করোনার নতুন ধরন দরজায় কড়া নাড়ছে উল্লেখ করে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মুখপাত্র ও রোগ নিয়ন্ত্রণ শাখার পরিচালক অধ্যাপক ডা. নাজমুল ইসলাম জনসাধারণকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছেন। গতকাল স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নিয়মিত বুলেটিনে পরিচালক আরও বলেন, দেশে এখন করোনা সংক্রমণের হার ২ শতাংশের নিচে। এরপরও আত্মতুষ্টিতে ভোগার কোনো সুযোগ নেই। কারণ দরজায় বিপজ্জনক ধরন ওমিক্রন কড়া নাড়ছে। এই মুহূর্তে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে। যথাযথ স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে হবে, মাস্ক পরতে হবে। তাহলে যে কোনো ধরন মোকাবিলা করতে সক্ষম হব।

এদিকে বিভিন্ন দেশে করোনাভাইরাসের নতুন ধরন ওমিক্রনের বিস্তার নিয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক বলেছেন, দেশ ভালো আছে, নিরাপদে আছে। সুতরাং এখনই সীমান্ত বন্ধ করার মতো পরিস্থিতি হয়নি। সীমান্ত এলাকায় স্ট্ক্রিনিং ও পরীক্ষা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে।

রোববার সাভার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব হেলথ ম্যানেজমেন্ট (বিআইএইচএম) নবনির্মিত ভবন পরিদর্শন শেষে এক ব্রিফিংয়ে তিনি এসব কথা বলেন।

সরকারের গৃহীত পদক্ষেপ তুলে ধরে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ওমিক্রনের বিস্তার ঠেকাতে সব ধরনের প্রস্তুতি রয়েছে। এরই অংশ হিসেবে আন্তঃমন্ত্রণালয় সভায় বেশ কিছু সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সে অনুযায়ী বেশ কয়েকটির কার্যক্রমও শুরু হয়েছে। আফ্রিকা ও ওমিক্রন সংক্রমিত অন্যান্য দেশ থেকে আগতদের ৪৮ ঘণ্টা আগে আরটিপিসিআর টেস্ট করে আসতে হবে। একই সঙ্গে ১৪ দিন নিজস্ব ব্যয়ে হোটেলে কোয়ারেন্টাইনে থাকবে হবে। এরপর পরীক্ষা করে নেগেটিভ হলে বাসাবাড়ি অথবা গন্তব্যে যাওয়ার সুযোগ মিলবে।

জাহিদ মালেক বলেন, ঢাকায় যেসব হাসপাতালে আগে কভিড-১৯ চিকিৎসা হয়েছে, সেগুলো প্রস্তুত রাখা হয়েছে। এর বাইরে বিমানবন্দরে স্ট্ক্রিনিং ব্যবস্থা জোরালো করা হয়েছে। ল্যাবের পরিধিও বাড়ানো হয়েছে। নতুন করে আট হাজারের বেশি নার্স ও চার হাজারের বেশি চিকিৎসক নিয়োগ পেয়েছে। এতে চিকিৎসা ব্যবস্থা আরও জোরালো হবে।

ওমিক্রন সংক্রমিত দেশ থেকে না আসার আহ্বান জানিয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, বিদেশ থেকে যারা দেশে আসবেন তাদেরও দায়িত্ব আছে। সংক্রমিত দেশ থেকে এখন না এলেই ভালো হবে।

অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী ডা. এনামুর রহমান, স্বাস্থ্য সেবা বিভাগের সচিব লোকমান হোসেন মিয়া, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. এবিএম খুরশীদ আলম, অতিরিক্ত মহাপরিচালক (পরিকল্পনা ও উন্নয়ন) অধ্যাপক ডা. মীরজাদি সেব্রিনা ফ্লোরাসহ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

মন্তব্য করুন