ভোলার চরফ্যাসন উপকূলের সাগর মোহনায় ট্রলিং জাহাজের (মাছ ধরার স্টিলের জাহাজ) ধাক্কায় মাছ ধরা একটি ট্রলার ডুবে গেছে। এতে নিখোঁজ রয়েছেন ২০ জেলে। রোববার রাতে উপজেলার ঢালচর থেকে প্রায় ৪৭ কিলোমিটার দক্ষিণে উত্তাল মেঘনায় ২১ জেলেকে নিয়ে ডুবে যায় আবদুল্লাহপুর ইউনিয়নের কামাল খন্দকারের মালিকানাধীন ট্রলার 'মা শামসুন্নাহার'। উত্তাল ঢেউ ও খরস্রোতের কারণে নদীতে অন্য ট্রলারে থাকা জেলেরা তাৎক্ষণিক ডুবে যাওয়া ট্রলার ও জেলেদের উদ্ধারে ব্যর্থ হন।

তবে গতকাল সোমবার বিকেলে হাফিজ আহমেদ নামে এক জেলেকে উদ্ধার করা সম্ভব হয়। ভাসমান অবস্থায় মহিপুর ঘাটের অন্য এক ট্রলারের জেলেরা তাকে উদ্ধার করেন। ডুবে যাওয়া ট্রলারের মাঝি বাচ্চুসহ ২০ জেলে এখনও নিখোঁজ বলে উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা মারুফ হোসেন মিনার জানিয়েছেন। ট্রলারটির খোঁজ মেলেনি।

প্রত্যক্ষদর্শী জেলেদের বরাত দিয়ে ট্রলার মালিক কামাল খন্দকার জানান, ট্রলারটি ২১ জন মাঝি-মাল্লা নিয়ে মেঘনায় মাছ শিকারে যায়। রোববার রাতে ঢালচরের দক্ষিণে নদীতে জাল ফেলে অপেক্ষায় ছিল তারা। এ সময় বিপরীত দিক থেকে আসা একটি ট্রলিং জাহাজ ট্রলারকে ধাক্কা দেয়। এতে মুহূর্তেই ২১ জেলেসহ ট্রলারটি উত্তাল মেঘনায় ডুবে যায়। নিখোঁজ জেলেদের মধ্যে হাফিজ আহমেদকে অপর একটি ট্রলারের জেলেরা সোমবার বিকেলে ভাসমান দেখতে পেয়ে উদ্ধার করেন।

নিখোঁজ জেলেদের মধ্যে ট্রলারের মাঝি মো. বাচ্চু, আল আমিন, ফারুক, জাবেদ, খালেক, ইউসুব, জসিম, রফিক, মাসুদসহ ৯ জনের নাম জানা গেছে। নিখোঁজ সবার বাড়ি চরফ্যাসন উপজেলায়।

মৎস্য কর্মকর্তা মারুফ হোসেন মিনার জানান, ট্রলারডুবির খবর পেয়ে উদ্ধার অভিযানের জন্য কোস্টগার্ডকে জানানো হয়েছে।

চরমানিকা জোনের কোস্টগার্ড কন্টিনজেন্ট কমান্ডার হারুন অর রশিদ জানান, মেঘনায় ট্রলারডুবির খবর পেয়েছি। দুর্ঘটনাস্থলের অবস্থান নিশ্চিত করাসহ উদ্ধার অভিযান অব্যাহত রয়েছে।







মন্তব্য করুন