থতার উল্লেখ করে আসছে দলটি। ২০১৯ সালের সেপ্টেম্বরে দলের জাতীয় কমিটির সভায় এ বিষয়ে প্রস্তাব গ্রহণ করে বাংলাদেশ জাসদ। পরপর তিনটি নির্বাচনে জোটগতভাবে নির্বাচিত বাংলাদেশ জাসদের কার্যকরী সভাপতি মইনউদ্দীন খান বাদল মারা গেলে তার আসন চট্টগ্রাম-৮-এর উপনির্বাচনে বাদলের স্ত্রী সেলিনা খান ১৪ দলের মনোনয়ন চেয়ে পাননি। ওই আসনে চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মোছলেম উদ্দিন আহমদ প্রার্থী হয়ে বিজয়ী হন। ফলে বর্তমান সংসদে বাংলাদেশ জাসদের কোনো প্রতিনিধিত্ব নেই।

২০০৮ ও ২০১৪ সালের নির্বাচনের মাধ্যমে গঠিত গত দুই মেয়াদের মহাজোট সরকারের মন্ত্রিসভায় মহাজোট শরিক জাতীয় পার্টি ছাড়াও ১৪ দলের চার শরিক ওয়ার্কার্স পার্টি, জাসদ, সাম্যবাদী দল এবং জাতীয় পার্টি-জেপির নেতাদের 'ঘুরেফিরে' অন্তর্ভুক্তি ছিল। বাকি ৯ শরিক (১৪ দল নাম হলেও জোটের বর্তমান শরিক দল ১৩টি) কখনোই সরকারের মন্ত্রিসভায় আসতে পারেনি। গণতন্ত্রী পার্টি ও ন্যাপ একদফা করে সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য পেলেও তিনটি জাতীয় নির্বাচনের কোনোটিতেই কোনো ছাড়ও পায়নি।

এই অবস্থায় ২০১৮ সালের নির্বাচনের মাধ্যমে গঠিত বর্তমান মেয়াদের সরকারে মহাজোট ও ১৪ দলের কোনো শরিকেরই ঠাঁই মেলেনি। এ নিয়ে শরিক দলগুলোর চরম ক্ষোভের মুখে নির্বাচনের পরপরই ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেননসহ খোদ ১৪ দলের কোনো কোনো শরিক দল নেতা ওই নির্বাচন নিয়ে প্রকাশ্য সমালোচনামূলক মন্তব্য করে বিতর্কের জন্ম দিয়েছিলেন। এ নিয়ে ১৪ দলে কিছুদিন চরম টানাপোড়েন চললেও পরে ১৪ দলের তৎকালীন মুখপাত্র মোহাম্মদ নাসিমের তৎপরতায় শরিক দলগুলোর 'অবস্থান' পরিবর্তন করায় সেই টানাপোড়েনের আপাত অবসানও ঘটেছিল। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে জনজীবনের সংকট বৃদ্ধি ও আওয়ামী লীগের 'একলা চলো' নীতিসহ নানা কারণে এই টানাপোড়েন আবারও শুরু হয়েছে। এসব কারণেই ১৪ দল শরিকরা একের পর এক জোট কার্যক্রমকে কার্যত 'বর্জন করার' নীতি নিয়ে অগ্রসর হচ্ছেন বলেই সংশ্নিষ্টরা জানিয়েছেন।

এ প্রসঙ্গে বাংলাদেশ জাসদের সভাপতি শরীফ নূরুল আম্বিয়া সমকালকে বলেছেন, একটা সময় ছিল দেশকে ভবিষ্যতে কোন জায়গায় নেওয়া হবে সেটার জন্য ১৪ দলের প্রয়োজন ছিল। কিন্তু এই মুহূর্তে পরিস্থিতি যেটা দাঁড়িয়েছে, ১৪ দলের এখন আর কোনো প্রয়োজন নেই। ১৪ দল এখন অতীত। তিনি জানান, এসব কারণে ১৪ দলের প্রতি আগ্রহ হারিয়ে ফেলায় প্রায় এক বছর ধরেই ১৪ দলের কোনো কার্যক্রমে অংশ নিচ্ছেন না। অদূর ভবিষ্যতে ১৪ দলের কোনো সভায় যোগদানের পরিকল্পনাও তাদের নেই।

ন্যাপের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক ইসমাইল হোসেন বলেন, ১৪ দলের বর্তমান কার্যক্রম নিয়ে তারা সন্তুষ্ট না থাকলেও তারা জোটে আছেন। তবে তারা মনে করেন, ১৪ দল কার্যক্রমের ক্ষেত্রে যে নিষ্ফ্ক্রিয়তা চলছে, তার জন্য আওয়ামী লীগের শিথিলতাই প্রধান কারণ। তিনি বলেন, এখন ১৪ দলের মিটিংগুলো কেবল আনুষ্ঠানিকতায় পৌঁছেছে। কিন্তু জনগণের সংকট নিরসন ও তাদের দাবি বাস্তবায়ন, সাম্প্রদায়িক শক্তির আস্ম্ফালন মোকাবিলায় ১৪ দলের করণীয় ও অবস্থান ইত্যাদি বিষয়ে ১৪ দলের নীতিগত কোনো কর্মসূচি ও কার্যক্রম নেই। এ কারণেই মূলত তারা ১৪ দলের সর্বশেষ দুটি মিটিংয়ে যাননি। ভবিষ্যতে ১৪ দলের এ ধরনের কার্যক্রম দেখা গেলে তারা জোটের কার্যক্রমেও সক্রিয় হবেন।

কমিউনিস্ট কেন্দ্রের আহ্বায়ক ডা. ওয়াজেদুল ইসলাম খান ও গণতান্ত্রিক মজদুর পার্টির সভাপতি জাকির হোসেন জানান, নিজেদের মধ্যে আলাপ-আলোচনার পরই ১৪ দলের কার্যক্রমে যোগদান প্রশ্নে সিদ্ধান্ত নেবেন তারা।

জোটের সাম্প্রতিক অবস্থান বিষয়ে ১৪ দলের সমন্বয়ক-মুখপাত্র আমির হোসেন আমু বলেছেন, তার দায়িত্ব পালনের গত ১৬ মাসের পুরোটা সময় দেশজুড়ে করোনার প্রাদুর্ভাব চলছে। নিয়মিত ভার্চুয়াল সভার মাধ্যমে জোটের কার্যক্রমকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন তিনি। সম্প্রতি করোনা সংকট কেটে যাওয়ায় সরাসরি ও আনুষ্ঠানিক বৈঠক করে জোটকে সক্রিয় করার কিছু সিদ্ধান্তও নিয়েছেন। তিনি আরও বলেন, 'জোটের মধ্যে কোনো সংকট নেই, সবাই ঐক্যবদ্ধ আছেন।'



মন্তব্য করুন